বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮

আজমল হোসেন লাবু

Jan. 8, 2021, 10:50 p.m.

কে বলেছে হয় না?
কে বলেছে হয় না?
খবর প্রতীকী। - ছবি: ভোরের আলো।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও ‘বছরের শেষ সূর্য শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল পশ্চিম সাগর তীরে। কে তুমি? মেলেনি উত্তর’। এমন হাজার প্রশ্ন প্রতিদিন। যার উত্তর মেলা ভার। যে প্রশ্নগুলি আমাদের ঘরের, বাইরের, পরিবেশ পরিস্থিতির। প্রায়শই যে প্রশ্নগুলির মূলত উপাদান এক ধরণের হতাশা। আমরা এমন কেন? অনবরত হতাশার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে আশার পথ চলার আলো, সে কি প্রদীপ্ত হয়? সবাই মিলে মিথ্যার ব্যবসায়ী হলে সত্য কি তাতে মূল্য হারায়? প্রতিনিয়ত সমাজ সংসার রাষ্ট্রের ঘটমান ঘটনাপ্রবাহ আমাদের দারুনভাবে নির্লিপ্ত করে ঠিকই, তাই বলে সঠিকতা সে কি বিলিন হয়ে যায়? না হয় না। হয়তো সময় লাগে। আমরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। ধৈর্যের কথাটা বললাম বটে, তবে সকল ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক ধৈর্যও নয়। বলা যায় প্রতিবাদ কিংবা রুখে দাঁড়ানো। যে পারে, যার সুযোগ থাকে, সে এক সময় প্রবল বিপরিত স্রোতকেও তার পক্ষে নিয়ে নিতে পারে।

যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা সতঃস্ফূর্ত বলে ফেলি ‘কে বলেছে হয় না?’ এইতো হলো। মাত্র তো সেদিনের কথা। ঘটনাপ্রবাহ বরিশালের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষায় শতপ্রনোদিত অনিয়ম। ২০১৫ সালে এই বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরিক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগের মামলার রায় দিয়েছে আদালত। দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে আদালতের রায়ে ছাত্রীকে ভর্তির নির্দেশ। এখন সেই যোগ্য অথচ বঞ্চিত ছাত্রী অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। কি বিচিত্র তাই না? ভাবা যায় কি বিচিত্র এই অনিয়ম! কি নিষ্ঠুর নির্মম আঘাত যোগ্যতার উপর?

যদিও জানতে পারিনি এমন অনিয়মকারীদের আদালত কতটুকু ভৎসনা করেছেন। আদৌ করেছেন কি না। ভুল উত্তরপত্রে আটজনকে নম্বর প্রদান করেছেন তারা। অথচ সঠিক উত্তর দিয়েও নম্বর পাননি আলোচিত এই মামলার বাদি! এমন কর্মের শুধু ভৎসনাই কি যথেষ্ট? তার পরেও একজন পিতা একজন অভিভাবক যিনি নিজে আইন ব্যবসায় জড়িত, তিনি যথেষ্ট প্রজ্ঞা এবং ধৈর্যের সঙ্গে এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। এক পরাজিত সত্যকে যথার্থ বিজয়ী সত্যের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। অতএব এখানে দাঁড়িয়ে আমরা কি বলতে পারি না ‘কে বলেছে হয় না?’ যদি যুদ্ধটার মধ্যে যথার্থতা থাকে তবেই লজ্জা দেওয়া যায় ঘর, পর, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে।

জানি এমন ব্যতিক্রম খুব বেশি ঘটে না। অনবরত মিথ্যার পাহাড় ঠেলতে ঠেলতে সত্য এক সময় পথ হারিয়ে ফেলে। একবার দুবার নয়, লক্ষ্য কোটি বার। একসময় নিয়ম হয়ে পরে সত্যের পরাজয়। তখন যারপরনাই হতাশ হয়ে আমরা বলতে থাকি ‘না এ আর হবার নয়।’ আমাদের এই হতাশার ব্যাপক যৌক্তিকতার পরেও কখনো ব্যতিক্রম কিছু দৈবক্রমে ঘটে থাকে। তখন মনে হয় ‘কুড়ি বছর পরে আবার দেখা হয় যদি তার সঙ্গে’। কুড়ি বছর, জীবনের অনেকটা সময়! সেই উদাহরণটাও ঘটলো বরিশালেই। বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র জনাব আহ্সান হাবিব কামাল প্রায় বিশ বছর আগে, যখন তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সময়কার টিএন্ডটির একটি কাজের অনিয়ম এবং দুর্নীতির দায়ে তার বিরুদ্ধে করা মামলায় এতো বছর পর তার জেল হবে, কেউ কি ভাবতে পেরেছিলো? ভেবেছিলো কি মিঃ কামাল নিজেও? সেদিনকার একরোখা ক্ষমতার দম্ভ তাকে বুঝতেই দেয়নি আইনের পথ। যে পথ তাকে এতোদিন পরে টেনে নিয়েই গেল কারা অভ্যন্তরে। ক্ষমতা, অর্থ, দম্ভ, অসভ্যতা যখন আকাশ স্পর্শ করে তখন একদিন তা মহা-শুন্য হয়ে যায়। অন্ধকার গ্রাস করে চারিধার, তখন সাবধান হওয়ারও সময় থাকে না।

ঠিক তেমনটাই কি হলো না সাংসদ হাজী সেলিমের ক্ষেত্রে? তার আশপাশের কোন মানুষ আজকের এই দিন দেখবে ভেবেছে? যারা তার দ্বারা দারুনভাবে নিগৃহীত হয়ে আসছিলো এতোদিন? নিগৃহীত হয়েছে তাদের চোখের নিচে, হাতের নিচে, ক্ষমতার দম্ভের নিচে। কতো শতজন সর্বশান্ত হয়েছে তার কোন হিসেব আছে? যারা দারুন কষ্ট বুকে চেপে রেখে প্রতিদিন কেবল বলেছে ‘এদের কোনদিন কিছু হবে না, হয় না’। আজ যখন হাজী সাহেবের সাম্রাজ্য এক এক করে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন কি আমরা বলবো না ‘কে বলেছে হয় না?’ নিশ্চয়ই হয়, এইতো হচ্ছে। হয়তো বলা যায় এটা স্বাভাবিক নয়। কেবলমাত্র শসস্ত্র বাহিনীর উপর হাত পড়েছে তাই বাধ্য হয়েছে নিজের ঘরে হাত দিতে। হয়ত সত্য, তবু তো হয়েছে। 
এভাবে দারুন চাপের মধ্যেই মানুষের ক্রমাগত উষ্মা, উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর অবিশ্বাসকে আস্থায় নিতে, সময় এখন বাধ্য হচ্ছে অনেক কিছুই করতে। নিশ্চয়ই আমরা তা লক্ষ করছি। দেশের প্রতিটি মানুষের এখানে দৃষ্টি স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। তবেই পরিবর্তন। পরিবর্তন মূলত মানুষেরই হাতে। রাজনীতি বা নেতারা তা মানেন না। তাই খুব চিৎকার করে বলেন ‘জণগণই সব’। আসলে কথাটা যে কত সত্য তার অজস্র প্রমাণ দিয়েছে এই বাংলাদেশ। তার পরেও কেন বারবার ভুলে যাই সেই সকল কথা? তবু কেন বলি, হয় না? হয়েছে তো বারবার। নিকট অতীতে মহা বিস্ময় ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ হয়েছে। তারও প্রতিউত্তর হয়েছে মতিঝিলে! ঢাকা বিমানবন্দর রোডে রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়ার মৃত্যুর পরে রাজপথে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, এই দেশের সড়কে কেউ কোন নিয়ম মানে না। না আমলা, না নেতা, না আইন প্রণেতা, না আইন প্রয়োগকারীরা! কেউ না। রাজপথে কেউ সেদিন নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করতে পারেনি শিক্ষার্থীদের সামনে।

