শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮

আজমল হোসেন লাবু

March 25, 2021, 12:44 a.m.

আমার শেষ দিনে তোরা থাকিস
আমার শেষ দিনে তোরা থাকিস
অধ্যক্ষ মো. হানিফ। - ছবি: ভোরের আলো।

নিখিলদা যে দিন চলে গেলেন সেদিন তাকে বিদায় জানাতে আপনি উপস্থিত হলেন শ্মশানে। সবার সাথে কথা বলে আপনি যখন ঠিক করলেন ফিরে যাবেন ঠিক তখনই নজমুল হোসেন আকাশ এসে বললো ‘এই চল স্যারকে রিকসায় তুলে দেই’। আপনি রিকসায় উঠতে উঠতে আমাদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘তোরা আমার শেষ বিদায়ের দিনে থাকিস’। 

আপনি এই কথা বলে চলে যাবার পরে আমরা অনেকটা সময় ভেবেছি, কি করে এতো সহজে এমন কঠিন কথা আপনি বলতে পারলেন? যা ইতোপূর্বে আমি অন্তত কারো মুখে শুনিনি। তারপর আপনার সঙ্গে আনেক দিন দেখা নেই। মাঝে আপনি অসুস্থ্য হলেন, আপনাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হল। না, জানতে পারিনি। একজন শিক্ষক অসুস্থ্য হলে আমরা সে খবরটাকে খবর বানিয়ে ছড়াতে পারিনা। খুব সহজেই যেমনটা ছড়িয়ে দিতে পারি নেতা নেত্রী ক্ষমতা অর্থ বিত্তের খবরটা! ১লা মার্চ ২০২১। আপনার মহা প্রস্থানের ঘোষণা এলো। ২রা মার্চ আপনি চলে এলেন। নির্ধারিত হতে শুরু হল আপনার বিদায়ে আনুষ্ঠানিক আয়োজন। প্রচার হলো শহরময়, দুপুর দুইটায় অশি^নী কুমার হলের সামনে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের নাগরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য। বাদ-আছর ব্রজমোহন কলেজ শতবর্ষ মাঠে আপনার বিদায়ে শেষ আয়োজন জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। 

সকাল থেকেই আপনার শেষ কথাটা বেস তাড়াচ্ছিল। তাই দেরি না করে দ্রুত চলে এলাম আপনার বাড়ির সামনে। আপনি তখন বাড়ির সামনে হিম গাড়িতে শুয়ে আছেন স্নিগ্ধ, নির্ভার পবিত্র। ইতোমধ্যে খবর শুনে আপনার গুণমুগ্ধরা আসতে শুরু করেছে। সবার হাতের ফোন বলে চলেছে ‘স্যার এসে গেছে’। না, আজ এখানে কোন হুরোহুরি নেই। কাউকে পিছনে ফেলে ধাক্কা মেরে সামনে যাওয়ার মতো কোন নোংড়ামি নেই। আজ এখানে শিক্ষার আলো সম্প্রসারিত করে এক বিশাল বাতির আলোকচ্ছটা থেমে গেছে। যারা আসছে তারা মানুষ। শিক্ষার আলোয় আলোকিত মানুষ। এই গুণমুগ্ধরা সবাই বলছে তারা আপনার ছাত্র। বিমর্ষ বদনে ছাত্র বলছে, ‘আমার স্যার চলে গেলেন’। ছাত্রের স্যারও বলছে, ‘আমাদেরও স্যার চলে গেলেন’। এই শহরের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের স্যার, সকল শিক্ষককুলের শিক্ষক বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ স্যার চলে গেলেন। চলে গেলেন শিক্ষা কর্ম-জীবনের এক কিংবদন্তিতুল্য মানুষ। 

প্রখড় মনের জোরের অধিকারী ছিলেন তিনি। রাজনীতি কিংবা প্রসাশনের পদলেহনে অনভ্যস্ত তিনি। খুব সহজে উপর থেকে তাকে বুঝে নেওয়ার মত অত সহজ মানুষ তিনি ছিলেন না। নিজের মত করে চলবার এক অনন্য ধারা ছিল তাঁর। প্রচন্ড বৈপরিত্যের মধ্যেও তীক্ষœ বিচক্ষণতায় পথ চলার অনন্য সাহসী মানুষ হানিফ স্যার। সকল ছাত্র ছাত্রীদের হোক সে ছোট কিংবা বড় সবার সাথে তুই-তুকারী কথা বলায় সহজাত ছিলেন। এমন বহু ছাত্র যারা শিক্ষাকতা করে অবসরে চলে গিয়েছেন বহু আগে, তারাও দেখেছি স্যারকে দেখে শ্রদ্ধাবনত। আর স্যারের সহজাত কুশল বিনিময় ‘কিরে তুই কেমন আছিস, বউমা-বাচ্চারা কোথায়? শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণযজ্ঞের এক অনন্য অসধারণ আপাদমস্তক শিক্ষাগুরু প্রফেসর মো. হানিফ স্যার। 

