রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

অনলাইন ডেস্ক

Jan. 26, 2021, 12:08 a.m.

ভারতের পদ্মশ্রী পেলেন দুই বাংলাদেশি
ভারতের পদ্মশ্রী পেলেন দুই বাংলাদেশি
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সনজীদা খাতুন এবং বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, বীরপ্রতীক। - ছবি:

ভারতের পদ্মশ্রী সম্মাননায় ভূষিত হলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সনজীদা খাতুন এবং বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির, বীরপ্রতীক।

সোমবার ভারতীয় দূতাবাস সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ১৯৫৪ থেকে প্রতিবছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশটির সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার হিসেবে পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ এবং পদ্মশ্রী পুরস্কার দেয়া হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিবিশেষ এবং সংগঠনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য ও ব্যতিক্রমী সাফল্যগুলোর স্বীকৃতি জানানো হয়।

পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত সনজীদা খাতুন এর আগে ২০০৮ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশিকোত্তম (সম্মানসূচক ডি লিট) উপাধি লাভ করেন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব সনজীদা খাতুন ৪ এপ্রিল ১৯৩৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তার শিক্ষাজীবনও ছিল বর্ণাঢ্যময়। বিশ্বভারতী থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। বিশ্বভারতী থেকে রবীন্দ্রসংগীতের ভাবসম্পদ গবেষণাপত্রে পিএইচ ডি লাভ করেন।

সনজীদা খাতুনের জীবিকা এবং অভিজ্ঞতা বৈচিত্র্যময়। ১৯৫৭ সাল থেকে সরকারি কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত পুনঃনিয়োগক্রমে অধ্যাপনা করেন।

সনজীদা খাতুন ১৯৮৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ‘রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক', ১৯৯০ সালে বেগম জেবুন্নেছা ও কাজী মাহবুবউল্লাহ জনকল্যাণ ট্রাস্টের স্বর্ণপদক ও সম্মাননা, ১৯৯৮ সালে সা'দত আলী আখন্দ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি, ২০০০ সালে ‘অনন্যা’ পুরস্কার, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সম্মানসূচক ফেলোশিপ, ২০০৮ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশিকোত্তম (সম্মানসূচক ডি লিট) উপাধি, ২০১০ সালে বাংলা একাডেমি রবীন্দ্র-পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতাযুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করে। সাজ্জাদ আলী জহির ১৯৬৯ সালের শেষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাকুল সামরিক একাডেমিতে সিনিয়র ক্যাডেট হিসেবে প্রশিক্ষণরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আগস্ট মাসের শেষে তিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যুদ্ধে যোগ দেন।