এভাবে রুখে দাঁড়ালেই অনেক কিছু থেমে যায়, বদলে দেওয়া যায়। সিলেট আর.সি কলেজের ধর্ষণ ঘটনার পরে মানুষ চেয়েছে বলেই ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত হয়েছে। এভাবেই মানুষ বারবার বলতে বলতে, উদাহরণ উপস্থাপিত করতে করতে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রক নয়। তারা মাদক ধারণ করে, সংগ্রহ করে, সেবন করে এবং বিপনন করে। এখন পুলিশ কোথাও কাউকে তল্লাশি করতে গেলে জণগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলে ‘আগে আপনাদের পকেট এবং হাত চেক করুন, আমরা আগে দেখবো সেখানে কোন মাদক আছে কি না?’ সাধারণের এহেন আস্থাহীনতা দূর করতে এবার পুলিশবাহিনী বাধ্য হয়েছে বাহিনী অভ্যান্তরে ডোপ টেস্ট করাতে। কি তার ফলাফল? এখন তা জানে দেশের সমস্ত খবর মাধ্যম, জানে জণগণ। তাহলে কেন বলি হয় না? হয়। যেমন ওসি প্রদীপের বৈধ অস্ত্র কি অসাধারণ অবৈধ কর্মের উলঙ্গতার উন্মেষ ঘটালো একের পর এক! তা কারো গোচরেই এলো না দিনের পর দিন। যেন তার কর্ম কৈফিয়তের কোন বালাই ছিলো না! তা হলে (?) কি জন্ম নেয় না কতোজন নিরপরাধ সাধারণ মানুষ হত্যার পরে হত্যাকারী গুলিটা একজন মেজর সীনহাকে হত্যা করে তবেই থামতে বাধ্য হয়? যার পরিণাম এখন শ্রীঘর। (জদিও এখানেও সেই শসস্ত্র বাহিনী) এভাবেই হয়। কিছু হারালেই তবে তাকে খুঁজে পেতে মনোনিবেশ করতে হয়। কখনো ঠেকে, বাধ্য হয়ে, নয়ত বিধাতার নির্দেশে।
ঠিক যেভাবে অনবরত বৈষম্যের যাতাকলে পৃষ্ঠ হতে হতে একদিন এই বাঙালি বুঝতে পেরেছিলো আর নয়। দু’শ বছরের ইংরেজ, বাইশ বছরের পাকিস্তান। আর নয়, এবার নিজস্বতা চাই। তাই হলো তো, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যেমে। কে বলেছে হয় না? হয়। এর নাম বাংলাদেশ, এখানে সব হয়! যেমন হয়েছিলো পঁচাত্তরে, মুক্ত স্বাধীন জাতির মুক্তির দিশা-ই হারিয়ে গিয়েছিলো। হারিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। সেই বিপর্যয় কাটিয়ে পুনরায় জাতির জনকের হত্যাকারীদের বিচারের রায় ‘ফাঁসি’ তাও নিশ্চিত করা হয়েছিলো। তার পরেও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হলো বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। কে বলেছে হয় না? হয়েছে তো! ফের মানুষ মেরেছে, ছিন্ন ভিন্ন করেছে, রক্তে ভেসে গেছে রাজপথ। ওরা যে আল্লাহর দোহাই দিয়ে হিংসা বিদ্বেষ ছড়িয়েছিলো তাকে সফল হতে দেয়নি মহান আল্লাহ রব্বুল আল-আমিনই। মানববর্ম দিয়ে সেদিন বাঁচিয়ে দিয়েছিলো এদেশের গণতন্ত্রকে। কে বলেছে হয় না? হয়েছে তো। অনেক চড়াই উৎরাই পাড়ি দিয়ে শসস্ত্র সংগ্রামের অর্জন স্বাধীনতা আজ পঞ্চাশ বছরের পথ পাড়ি দিচ্ছে। সুবর্ণ জন্ম জয়ন্তির পথে হাঁটছে বাংলাদেশ।

সকল ক্ষেত্রে তার ঘটেছে উন্নয়ন-শব্দের ব্যাপক বিস্তার। একসময় দেশজুড়ে যে বিদ্যুতের জ্বালা ছিলো। সে এখন আর জ্বালা দিচ্ছে না, আলো দিচ্ছে। এ সময়ের ঘোরতর সমালোচকও দ্যর্থহীনভাবে বলবে বিদ্যুতের এই সাফল্যের কথা। যা এখন দেশজুড়ে ঘরে ঘরে আলো ছড়াচ্ছে। দেশ আলোকিত হয়েছে প্রায় সকল ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে বেড়েছে সকল ক্ষেত্রেই অনৈতিকতার কালো! সেখানে কঠোর কঠিনতার আলো জ্বালাতে ব্যর্থ হলেই পুনরায় কলোর বিজয় নিশ্চিত। যার রূপ ১৫ আগস্ট ৭৫, ৩রা নভেম্বর ৭৫, ২১ আগস্ট ২০০৯। সাবধান! খেলার উপকরণ যেন বিষাক্ত না হয়। সাবধান! সময়ের সিদ্ধান্তহীনতায় ধর্ম অনুসরণকারীদের জিহ্বায় লোভের স্বাদ না বৃদ্ধি পেয়ে যায়। দেশ, জাতি, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, সেখানে ধর্মের অনুপ্রবেশের পথ প্রয়োজনে রুক্ষ কঠিন কঠোর করে দিতে হবে। সেই যায়গায় কৌশলের নামে কোন সংযমের প্রকাশ, কেবল হিংসা নয়, কঠিন প্রতিহিংসার জন্ম দেবে। কারণ ‘ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে, অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে’। মনে রাখা দরকার চেয়ারের অস্তিত্ব কখোনই সমঝোতায় নয়, প্রতিরোধে। তার প্রমাণ ১৯৭১, বাংলাদেশের মুক্তির যুদ্ধ। যে যুক্তিগুলির কোন রাষ্ট্রীয় যৌক্তিকতা নাই, তার মূল্যমান নিয়ে কালক্ষেপন করলেই স্বাধীনতার অস্তিত্ব বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিতে চাইবে।