নিজ বুদ্ধি বিবেচনার বাইরে তাকে টলানো মোটেই সহজ কাজ ছিল না। সে কাজে সফলতা ছিল না কারোরই। না সহকর্মী, না প্রশাসন, না রাজনীতিক। কেবল তার এই একটি প্রখড় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে সম্মান দেখাতে ব্যার্থ হওয়ার কারণে অমৃত লাল দে কলেজ তাঁকে অধ্যক্ষ হিসাবে পেতে ব্যর্থ হয়েছিল। আথচ কি অসাধারণ ভুমিকা ছিল তাঁর এই কলেজ প্রতিষ্ঠায়। আমরা জেনিছি সে কথা নানানভাবে, শুনেছি বারবার এই কলেজে ভাল মন্দের সাথে মিশে থাকা আর এক গুণি মানুষ শ্রী নিখিল সেন-এর কাছেও। মূলতঃ এখন সময় নিয়ম মেনে পো-ধরার। এখন যে, যিনি এবং যারা ব্যক্তিত্ব, অস্তিত্ব বিলীনে সহজাত তারাই হচ্ছে প্রকৃত গুণি। এ আমরা জানি, মানি বিশ^াসও করি। তবে সাহস করে বলতে পারি না। কিন্তু হানিফ স্যার তেমনটা ছিলেন না। এখনো যারা স্যারের সম্মন্ধে কথা বলতে গিয়ে একটু হোঁচটের ভান করেন, আমরা সবাই জানি তারাও কেউ ফেরেশতা নন। শরীরে আনেককে অনেক বড় দেখেছি তাঁরা কেউই জ্ঞানে যোগ্যতায় ব্যক্তিত্বে তার নামের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্যতাই রাখেন না। মাঝে মাঝে খুব অবাক লাগে কিছু কিছু অনাহুত প্রাজ্ঞজনদের দেখে। এই খালি কলশিরা সারাদিন এবাড়ী ওবাড়ী ঘুরে ঘুরে বাজতে থাকে। ওদের দেখলে মনে হয় সারাদিন একটাই কাজ সত্যকে এড়িয়ে চলা আর জ্ঞানীকে শিক্ষিতজনকে ছোট করে দেখা।

কিন্তু হানিফ স্যার মোটেই তেমনটা নয়। তিনি নিজেই ছিলেন শিক্ষার এক ব্যতিক্রম বাতিঘর। যে প্রতিভা এখন বিরল। ঠিক এতটা শিক্ষার সাথে নিজেকে অষ্টেপিষ্টে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত রেখে সার্বজনীনত্ব  আর কার ছিল? এই শহরে বিচরণ করলে তেমন নাম বিগত ত্রিশ বছরে শ্রী জয়ন্ত কুমার দাশ স্যার ছাড়া আর কোন নাম? না নেই। এখন কোন শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষাগুরু নেই। কেবল আছে বিভিন্ন নামের স্যার, দেয়ালে, গাছে, গাড়িতে, বাড়িতে, তাদের উজ্জল রঙিন নামগুলি প্রতিদিন দেখি। ইদানিংকালে ছাত্র ছাত্রীদের মতোই তারা নাম লেখান কোন স্কুলে কিংবা কলেজে। আর পড়ান, না ঠিক পড়ান-না। কোচিং করান বাসায়। বাংলায়, ইংরেজি, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান কিংবা ভূগোল বা তথ্য-প্রযুক্তি, এমন বিষয়ভিত্তিক আছে আরও নানান বিষয়। সে কোচিং এক্সপার্টরা নিদারুন যোগ্য নিজ নিজ বিষয়ে। শুধু হালকা কিছু ঘাটতি তাদের নীতি নৈতিকতার বিষয়। তবে এক নীতির প্রশ্নে তারা সবাই অটল এক এবং অদ্বিতীয়। আর সেটা অর্থনীতি! শুধু এইটুকু  হলেই বাকি সকল নীতির সর্বসম্মত জলাঞ্জলী।

যদিও আমাদের হানিফ স্যার ছিলেন নিখাদ অর্থনীতির শিক্ষক। চাহিদা যোগান উপযোগিতা ব্যাষ্টিক এবং সামষ্টিক অর্থনীতি বিষয়ক সকল পথের একজন অত্যন্ত প্রাজ্ঞ মানুষ। তার পরেও আমরা তাকে সামাজিক, সাংস্কিৃতিক এবং প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞে যেভাবে পেয়েছি তা অবিস্মরণীয়। 

