নিজস্ব প্রতিবেদক

July 25, 2019, 4:12 p.m.

এবার মালিকদের ঘোষণায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ, শ্রমিকদর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
এবার মালিকদের ঘোষণায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ, শ্রমিকদর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
এবার মালিকদের ঘোষণায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ, শ্রমিকদর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের - ছবি:

গত ২৩ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১১ দফা দাবিতে সব ধরণের নৌযান ধর্মঘট ডাকে নৌযান শ্রমিক ফেডাশেন। এর একদিন পর লঞ্চ মালিক সামিতি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘেষণা করে। গতকাল বৃহষ্পতিবার মালিক সমিতি আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মালিক সমিতির ডাকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বরিশাল নৌবন্দর থেকে কোন রুটে লঞ্চ চলাচল করেনি। তবে বিকেল তিনটায় মালিক পক্ষও তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন গত ২৩ জুলাই রাত থেকে তাদের ১১ দফা দাবি আদায়ের জন্য লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করে। ২৪ জুলাই বিকেল সাড়ে চারটায় যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যাত্রীদের কথা চিন্তা যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্মবিরতির আওতামুক্ত রাখা হয়। ওই সিদ্ধান্তের ২৪ তারিখ রাতে লঞ্চ মালিক সমিতি আকস্মিক লঞ্চ পরিচালনা বন্ধের ঘোষণা দেয়। কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এবং সুন্দরবন লঞ্চের মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, শ্রমিকরা মালিকদের কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ করেই কর্মবিরতিতে গেছে। অন্তত কর্মবিরতিতে যাওয়ার আগে আমাদের বলতে পারতো তাদের কি সমস্যা, তাও বলেনি। তারা প্রতিবার ঈদের আগে এমনটা করে। এরপর বিষয়টি জানার পরে মালিকরা গত বুধবার সকালে সরদঘাটে গিয়ে নৌ-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলারও চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা ভ্রুক্ষেপ করেনি। পরে যখন আমরা মালিকরা লঞ্চ পরিচালনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেই, তখন তারা লঞ্চে গিয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে শ্রম মন্ত্রণালয়, লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভার সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। সভার সিদ্ধা অনুযায়ী, আমরা শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছি। আর ওই সিদ্ধান্তের মেয়াদকাল ২০২১ সাল পর্যন্ত রয়েছে। তারপরও এক শ্রেণির শ্রমিক কথায় কথায় কর্মবিরতিতে যাচ্ছে। শ্রমিকরা তাদের ইচ্ছেমতো কর্মবিরতির নামে লঞ্চ বন্ধ করে দেয় বিধায় মালিকরা লঞ্চ চালাবেন না বলে সিন্ধান্ত নিয়েছে। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহ আলম জানান, ১১ দফা দাবি আদায়ে গত ১৫ এপ্রিল ধর্মঘট শুরু হয়েছিল। ধর্মঘটের প্রথম দিন শ্রমিক অধিদপ্তর, মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে ত্রিপাক্ষীয় বৈঠক করে দাবিগুলো বাস্তবায়নে ৪৫ দিনের সময় নেয় নৌযান মালিকপক্ষ। তাদের আশ্বাসে ওইদিন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু গত মঙ্গলবার পর্যন্ত একটি দাবিও বাস্তবায়ন করেননি মালিকরা। এজন্য সারাদেশে অবিরাম শ্রমিক ধর্মঘট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু যাত্রীদের কথা চিন্তা করে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তারপর হঠাৎ মালিকরা কেন লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বুঝতে পারছি না। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মাস্টার শেখ আবুল হাসেম গতকাল বৃহষ্পতিবার বিকেল পৌনে তিনাটায় বলেন, আমরা যদি জিম্মি করে থাকি, তাহলে মালিক সমিতি লঞ্চ বন্ধ করে কি যাত্রীদের জিম্মি করেনি? আমরা তো যাত্রীদের কথা চিন্তা করে যাত্রীবাহী লঞ্চ ধর্মঘটের আওতা মুক্ত রেখেছি। তারপরও কেন মালিকরা লঞ্চ চলাচল বন্ধ করেছে? তিনি আরও বলেন ২০১৬ সালের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি। বাস্তবায়ন হলে আবার কেউ আন্দোলনে যায়? তারা শ্রমিকদের নিয়ে টালবাহানা করছে। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরেছি। সেটা কি আমাদের অপরাধ? এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় মালিক সমিতির কার্যালয়ে পণ্যবাহী নৌযান মালিক ও লঞ্চ মালিকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর দুইটায় ওই বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে, পণ্যবাহী নৌযান মালিকরা শ্রমিকদের নিয়ে সমস্যায় রয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের ফলে তাদের নৌযান চলাচলও বন্ধ রয়েছে বলে জানায়। শ্রমিকদের খামখেয়া লীর বিরুদ্ধে মালিকরা লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তার া ওই ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে। এদিকে কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এবং সুন্দরবন লঞ্চের মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, বিকেলে বৈঠক শেষে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতি নেতা এবং পরাবাত লঞ্চের মালিক মো. শহীদুল ইসলাম বাদি হয়ে নৌযানে অরজকতা সৃষ্টির করা হচ্ছে অভিযোগ করে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে আমরা লঞ্চ ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি। শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বেতনভাতা বৃদ্ধি করে যুগোপযোগী করা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নৌযান শ্রমিকদের হামলার বিচার, নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ, মেরিন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, মৃত নৌযান শ্রমিকদের ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।