এই মুহূর্তে পায়রা বন্দর, কর্ণফুলি টানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্লান্ট এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর সুবর্ণ জয়ন্তির বিস্ময় উন্নয়ন পদ্মা সেতু। যার মাধ্যমে সংযুক্ত হলো বাংলাদেশর উত্তর পূর্বের সঙ্গে দক্ষিণ পশ্চিম। কাজ চলছে মেট্রোরেলের, পরিকল্পনা আছে আরো একটি নতুন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের। সমৃদ্ধির এমন অকল্পনীয় অগ্রযাত্রা এই দেশে সাধিত হবে কেউ কি ভেবেছিলো? কিন্তু হলো। এই সত্যই সুপ্রতিষ্ঠিত হলো দেশময়। তবু কোথায় যেন কথা, কোথায় যেন প্রশ্ন, কোথায় যেন আস্থাহীন অবিশ্বাস! কেন এমন হবে, কেন এমন হয়? কেন ধর্মের দোহাই দিয়ে আওয়ামী সকল রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমকে এভাবে ব্রাকেট বন্দি করা হয়? আমাদের পরিবর্তন দরকার মানসিকতার। পরিবর্তন দরকার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির। সিদ্ধান্ত দরকার রাষ্ট্রীয় অগ্রগতির পথে ধর্ম কোনো বিবেচনার বিষয় হবে কি না। তবেই ভোট আর ভোটকেন্দ্র একে অপরের পরিপূরক হবে।

দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষদের ভাবতে হবে বিশ্বাস করতে হবে আওয়ামী রাজনীতি মানেই অমুসলিম নীতি নয়। তবেই আর গল্পের মতো বলতে হবে না দেশের ৬৫ জেলায় সব ওসিরা হিন্দু। প্রয়োজন পরবে না এমন অসত্য উচ্চারণের। নিরপেক্ষতা কখনোই একতরফা হয় না। তার জন্য জাতির বিচক্ষণতা অত্যন্ত জরুরী। যেমন বুঝে নেওয়া জরুরী, আওয়ামী টিকিটধারী মানেই মুক্তিযুদ্ধের বিশ্বাসী মানুষ নয়। ভাবতে হবে স্বাধীন বাংলাদেশ ব্যাপক রক্ত আর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা সমগ্র দেশটাকে ফতোয়া দিয়ে বানিয়েছিলো ‘গণিমতের মাল’ আজ তাদের মুখেই আবার নতুন ফতোয়া, ‘ভাষ্কর্য ভেঙ্গে গুড়িয়ে দাও তবেই নিশ্চিত জান্নাত’। এমন ভন্ডামীর বিপরীতে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখনো পরিষ্কার নয়। পরিষ্কার হয়নি ভোট রাজনীতির অংক কষা! ভালো বুঝতে পারি না গৃহপালিত পশুরা কোনদিন ভোটার হয়ে গেলে তার পায়ে ছালাম ঠুকে ভোট চাইবো, না কি এমন ভোটারমুক্ত দেশ চাইবো? যারা এই রাষ্ট্রই চায়নি কোনদিন, তারা কি করে বলে রাষ্ট্র কোন পথে চলবে?

