রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

অনলাইন ডেস্ক

Jan. 24, 2021, 11:20 p.m.

ফেব্রুয়ারিতে যে কোনো দিন খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ফেব্রুয়ারিতে যে কোনো দিন খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
সংগৃহিত - ছবি:

আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যেই চিঠি দিয়ে জানিয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। তবে কবে থেকে প্রতিষ্ঠান খুলছে এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানায়নি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী মাসের যে কোনো দিন প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আর খুলে দেওয়ার আগে পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করবে মন্ত্রণালয়।

রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমনটিই জানিয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, যদি ফেব্রুয়ারিতে খুলে দেওয়া হয় তাহলে প্রাথমিকভাবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস হবে। অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন করে ক্লাসে আসবে। এ ছাড়া সম্প্রতি স্কুল খোলার বিষয়ে একটি গাইডলাইনও প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির ঘোষণা আছে। সরকার গত ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিকের এবং ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের রেকর্ড করা ক্লাস সংসদ টেলিভিশনে প্রচার করছে। দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে এলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে বলে ছুটির পর থেকেই জানিয়ে আসছে মন্ত্রণালয়।

রবিবার আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসে বাংলাদেশ-ইউনেস্কো কমিশন আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, করোনা পরিবর্তীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যায় তার চেষ্টা করছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে কীভাবে আরও ভালো করতে পারি সেটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব প্রস্তুতি সেরে নিতে বলা হয়েছে। ক্লাস রুমের সঙ্গে অনলাইনে ক্লাস চলবে বলেও মন্ত্রী জানান।

মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেয়া হবে। সেজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তিন বা চার মাসের মধ্যে সরাসরি ক্লাসে এসে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করতে হবে। সে জন্য তাদের সপ্তাহে পাঁচ বা ছয় দিন ক্লাসে আসতে হতে পারে। অন্যান্য ক্লাসে সপ্তাহে একদিন আসতে হবে শিক্ষার্থীদের। তবে সবাইকে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি মেনে ক্লাস করতে হবে।

একসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্লাস রুমে এত শিক্ষার্থী থাকে না। কিন্তু বাংলাদেশে ক্লাসের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। এখানে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মানা খুব কঠিন। ক্লাস রুমে যেন স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকটি মানা হয় সেজন্য স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।

দীপু মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করার পর একজন শিক্ষার্থী যেন বেকার না থাকে সেজন্য কারিকুলাম পরিবর্তনের কাজ করছি। ইতোমধ্যে মাধ্যমিকে কোনো বিভাগ থাকবে না এটার কাজ শুরু হয়েছে। সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের যেন বাধ্যতামূলকভাবে একটি কারিগরি ট্রেডে পড়ানো হয় সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরীক্ষা বা সনদ নির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছি। নতুন করে কারিকুলাম সাজাচ্ছি, সেজন্য নতুন প্রকল্প চলছে আরও প্রকল্প নেওয়া হবে।

এদিকে প্রতিষ্ঠান খোলার গাইডলাইনে কয়েকটি ধাপের কথা বলেছে মাউশি।

মাউশি বলেছে, করোনার কারণে বন্ধ থাকা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দুই মাসের মধ্যে কোনো পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিচ্ছন্ন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের শিফটিং করে নিরাপদ দূরত্বে ক্লাসে বসা, প্রথম ১৫ দিন সহ-শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি এবং দুই মাসের মধ্যে কোনো পরীক্ষা না নেয়া যাবে না।

তারা জানায়, ৩৯ পৃষ্ঠার নির্দেশনাটি ইউনিসেফের সহযোগিতায় প্রস্তুত করা হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে নতুন স্বাভাবিকতা (নিউ নরমাল) হিসেবে বিবেচনা করে এই নির্দেশিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবে।