বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Jan. 12, 2021, 10:11 p.m.

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিন
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিন
সম্পাদকীয় । - ছবি: ভোরের আলো।

বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের কদর বেড়েছে। বিদেশ থেকে অর্থ আসছে পোশাকশিল্পের উৎপাদিত পন্যের কারণে। সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ। কিন্তু এই পোশাকশিল্পের মর্যাদা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে যারা ভূমিকা রেখে চলেছে সেই শ্রমিকদের দিন ফিরছে না। মাঝেমাঝেই তারা মহাসড়কে এসে দাবির কথা বলার চেষ্টা করেন। অনেক সময় আশ^াসও পান তারা। কিন্তু সেটা কেবল আশ^াসের মধ্যেই থেকে যায় এমন অভিযোগ শ্রমিকদের। তাদের দাবি এতো বছরেও শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরী নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। যে যেমন পারছে শ্রমিকদের মজুরী দিচ্ছেন। সেটাও আবার নিয়মিত নয়। অনিয়মিত বেতান-ভাতার পরও ছাটাইরে ভয় সব সময় তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। এটা কেবল পোশাক শিল্প নয়, দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠান, সড়ক, নৌপথসহ সব সেক্টরের চিত্র মোটামুটি এক।

বরিশালের একটি কারাখানার শ্রমিকরা বেশ কিছুদিন ধরে তাদের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলন করছেন। একই সঙ্গে তারা কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের স্থায়ী সমাধানও দাবি করছেন। গতকালও সোনারগাঁ টেক্সটাইল মিলের শ্রমিকরা কারখানার ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। করোনার সময় বেতন-ভাতা না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এব্যাপারে সরকারেরও কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যারা আমাদের দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের স্বচ্ছন্দ ফেরাতে উদ্যোগ নেই বললেই চলে। এব্যাপারে সরকারের উদ্যোগী ভূমিকা থাকা জরুরী। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিন। তা না হলে আমাদের সমৃদ্ধির পথ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সারা দুনিয়ায় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ রয়েছে। উন্নত দেশে সরকারিভাবে ট্রেড ইউনিয়নকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও সরকারি দলভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে। তবে সত্যিকার অর্থে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার দিতে উদ্যোগী ভূমিকা নেই বললেই চলে। সরকারের উদাসীনতার সুযোগ নিচ্ছেন শিল্প-কারখানার মালিকরা। তারা একদিকে যেমন শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরী দিচ্ছেন না, তেমনি যেনতেন অজুহাতে চাকুরী থেকে ছাঁটাইও বন্ধ করছেন না।

ন্যায্য মজুরী না পাওয়ার কারণে এবং চাকুরী হারিয়ে অনেক শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এসব শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক চাহিদা হুমকীর মুখে পড়েছে। নূন্যতম চাহিতা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ওইসব পরিবারের সদস্যরা নেতিবাচক কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। যার ফলে সমাজে মাদকসহ নানা অপকর্ম বেড়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত দেশের সকল শিল্পকারখানায় নিয়োজিত শ্রমিকদের জীবনের নিশ্চয়তা দিতে উদ্যোগ নিতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছি।