সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

অনলাইন ডেস্ক

Nov. 28, 2020, 12:38 p.m.

সন্দ্বীপ চ্যানেলে সমুদ্রবন্দর স্থাপনের প্রস্তাব
সন্দ্বীপ চ্যানেলে সমুদ্রবন্দর স্থাপনের প্রস্তাব
ওবায়দুল কাদের - ছবি:

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা উপকূলবর্তী সন্দ্বীপ চ্যানেলের আওতাভুক্ত এলাকায় সমুদ্রবন্দর স্থাপনের জন্য আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

চিঠিতে জনস্বার্থে বঙ্গোপসাগর থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেল দিয়ে কোম্পানীগঞ্জ-সোনাগাজী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছাকাছি সমুদ্রবন্দর নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা চান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

নৌ-পরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সেতুমন্ত্রী নৌ-প্রতিমন্ত্রী বরাবর একটা ডিও লেটার দিয়েছেন। এটার বিস্তারিত আমরা বলতে পারছি না। তবে ওই অঞ্চলে সমুদ্রবন্দর হওয়া উচিত বলে তারা মনে করছেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে। আমরা বিষয়টি প্রসেস করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে।

বিআইডব্লিউটিএর নদী জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেল দিয়ে কোম্পানীগঞ্জ-সোনাগাজীর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাছে নদী দেড় হাজার মিটার থেকে ২ হাজার ৩০০ মিটার প্রস্থ, এখানে গভীরতা ৭-৮-১০-১২ মিটার। শীতকালে কোথাও কোথাও ১৪ মিটার পানি থাকে। এখানে নদী চওড়া হওয়ায় ৫০০-৬০০ মিটার লম্বা দুটি জাহাজ পাশাপাশি অনায়াসেই চলাচল করতে পারবে এবং প্রতি বছর নদী ড্রেজিংও করতে হবে না।

বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি সমুদ্রবন্দর রয়েছে। এর মধ্যে বড় দুটি সমুদ্রবন্দর হলো চট্টগ্রাম ও মোংলা। সর্বশেষ পটুয়াখালীতে চালু হয়েছে পায়রা বন্দর। এছাড়া কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সোনাদিয়ায় আরেকটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা  বলছেন, ফেনী লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্প-কারখানা নির্মাণ করেছেন। কিন্তু ওই অঞ্চলে এখনও তেমন শিল্পায়ন হয়নি। তবে বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’পাশে নতুন করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এরই মধ্যে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এছাড়া জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

তারা বলেছেন,  বৃহত্তর নোয়াখালীর ফেনী লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী নিয়ে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে নতুন করে শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। ব্রিটিশ আমলেও এ অঞ্চলে বামনী সমুদ্রবন্দর চালু ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেছে।

এছাড়া এখানে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। সোনাগাজী-কোম্পানীগঞ্জে নতুন করে সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হলে বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লার বাসিন্দারা সুফল পাবেন। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে মালামাল পরিবহনের সময়ও কমে যাবে। ফলে এ অঞ্চলের শিল্পায়নও নতুন করে গতি পাবে।


ভোরের আলো/ভিঅ/২৭/২০২০