বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Nov. 26, 2020, 11:22 p.m.

খেলার মাঠ রাজনীতির উর্ধ্বে থাকুক
খেলার মাঠ রাজনীতির উর্ধ্বে থাকুক
ভোরের আলো। - ছবি:

খেলাধূলা মানুষের জীনকে সুন্দর করে। সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে খেলার বিকল্প নেই। শিশু বয়স থেকে খেলাধূলার প্রতি আকৃষ্ট করতে পারলে প্রিয় সন্তান নেতিবাচক কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে না। যুবসমাজকে নেতিবাচক কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে খেলাধূলা। ব্যক্তিগত খেলা থেকেই গড়ে ওঠে ক্লাব। বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলতে খেলতে খেলোয়াড়রা হয়ে ওঠে দেশের। পরে তারা বিশ^ খেলোয়ার হয়ে ওঠেন। আমাদের মাশরাফি, মুশফিক, তামিম, সাকিবরা এক একজন বাংলাদেশ। ওরা বিশে^র দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদাকে উন্নত করে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিশ^ ক্রিকেটে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে ফুটবল ও এশিয়ান গেমসেও বাংলাদেশ উন্নতি করছে। কিন্তু অনেক সময় রাজনীতির বাদবিচারে খেলোয়াড়ও জড়িয়ে পড়েন। খেলার মাঠে রাজনীতি আমাদের খেলোয়াড়দের বিপাকে ফেলে। রাজনীতির চিন্তা দিয়ে খেলোয়াড় যাচাইবাছাই করা হলে তার প্রভাব মাঠে পড়তে বাধ্য। বিশেষ করে উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় খেলার মাঠের রাজনীতি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। খেলার মাঠ রাজনীতির উর্ধ্বে রাখতে পারলে আগামীতে আমাদের খেলোয়াড়রা আরো উজার করে দিতে পারবে।

বরিশালে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের কোন খেলা এই মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বললেই চলে। অথচ খুলনা, রাজশাহীসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে একই মানের স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেবল সংর্কীর্ণ চিন্তার কারণে বরিশালের খেলাধূলার মান বাড়ছে না। বরিশালের তরুনরা ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় পারদর্শী হলেও যাচাই-বাছাইরে সময় বাদ পড়ে যায়। এখানে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা সব সময় দলীয় চিন্তা থেকে লালন করা হয়। বিএনপির সময় বিএনপি নেতারা এবং আওয়ামী লীগের সময় আওয়ামী লীগ নেতারা এর দায়িত্ব পালন করছেন। এসব কারণে সত্যিকার ক্রীড়াপ্রেমীরা এখান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। রাজনীতির চিন্তা থেকে খেলার মাঠকে মুক্ত করতে না পারলে আমরা ধারাবাহিকভাবে খেলোয়াড় পাবো না। মুক্তিযুদ্ধকে লালন করে না এমন খেলোয়াড় ব্যতীত অন্যদের বিকাশে রাজনীতির উর্ধ্বে থাকতে হবে। 

গত কয়েক বছর আগে বিপিএলএ বরিশাল বুলস ব্যাপক সাড়া জাগালেও শেষ পর্যন্ত আর তা স্থায়ী হয়নি। ওই সময় বরিশালের কিশোর-যুবকরা আশান্বিত হয়ে উদ্যোক্তাদের সাদুবাদ জানিয়েছিল। তখন বিপিএল’এ সাড়া জাগিয়েছিল বরিশাল। বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর উদ্যোগেই সেটা সম্ভব হয়েছিল। পরে বরিশাল বুলস বিপিএল থেকে ছিটকে পড়লে হতাশ হয় বরিশাল।

এবার বঙ্গবন্ধু টি টোয়েন্টি ক্রিকেট কাপ শুরু হয়েছে। এই আসরে আবার বরিশাল স্থান করে নিয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান ফরচুন বরিশালের পাশে থেকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এবারের আসরে তাই ফরচুন-বরিশাল নামে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় দলের তুখোড় খেলোয়ার তামিম ইকবাল। আছেন তাসকিনসহ আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়রা। এই আসরে বরিশালের নামে দল থাকায় তরুন ও যুবকরা উৎসাহী হয়ে ওঠে। কিন্তু রাজনীতির সংকীর্ণ চিন্তা আমাদের বিপাকে ফেলে দেয়। 

গত কয়েক দিন আগে বরিশাল দলের পৃষ্ঠপোষক ফরচুনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সোনার গাঁ হোটেলে আয়োজিত লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে এককেন্দ্রীক বক্তব্য দিয়ে বিপাকে ফেলেছে বরিশালের ক্রীড়ামোদীদের। গণমাধ্যমে দেওয়া তার বক্তব্যে প্রথমাংশে কৃপণতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য আরো উদার হওয়া উচিত ছিল। বরিশাল বললে বরিশাল মহানগরকে বাদ দেওয়া যায় না। বরিশাল সিটি করপোরেশনকে বাদ দিয়ে বরিশাল ভাবলে সেটা কৃপনতার-ই পরিচয় দেয়। বরিশালবাসী আশা করেছিল বরিশাল সিটি করপোরেশন, বরিশাল জেলা এবং বরিশাল বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদিরে সহযোগিতা নিয়েই পূর্ণতা পারে ফরচুন-বরিশাল। কিন্তু সেখানে সংকীর্ণ চিন্তার বহিঃপ্রকাশের শিকার হয়েছে তরুণ-যুবকরা। একই ঘরানার রাজনীতির মানুষ মাঝখানে প্রাচীর তুলে দিতে চাইলে তার আঁচ সবার গায়ে লাগে। সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে ফরচুন-বরিশাল সামনের দিকে এগিয়ে চললে চলার পথ সুগম হবে।

বরিশালে যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাদের কাছে অনুরোধ বঙ্গবন্ধু টি টোয়েন্টি ক্রিকেট কাপ নিয়ে ভাবুন। সুযোগ এসেছে বরিশালকে মেলে ধরবার। সংকীর্ণ চিন্তা যেন সেই মহান উদ্যোগে কালিমা লিপে না দেয়। বরিশাল বুলস-এর সব খেলা সিটি করপোরেশনের বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পেয়েছিল বরিশালের খেলোয়াড়, তরুন-যুবক ও সাধারণ মানুষ। সেই সুযোগ যেন এবারও পায়। দ্রুত সেই উদ্যোগ গ্রহণ করুক বরিশাল সিটি করপোরেশন। কে দল নিল, তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে দলটি বরিশালের। আমাদের রাজনীতির দল-মত নির্বিশেষে এই দলকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে। এব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র উদ্যোগী ভূমিকা নিলে সেটা হবে অনুকরণীয় এবং অনন্য উদাহরণ। সেই উদারণ সৃষ্টি হলে আমরা সবাই উপকৃত হবে। আমাদের তরুন ও যুবকরা খেলার প্রতি আরো আগ্রহী হবে।