সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

Nov. 24, 2020, 11:13 p.m.

সাকিব হারিয়ে দিল বরিশালকে
সাকিব হারিয়ে দিল বরিশালকে
ভোরের আলো। - ছবি:


৪০৮ দিন পর মাঠে ফিরেই জয়ের স্বাদ পেলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে আজ (মঙ্গলবার) তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ৪ উইকেটে জিতেছে মাহমুদউল্লাহরা। আরিফুল হকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে ১৫৩ রানের লক্ষ্য টপকে গেছে খুলনা।

শেষ ওভারে জিততে খুলনার দরকার ছিল ২২ রান। কঠিন এই সমীকরণ ছক্কার বৃষ্টি ঝরিয়ে ‍মিলিয়ে দেন আরিফুল। শেষ ওভারে ৪ ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর ঝড় বইয়ে দিয়ে এক বল আগেই অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিয়েছেন তিনি খুলনাকে। প্রথম দুই বলে ছক্কা মারার পর তৃতীয় বল যায় ডট, এরপর আবারও টানা দুই ছয়ে আরিফুল নিশ্চিত করেন দলের জয়।


মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে খুলনা-বরিশালের ম্যাচটি অন্য একটি কারণে ছিল আকর্ষণীয়। এই ম্যাচ দিয়েই মাঠের ক্রিকেটে ফিরলেন সাকিব। একবছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা এই অলরাউন্ডারের প্রত্যাবর্তন ‘মঞ্চ’টি আলোকিত করলেন আরিফুল। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৪ ‍বলে হার না মানা ৪৮ রানের ইনিংসে জটিল সমীকরণ মিলিয়ে জয়ের আনন্দে মাতিয়েছেন তিনি খুলনাকে। তাতে বরিশালের ৯ উইকেটে করা ১৫২ রান ৬ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় মাহমুদউল্লাহরা।

সাকিব-মাহমুদউল্লাহ-ইমরুল-এনামুল-শফিউল-আল আমিনদের নিয়ে কাগজে-কলমে অভিজ্ঞ দল গড়েছে খুলনা। মাঠের লড়াইয়েও দেখা গেল তার ছাপ। যদিও খুলনার টপ অর্ডার পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৫৩ রান খুব কঠিন লক্ষ্য না হলেও শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে হারের শঙ্কা জেগেছিল খুলনার। বরিশালের পেসার তাসকিন আহমেদের গতির সামনে দাঁড়াতেই পারেননি দুই ওপেনার এনামুল হক (৪) ও ইমরুল কায়েস (০)। প্রথম ওভারে ফিরে যান তারা।

তৃতীয় উইকেটে দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা সাকিবকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। যদিও মাত্র ২৮ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন খুলনা অধিনায়ক। অফস্পিনার মিরাজের বলে লং অনে পারভেজ হোসেন ইমনের তালুবন্দী হন মাহমুদউল্লাহ। সঙ্গী হারানোর ৪ বল পর ফিরে যান সাকিবও। বল হাতে ১ উইকেট নেওয়া সাকিব ব্যাট হাতে খেলেছেন ১৫ রানের ইনিংস। ১৩ বলে ২ চারে তিনি সাজিয়েছেন তার প্রত্যাবর্তন ইনিংসটি।

দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে হারিয়ে বিপদ আরও বাড়ে খুলনার। তবে জহুরুল ইসলাম ও আরিফুল মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তাতে সফল এই জুটি। যদিও জহুরুল ২৬ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন। তবে শুরুতে মন্থর ব্যাটিং করা আরিফুল শেষ ওভারে দেখিয়েছেন ম্যাজিক।

শেষ ওভারে খুলনার প্রয়োজন ছিল ২২ রান। বোলিং প্রান্তে আগের তিন ওভারে মাত্র ১২ রান দেওয়া মিরাজ। পুরো ইনিংস জুড়ে স্লো ব্যাটিং করা আরিফুল যেন মিরাজের অপেক্ষাতেই ছিলেন! প্রথম বলেই লং অন দিয়ে ছক্কা হাঁকালেন। এতেই বোধহয় ঘাবড়ে গেলেন মিরাজ। পরের বলে একই শটে আবারও বড় ছক্কা। তৃতীয় বলটি সিঙ্গেল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নেননি আত্মবিশ্বাসী আরিফুল। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে আবারও মিড উইকেট দিয়ে দুই ছক্কায় ১ বল হাতে রেখে জয় তুলে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংস খেলে বরিশাল বধের নায়ক তিনিই।

আরিফুলকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের অলরাউন্ডার শামীম হোসেন। ১৮ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় শামীম করেন ২৬। খুলনার জয়ের পেছনে এক ছক্কায় শহিদুলের ৮ রানের ইনিংসের গুরুত্বও কম নয়।

বরিশালের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল পেসার সুমন খান। ২১ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাসকিন ৩৩ রানে ২টি এবং মিরাজ ও কামরুল ইসলাম একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করা বরিশাল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে করে ১৫২। দলের স্কোর সমৃদ্ধ করতে সবচেয়ে বড় অবদান ইমনের। সর্বোচ্চ ৫১ রান আসে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে। ৪২ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন। যদিও খুলনার মতো বরিশালের শুরুটাও ভালো ছিল না। বরিশাল অধিনায়ক তামিম বাজি ধরেছিলেন মিরাজকে ওপেনিং পাঠিয়ে। সেই বাজিতে অবশ্য জিততে পারেননি তামিম। রানের খাতা না খুলেই মিরাজ ফিরে যান সাজঘরে। অধিনায়ক তামিমও ভালো করতে পারেননি, আউট হয়েছেন ১৫ বলে ১৫ রান করে।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর চতুর্থ উইকেটে যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের দুই সতীর্থ ইমন ও তৌহিদ হৃদয় মিলে ছোট কিন্তু কার্যকরী ৩২ রানের জুটি গড়েন। তাতে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দিলেও স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ হয়নি। তৌহিদ ২৫ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া মাহিদুল ইসলাম ২১ ও তাসিকনের অপরাজিত ১২ রানের ঝড়ো ইনিংসে বরিশালের স্কোর দেড়শ পেরোয়।

খুলনার সবচেয়ে সফল বোলার শহিদুল। ১৭ রান খরচায় তার শিকার ৪ উইকেট। এছাড়া শফিউল ২৭ রানে ২ উইকেট ও হাসান মাহমুদ ৪৫ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। আর সাকিব ১৮ রান খরচায় পেয়েছেন ১ উইকেট।