শনিবার, ২৮ নভেম্বার ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Nov. 16, 2020, 12:27 a.m.

করোনা দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় আরো সতর্ক থাকতে হবে
করোনা দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় আরো সতর্ক থাকতে হবে
খবর প্রতীকী। - ছবি: সুকান্ত অপি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর। চিনের উহান শহর কেঁপে ওঠে। কোভিড-১৯ নামের ওই ঝড় ডিসেম্বরের পর ছড়িয়ে পড়তে থাকে গোটা দুনিয়ায়। মার্চ ২০২০-এ কোভিড-১৯ (করোনা) ভাইরাস আঘাত হানতে শুরু করে বাংলাদেশে। এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম হন্তারকের নাম হচ্ছে কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস। উন্নত বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তির ফলাকে অকেজো করে দিয়ে দাবরে বেড়াচ্ছে করোনা। তবে উন্নত দেশর মৃত্যুর মিছিল আমাদের চেতনাকে কোনভাবেই নাড়া দিতে পাড়ছে না। গত এপ্রিল-মে মাসে বাংলাদেশেও মৃত্যুর মিছিল বাড়তে থাকে। বাড়ে আক্রান্তের সংখ্যাও। আগস্টের পর করোনায় দেশে ভীতিকর অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। তবে এজন্য আত্মতুষ্টির কোন কারণ নেই। আসছে শীতে করোনার মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে আমন আভাস বিশ্ব স্থাস্থ্য সংস্থার। তারা এটাকে করোনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই করোনার এই দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় আমাদের বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। তা না হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

করোনা ছড়িয়ে পড়লে করোনা আক্রান্ত রোগীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। করোনা শুনলে সেই এলকায় কেউ যেতে সাহস পর্যন্ত করেনি। নিজে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ভীত ছিল গোটা দেশ। কোথাও আমরা যেন নিরাপদ নয়। দিন-রাত কেবল মৃত্যুপথযাত্রীদের অনুসরণ করা ছাড়া আর কোন গন্তব্য জানা ছিল না। তারপরও নাম না জানা হন্তারক করোনা থেকে মুক্তির পথ খুঁজে ফিরছে মানুষ। চিকিৎসা বিজ্ঞানসহ সর্বত্র চলছে করোনা মহামারী জয়ের নিরন্তর চেষ্টা। সেই চেষ্টা কবে নাগাদ আমাদের আশার আলো দেখাবে সেটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। যতোদিন পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা সবার দোরগোড়ায় না পৌঁছাবে ততোদিন সতর্কতা এবং সতর্কতা ছাড়া আর কোন পথ নেই।

করোনা বিশ্বের নিদারুণ, নির্দয় ও নির্মম এক ভাইরাসের নাম। যে ভাইরাস আমাদের আত্মার সম্পর্কগুলো ছিন্ন করে দিয়েছিল। আমরা দেখছি মৃত্যুর মিছিল। কখনো স্বজনের আহাজারী। আবার কখনো লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার মতো নির্মম ঘটনা। করোনার বিরুদ্ধে নিরন্তর প্রতিরোধের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিচ্ছে। ক্ষণে ক্ষণে রূপ পরিবর্তন করে করোনা আমাদের অক্টোপাসের মতো জাপটে ধরে ছিল। যদিও উন্নয় দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ভয়বহতা অনেকাংশে কম। তারপরও করোনার ভয়াল ছোঁবল থেকে আমরা কোনভাবেই বের হতে পারছি না। এতা ভয়াবহতার পরও আমরা সচেতন হতে পারছি কই? এখনো মাস্কবিহীন চলাফেরা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। শহরের কিছু এলাকায় মানুষ মাস্ক পড়লেও বেশিরভাগ মানুষ মাস্তবিহীন চলাচল করছে। রাস্তাঘাট, বাজারের অহেতুক মানুষের ভীড় বন্ধ হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা নেই বললেই চলে। এটা আমাদের দেশের জন্য ভয়াবহ অবস্থার কারণ হতে পারে।

করোনা হবে না এমন আত্মতুষ্টি আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। তাই, সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে কমপক্ষে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় এটা একান্ত জরুরী। হিংসা, অহংকার ভুলে আমাদের একযোগে করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় কাজ করা দরকার। দ্বিতীয় দফার এই ঝড় মোকাবেলা করতে পারলে অবশ্যই আমরা নিরাপদ অবস্থানে দাঁড়াতে সক্ষম হবো। 

করোনার এই ঝড়ের প্রাদুর্ভাব জানলেও ঝড় থেকে মুক্তির পথ এখনো হাতের নাগালে আসেনি। এখান থেকে উত্তোরণের চেষ্টা চলছে নিরন্তর। এই চেষ্টার কারিগররা দিন-রাত শারীরিক ও মানসিকভাবে করোনার ঝড় মোকাবেলায় কাজ করছেন। চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি জেনেও তারা অন্য সবার মঙ্গল কামনায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনই নয়, তারা দায়বোধ থেকেও এই ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। তাদের পাশে আমাদের একজন হয়ে দাঁড়ানো জরুরী।

আসুন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে করোনার এই যুদ্ধ মোকাবেলায় যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করি। নিজের দায় অন্যের ওপর না চাপিয়ে, নিজের কাজটি নিজে করি। মৃত্যুকে পাত্তা না দিয়ে সচেতন ও সতর্কতার সঙ্গে মানুষকে পাত্তা দেই।