তাঁর প্রশাসনিক কর্মদ্যোগের বিস্তার এই শহর এবং জেলা শহর ভোলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও সমুজ্জল। আজকের যে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ তার কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে যে আধুনিক রূপ পেয়েছে, তার উদ্যোগ স্রষ্টা প্রফেসর মো. হানিফ। এই কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমারের প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী মূল ভবন ভেঙে পূর্বের অবয়বে যে নুতন সংস্কার, সেটা তাঁর হাতে। ব্যাপক বৈরী পরিবেশের মধ্যেও তিনি সক্ষম হয়েছিলেন এই কলেজের শতবর্ষ উৎসব উদ্যাপন করতে। কলেজের মূল ফটকে স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন মহাত্মা অশ্বিনী কুমারের সত্য, প্রেম, পবিত্রতার বাণী। এই কলেজের আজকের যে পরিচ্ছন্নতার রূপ, সে উদ্যোক্তাও তো স্যার। যত্রতত্র পোস্টার লাগানো যাবে না, কলেজ অবয়বের কোন দেয়ালে কোন কিছু লেখা যাবে না। সে উদ্যোগও সফল করে দেখিয়েছেন স্যার। বরিশাল বিশ^বিদ্যালয় আন্দলনের প্রতিটি পদক্ষেপের সর্বাগ্রে উদ্যোগী মানুষ প্রফেসর মো. হানিফ স্যার। ছিলেন ববির সিনেট মেম্বারও। এক সময় ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেই পালন করেছেন যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। কোথায় নয়? হাতেম আলী কলেজ, ইসলামিয়া কলেজ, যেখানেই গেছেন বৃক্ষে ফুলে শোভিত করেছেন সেই বিদ্যানিকেতন। কোন ছাত্র-ছাত্রীর আর্থিক অসংগতির খবরে সে দারুন উদ্বিগ্ন হতেন। সরাসরি বলতেন আমাকে একটু জানাবি তোরা। সব খবর তো জানতে পরি না আমি। আর্থিক কারণে পড়ালেখা থেকে দূরে সরে যাবে? না, সেটা আমি মানবো না। আমার কাছে নিয়ে আসবি আমি সাধ্যমত দেখবো। এ কথা স্যার রেখেছেন অজস্র ছাত্র ছাত্রীদের ক্ষেত্রে। মানুষ বরণীয় হয় কর্মে, যে কর্ম তাকে স্মরণীয় করে রাখে। স্যারের তেমন আনেক কর্ম আমাদের মনে আজও দেদীপ্যমান। মনে আছে আমরা অনেকেই তখন ছাত্র ব্যবস্থাপনাসহ অনান্য বিভাগের। আমাদের সাবসিডিয়ারি অর্থনীতি এবং হিসাববিজ্ঞান।

স্যার তখন কলেজ অধ্যক্ষ। সেই সময় কলেজের কিছু ছাত্র ছাত্রীদের মনে একটা তাগিদ জন্ম নিল। তারা ঠিক করলো তাদের এই প্রিয় বিদ্যাপিঠে একটি সাংস্কৃতিক কর্মক্ষেত্র তৈরি করবে। দেশ তখন বাঙালি চিন্তা চেতনার বিপরীত পথে হাঁটছে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ তখন নিষিদ্ধ। প্রতিদিন কলেজ ক্যাম্পাসে, শহরে, দেশে, বিভাজিত রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। সেই বিস্ফোরণ উন্মুখ পরিস্থিতির মধ্যেই ৭ সেপ্টম্বর ১৯৮৯। কলেজ ক্যাম্পাসে হানিফ স্যার উদ্বোধন করলেন, বাঙালি চিন্তা চেতনায় উদ্ভাসিত একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন, ‘উত্তরণ’। আমরা ভুলিনি। আমরা স্মরণে রেখেছি সে কথা। 

