সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Dec. 31, 2020, 11:28 p.m.

একুশের নতুন আশা
একুশের নতুন আশা
খবর প্রতীকী। - ছবি:

বিষে না কি বিষক্ষয় হয়। জানি না কথাটা কে বলেছিলেন। তবে বিশে, করোনা বিষের দংশন গোটা দুনিয়াকে বিষময় করে দিয়েছে। বলছি ২০২০ সালের কথা। করোনা মহামারী পুরো বছর জুড়ে ছিল স্বজন হারানোর ব্যাথার মালায় গাঁথা। কর্মহীন হয়ে পরা মানুষের দু:খ-কষ্টের বছর ছিল ২০২০। আবার করোনাকে পূঁজি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার জনিরও দেখেছি ২০২০ সালে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নতুন করে আমাদের ভাবিয়েছে। আবার এটাও সত্য এই মহামারীর মধ্যেই নানান নতুন উদ্যোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনলাইনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে যার যার অবস্থান থেকে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেও সবাই কাছেই ছিল ডিজিটাল সেবার কারণে। শত প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে চলে চলে আমরা আগামীর এক নতুন সুর্যের অপেক্ষা করছি। যে সূর্য আমাদের সকল দু:খ-কষ্টকে মুছে দিয়ে সুন্দর পৃথিবীর দিকে নিয়ে যাবে। তাই ব্যাথা, কষ্ট, বাধাকে পেছনে ফেলে ২০২১ সালকে স্বাগত জানাতেই হয়। নতুন বছরে বাংলাদেশসহ গোটা পৃথিবীর মানুষের জন্য আমাদের শুভকামনা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি আমাদের হাতছানি দিচ্ছে। নতুন বছরের সঙ্গে সুবর্ণ জয়ন্তির আগাম শুভেচ্ছাও থাকলো আমাদের পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও বিক্রয় প্রতিনিধি, সহকর্মী এবং সুভানুধ্যায়ীদের জন্য।

বিশে বিষময় ২০২০ সাল যেমন আমাদের নি:স্ব করে দিয়েছে। আবার এই ২০২০ সাল আমাদের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে। দূরের মানুষ কাছে থেকেছে ডিজিটাল সেবার সুযোগ নিয়ে। এতো এতা মৃত্যুর মিছিলের মধ্যেই আবার আশার আলো দেখা দিয়েছে। করোনায় বাংলাদেশ অনেকটাই সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করে চলেছে। নিজস্ব সামর্থ দিয়েই মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়িয়েছে। গোটা দুনিয়ায় এতো বড় দুর্যোগের মধ্যেও বাংলাদেশ উন্নয়নের পথেই ছিল। আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে পদ্মা সেতুর সবকটি স্প্যান বসানো শেষ করেছে ২০২০ সালে। আমাদের পায়রা বন্দর,  আমদের মেট্রোরেলসহ অনেক মেঘা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের ৫০ ছুঁয়েছে। ২০২১ সাল আমরা পালন করবো আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি। সেদিক থেকেও আমরা নতুন স্বপ্ন নিয়ে একুশ সালে পদার্পন করছি। এটা আমাদের নিঃসন্দেহ নতুন কর্মোস্পৃহা জাগাবে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সত্যিকার সোনার বাংলা হয়ে উঠতে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।

গত একটি বছর আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে অনেক ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে চলতে হয়েছে। আমাদের চিরায়াত ঐতিহ্যের ওপর আঘাত এসেছে এই সময়ে। ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের ভ্রান্ত ফতোয়ায় নতুন করে ভাস্কর্য ভাঙার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। যার অংশ হিসেবে জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙারও সাহস দেখিয়েছে ওই চক্র। এদের কারণে আমাদের পাঠ্য বইয়ে পরিবর্তন এসেছে। তারপরও আমরা থেমে থাকিনি। অসুভ শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বাংলাদেশ। এতোসব নেতিবাচক বিষয়কে পেছনে ফেলে আমরা নতুনকে আলিঙ্গন করতে সব সময় প্রস্তুতি নিয়ে চলেছি। তার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ নতুন এবং আগামীর পথে চলতে চায়। আধুনিক এবং বিজ্ঞানমনষ্ক পথে চলতে চায়। তাই নতুনের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে থাকতে পারে না বাংলাদেশ। পুরানো স্মৃতি মুছে দিয়ে সুন্দরকে আলিঙ্গন করার নাম-ই তো নতুন। নতুন মানে অন্ধকার দূর করে আলোর পথে চলা। নুতন মানে সম্ভাবনা। নতুন মানে রঙিন ও উজ্জলের আহ্বান। নতুন মানে আগামীর পথ নির্মাণ করা। সেই নতুনের আহ্বান জানাচ্ছে ইংরেজি নতুন বছর ২০২১। সঙ্গে আমাদের মর্যাদার অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তি।

আজকের নতুন সূর্য আমাদের পেছনে ফেলে আসা সকল জঞ্জাল দূর করে দিক। নির্মল এবং সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে আমাদের অনুপ্রেরণা দেবে এটা বিশ্বাস করি। ধর্মান্ধতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে বাস্তবতার বিচারে নিজে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। নতুন বছরে আমরা সকল অমঙ্গলকে দূরে রেখে মঙ্গল ও কল্যাণের পথে হাঁটবো। একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাই একযোগো কাজ করবো। সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত হবার চেষ্টা করবো। আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবো। ইভটিজিং, মাদক, বাল্য বিবাহ, হত্যা, ধর্ষণ ও দুর্নীতি মুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে আত্মপ্রত্যয়ী হবো। 

২০২০ সালের ১ জানুয়ারিও সুন্দর এক সকালে আমরা যাত্রা করেছিলাম। নতুন সূর্যকে স্বাগত জানিয়ে পথ চলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু পথিমধ্যে করোনা আমাদের সেই পথ চলাকে কঠিন করে দিয়েছে। তারপরও ৩৬৬ দিনের নানা ঘটনা আমাদের আন্দোলিত করেছে। বেশিরভাগ সময় আমাদের হতাশার তিমিরে ডুবিয়ে রেখেছিল। এরই মধ্যে কখনো আশার সঞ্চার করেছে, আবার কখনো হতাশা এবং কখনো সম্ভাবনাও জাগিয়েছে। সেই পুরানো স্মৃতি নিয়েই আমরা সামনে যাবো। বছর ঘুরে আবার আরেক নতুন সূর্য আমাদের আহ্বান জানাচ্ছে। এই আহ্বান যেন কোন অশুভ শক্তি ম্লান করতে না পারে। কোন হতাশার চাদর আমাদের যেন আচ্ছন্ন করতে না পারে। সেজন্য আপনি, আমি এবং আমরা সবাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবো।

২০২১ সাল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা। আমরা পালন করবো আমাদের অর্জনের ৫০ বছর। যে আলোকিত সূর্য আমাদের আহ্বান জানাচ্ছে সেই আহ্বানে সাড়া দেই। দেশের সঙ্গে থাকুন, দেশকে ভালোবাসুন, লাল সবুজের পতাকার মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এমন কোন কাজের সঙ্গে নিজে জড়িত হবেন না। অন্য কেউ এমন কাজে যুক্ত হলে দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ করুন। আমরা সবাই মিলে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে আগামীর পথে নিয়ে যাবো। আবারো নতুন বছর ২০২১ সালের প্রভাতে পাঠক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি শুভকামনা জানাচ্ছি।