বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮

হায়াতুজ্জামান,আমতলী

Feb. 28, 2021, 12:14 a.m.

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে করোনা টিকা গ্রহনে সাড়া মিলছেনা!
প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে করোনা টিকা গ্রহনে সাড়া মিলছেনা!
সংগৃহিত - ছবি:

সারাদেশের ন্যায় বরগুনার আমতলী উপজেলায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে  শনিবার পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৪২৮১ জন। বিপরীতে টিকা গ্রহন করেছে ৩০২০জন। এর মধ্যে ১৯৭৮ জন পুরুষ ও ১০৪২ জন নারী। স্বাস্থ্য সেবাদানকারী, পুলিশ, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক ও সচেতন মহল টিকা গ্রহন করলেও প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের কাছ থেকে কোন সারা মিলছে না। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় প্রথম দফায় ৭ হাজার ২৮০ ডোজ টিকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ উপজেলায় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব জিএম দেলওয়ার হোসেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর এ পর্যন্ত ১৩৬ জন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। টিকাদানের শুরুতে মানুষের মাঝে তেমন আগ্রহ দেখা না গেলেও বর্তমানে শিক্ষিত ও সচেতন মানুষেরা আগ্রহ নিয়ে টিকা গ্রহন করছেন। কিন্তুু সচেতনতার অভাবে সারা মিলছেনা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝে। টিকা গ্রহনে সচেতনতা ও পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারনা না থাকায় এসব মানুষেরা টিকা গ্রহনের গুরুত্ব সম্পর্কে সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানান সচেতন মহল। তারা জানান, গ্রাম প্রধান দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র, খেটে খাওয়া সিংহভাগ সাধারণ মানুষদের করোনা ভাইরাস প্রতিষেধক টিকা গ্রহনের কর্মসূচির বাহিরে রেখে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কর্মসূচি কতটা সফল হবে তা অনেকটাই অনিশ্চিত।

টিকা গ্রহনকারী উপজেলা আওয়ামীলীগ দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন ফকির বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে টিকা গ্রহনের জন্য কোথায় কিভাবে আবেদন করতে হবে সেজন্য ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি আরো বলেন, টিকা গ্রহন ও গ্রামের মানুষদের সচেতন করতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরাও ওয়ার্ড ভিত্তিক সচেতনতা মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শংকর প্রসাদ অধিকারী প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের টিকা গ্রহনে আগ্রহ না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন বাড়ী বাড়ী গিয়ে টিকা গ্রহনের জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করছেন। এছাড়া উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম-গঞ্জে মাইকে প্রচার- প্রচারনা চালানো অব্যাহত আছে।