কালের যাত্রায় যুক্ত হলো আরেকটি নতুন বছর ২০২১ আর অমাদের জীবন খাতা থেকে বিদায় নিলো ২০২০। যা আগামী ১০০ বছর মানুষের স্মরণে থাকবে। স্মরণে থাকবে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ের কারণ করোনা, কোভিড-১৯ এর জন্য। পৃথিবীর মানুষ যা কোনদিন ভাবেনি, কেবল গতি আর গতিই ছিলো যাদের একমাত্র ভাবনা। সেই মানুষকে একেবারে ঘরবন্দি করে ছেড়েছে করোনা। মৃত্যুর সীমাহীন সংখ্যা প্রমাণ করেছে মানুষের অগোচরে এখনো অনেক কিছু। মানুষকে বাঁচাতে মানুষের ভাবনার সীমাহীন ফাঁকির উলঙ্গতা প্রকাশ হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। এখনো মানুষের হাতে করোনা মোকাবেলার কোন হাতিয়ার নেই। যারা এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, তারা মনের শক্তিতে বলিয়ান। উপকরণ শুধু মাস্ক। বাংলাদেশের মানুষের একটি ভীষণ রকম ভিশন ছিলো ২০২০। করোনা তাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। করোনার শুরুতে মানবিক বোধের যে বিপর্যয় ঘটেছিলো তার উল্টো পথে ফিরে এসে এই মানুষই মানুষের প্রয়োজনে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে কঠিন মানোবিক হয়েছে। সকল বন্ধ পথের দিশা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো প্রযুক্তি। সকল হতাশাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে একক শক্তিতে বলিয়ান প্রযুক্তি জানিয়ে দিয়েছে করোনাকে, তুমি যেমন সব থামিয়ে দিয়েছো, তাকিয়ে দেখ তার কোনটিই থেমে নেই। পৃথিবী চলছে বসে বসে ঘরবন্দি আঙ্গুলে ভর করে। হয়ত এ পথে কিছু ফাঁকিবাজিও ছিলো, তারপরেও বলবো চলেছে। আর মাত্র কটা দিন মুখোশ খুলে বসবো মুখোমুখি, মানুষই প্রমাণ করবে সেই শ্রেষ্ঠ। ‘আশ্রাফুল মাখলুকাত’।

বছর চলে গেল করোনা কাটেনি। ডাক্তার এখনো খুঁজে ফিরছে রোগি। দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। এখনো অদ্ভুত আঁধারে পৃথিবী। লকডাউন এখনো জনপ্রিয়তা হারায়নি তেমন! কোয়ারেন্টিন এর বাধ্যবাধকতা এখনো হাত নাড়াচ্ছে। চলছে সবকিছু, তবে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এখনো করোনার দ্বন্দ্ব। শুরুতে যেমনটা বলেছিলোম কে বলেছে হয় না? এইতো হলো করোনার পরাজয়। ঠিক এই কথাটা আজ বলা গেল না। তবে নিশ্চয়ই বলবো। উন্মুখ হয়ে আছে পৃথিবী, অপেক্ষা কেবল মুখোমুখি বসিবার, ‘এই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাজায় বাঁশি ভালোবাসি ভালোবাসি’। কে বলেছে হয় না? হয়। কেবল খুঁজে নিতে হয় ভালোবাসার সরল শুদ্ধ রূপ, আর করতে হবে অশুদ্ধতার পরিহার। তেমন কিছু কথা তুলে ধরছি।
প্রথমে হেফাজত ইসলামের প্রতিনিধির উচ্চারণ: আমার মুখের দিকে লক্ষ করুন আমি দেখাচ্ছি মোহাম্মদ (সঃ) কেমন করে কুরআন পড়তেন (নাউজুবিল্লাহ্)। 

পুলিশ প্রধান: এবার ঘর থেকে শুরু, বাহিনীর মধ্যে কোন মাদকসেবী থাকবে না। 
সেনাপ্রধান: কোন গুজব সেনাবাহিনীর বজ্র কঠিন ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারবে না। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী: ক্ষমতার চেয়ার এবং কারাগারের দুয়ার খুব কাছাকাছি।

কে বলেছে হয় না? অতি অবশ্যই হয়। মানুষের ভালোবাসাই মানুষকে পরিশুদ্ধ পথের দিশা বলে দেয়। মানুষের ভালোবাসাই মানুষকে সত্য উচ্চারণের পথে ধাবিত করে। এই নূতন বছরের প্রতিদিনের ভোরের আলো প্রভাতের রক্তিম সূর্য আমাদের সেই পবিত্রতা দান করুক।