সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Nov. 11, 2020, 10:51 p.m.

গুজবে কান দিবেন না: দুর্গাসাগরে সেতুর পরিকল্পনা নেই
গুজবে কান দিবেন না: দুর্গাসাগরে সেতুর পরিকল্পনা নেই
বরিশালের দুর্গাসাগর দীঘি। - ছবি: গুগল।

পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে বরিশালের দুর্গাসাগর দীঘির সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ চলছে। দুর্গাসাগর  উন্নয়ন প্রকল্পে কোন সেতু নেই। পরিবেশগত দিক ঠিক রেখেই উন্নয়ন কাজ চলছে। পরিবেশ বিপর্য ঘটতে পারে এমন কেন কাজ হচ্ছে না। এসব বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার সন্ধ্যায় নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এমন আহ্বান জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। 

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি দুর্গাসাগরের মাঝখানের দ্বীপটির পরিবর্তন না করার দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে তীর থেকে দ্বীপে যাওয়ার জন্য সেতু নির্মাণের বিরোধীতা করেছেন তারা। পরিবেশের ক্ষতি সাধন না করে দুর্গাসাগরের সৌন্দর্য বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

দুর্গাসাগরের উন্নয়ন কাজ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশকিছু মন্তব্য দেখা গেছে। ওইসব মন্তব্যের মধ্যে দুর্গাসাগরের মাঝখানের দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। প্রকৃতি থেকে সৃষ্ট গাছ ও বন কেটে ফেলা হয়েছে। সেখানে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করা হবে। হোটেল নির্মাণ হবে। এমন এমন নানা মন্তব্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ওইসব মন্তব্য দেখে প্রশাসন হতবাক হয়েছে। তারা দাবি করেন, কোন কোন মহল না জেনে শুনে মন্তব্য করছে। তারা দুর্গাসাগর এলাকায় না গিয়ে অনেকটা শুনে মন্তব্য করায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্গাসাগর প্রকল্পের মধ্যে সেতু নেই। তবে এলজিইডিকে অনুরোধ করা হয়েছিল তীরের সঙ্গে দ্বীপ পর্যন্ত একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করার। সেটা নিয়ে ভিন্ন পরামর্শ থাকতেই পারে। কিন্তু ওখানে কোন রেস্টুরেন্ট হবে এমন তথ্য সঠিক নয়। এসব বিভ্রান্তি দূর করতেই গতকাল ওই মতবিনিময় সভা করেছে জেলা প্রশাসন।

জানা যায়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ দুর্গাসাগরের সৌন্দর্যবর্ধণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্প বাস্তাবয়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ। জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্তাবধান করছে। ওই প্রকল্পের মধ্যে দুর্গাসাগর এলাকায় মিশ্রামাগার নির্মাণ, সৌচাগার নির্মাণ। পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা করা, ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপন, তোরণ নির্মাণ, হাঁটার বিকল্প সড়ক নির্মাণসহ বেশকিছু কাজ করা হবে। তবে ওই প্রকল্পের মধ্যে দ্বীপের সঙ্গে তীরের সংযোগ সেতু নির্মাণ উল্লেখ নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেই কাজ করা হবে।

নগর সৌন্দর্য রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, আমরা শুনেছিলাম দুর্গাসাগরের মাঝখানের দ্বীপে যাওয়ার জন্য সেতু নির্মাণ করা হবে। যা পরিবেশ সম্মত নয়। ওটা একটা প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে আছে। একই সঙ্গে দুর্গাসাগরের উন্নয়নের অংশ হিসেবে পরিবেশ বিপর্য ঘটানো হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক আমাদের সঙ্গে মতবিবিনিময় করেছেন। সভায় আমরা দুর্গাসাগরের পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে উন্নয়ক কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছি। জেলা প্রশাসক আমাদের আশ^স্ত করেছেন ওখানে কোন সেতু নির্মাণ হবে না। তিনি পরিবেশসম্মত উন্নয়ন কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ করে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে নাগরিক পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বরিশালের সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, দুর্গাসাগরে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আমরা অবহিত ছিলাম না। গতকাল জেলা প্রশাসক ওই প্রকল্প সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন। আমরা আশ^স্ত হয়েছি ওখানে পরিবেশসম্মত উন্নয়ন হচ্ছে। প্রকৃতিকে সুরক্ষা করেই দুর্গাসাগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হচ্ছে। আমরা এই প্রকল্পের সফলতা কামনা করছি। পরবর্তীতেও যেন এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্ট করে কোন প্রকল্প নেওয়া না হয়, সেব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছি।

জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, দুর্গাসাগরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক রেখেই উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পাখির অভায়াশ্রম গড়ে তুলতে গাছে গাছে কলসি বেধে দেওয়া হয়েছ। নতুন করে পরিবেশবান্ধব গাছ রোপন করা হয়েছে। পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে প্রায় ১০ বছর পর অতিথি পাখি আসা শুরু করেছে। দিঘির পানিতে পাখির খাবারের জন্য শামুখ ফেলা হয়েছে। পুকুরে পাতি হাস, রাজহাস ছাড়া হয়েছে। পদ্ম এবং শাপলা লাগানো হয়েছে। তাতে ওখানের পরিবেশ আরো সুন্দ হয়েছে। দুর্গাসগরকে কেন্দ্র করে আরো বৃহৎ প্রকল্প নেওয়া হবে। সব প্রকল্পই পরিবেশবান্ধব হবে।