আমাদের স্পষ্ট স্মরণে আছে, ব্রজমোহন কলেজের শতবর্ষ উদ্যাপন মঞ্চ থেকে যখন এক এক করে উত্তরণ সাংস্কৃতিক কর্মীদের শরীরে ধারণ করা, তাদের নিজ উদ্যোগের শতবর্ষ স্মারক গেঞ্জি, যার উপরে লেখা ছিল মহাত্মা অশি^নী কুমারের বাণী (সত্য প্রেম পবিত্রতা)। সেটা টেনে হিঁচড়ে খুলতে উদ্যত হলো তাদানিন্তন জাতীয়তা বাদী ছাত্র নেতারা। সেই উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপনি কথা বললেন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে। মুহূর্তে এক সামরিক কর্মকর্তা মঞ্চে এসে বললেন, ‘আপনারা যে গেঞ্জি পড়ে আছেন, আমাকে একটা ঐ গেঞ্জি দেওয়া যাবে’? সঙ্গে সঙ্গে আমরা তার হাতে একটা গেঞ্জি তুলে দিলাম। তিনি গেঞ্জিটা হাতে নিয়ে অত্যন্ত চমৎকার ভঙ্গিতে এ পিঠ ও পিঠ দেখে সুন্দর করে ভাঁজদিয়ে হাতের কব্জির উপর ফেলে মঞ্চ ছেড়ে নিচে নেমে গেলেন। সামগ্রিক বিষয়টা আমাদের বুঝতে দেরী হলেও জাতীয়তাবাদী নেতারা খুব দ্রুতই বিষয়টা বুঝতে পেরেছিলেন। এর পরে আর কারো সাহস হয়নি উত্তরণ সাংস্কৃতিক কর্মীদের শতবর্ষের স্মারক গেঞ্জিতে হাত দেবার।

আমরা স্মরণে রেখেছি সব। না, ভুলিনি স্যার। ১৯৯২ সালের বাকসু নির্বাচনে বংলাদেশী জাতীয়তা বাদীদের ভরা ডুবির পর তারা কিভাবে আপনার উপর হামলে পড়েছিল। আপনার সেই ব্যান্ডিজ মাখা রক্তাক্ত হাতের ছবিসহ খবর ইত্তেফাক পত্রিকায় ছেপেছিলেন বরিশালের সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মাইনুল হসান। সারা দেশের মানুষ সে খবরে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। পরেরদিন আপনাকে দেখতে বদিউর রহমান স্যারের সাথে আপনার বাসায় গিয়েছিলাম। আপনি তখন দোতলার একটি খাটে জরোসরো হয়ে হাতটা বুকে চেপে বসে আছেন। কোন কথা বলছেন না খুব প্রয়োজন না হলে। রুম ভর্তি মানুষ। হঠাৎ ব্রজমোহন কলেজের সদ্য পরাজিত ছাত্র নেতাদের উপস্থিতি। ঘরে ঢুকেই রাগত স¦রে বলতে শুরু করলেন, ‘এখানে এত ভীড় কেন? দেখছেন না স্যার অসুস্থ্য? আপনারা যান-তো যান’। হঠাৎ এমন অসৌজন্যে অপ্রস্তুতরা রুম ত্যাগ করতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে একজন জিজ্ঞেস করলেন ‘স্যার বলেন তো অপনার ঐ প্রত্রিকার ছবিটা কে তুলেছে’? স্যার অত্যন্ত ধীরস্থির বললেন। ‘কত লোক এসেছে, আমি জানি না কে ছবি তুলেছে’। স্যার আমি কিন্তু জানি, আপনিও জানতেন কে ছবিটা তুলেছে। আপনি বলেননি। ছবি যে তুলেছিল সে তখন আপনার বিছানার পাশে বদিউর স্যারের সাথে বসা। সব স্পষ্ট স্মরণে আছে। কিচ্ছু ভুলিনি। ভুলিনি আপনার কন্ঠস্বর। চোখে ভাসছে আপনার ছোট ছোট পায়ে হেটে চলা, হঠাৎ সামনে পড়ে গেলে ঘাড় নাড়িয়ে জিজ্ঞেস করা, কিরে ভালো আছিস? কেন আসিস না, জানিস না বুড়োদের একটু খোঁজ খবর নিতে হয়? 
জানি, খুব বেশি করে জানি স্যার, এ কথা আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না এই শহরে। মাথায় হাত রেখে পরম ¯েœহে মানুষের মঙ্গল কামনা যারা করতে পারতেন সেই আলোকিত মানুষগুলো ধীরে ধীরে আমাদেরকে একা করে দিয়ে চলে যাচ্ছে। চারিদিকে অন্ধকার অসভ্যের জাল। মস্তিস্কের পরিশুদ্ধ চিন্তার সকল পথ শক্তির দম্ভরা ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলেছে। দৃষ্টির পথে এখন যাদের দেখি, ওরা সবাই একা শুধু নিজের পথে হাটে। চারিদিকে বিশুদ্ধ হতাসা! জানি না, এতটা আলোহীন পথের শেষ আমাদের কোথায় নিয়ে দাড় করাবে? সেথায় কি শুধুমাত্র নিয়ন আলোর চাকচিক্কেই উদ্ভাসিত হবো, মনের আলো বলে কিছু থাকবে না? নিখিলদা চলে গেলেন, আপনি চলে যাচ্ছেন, এর পরে কোথা পাবো এর উত্তর, কোথা পাবো সুন্দরের হাসি? আপনার সব শেষ আয়োজনে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে গেছে আপনার গুণমুগ্ধরা। ধীরে ধীরে পশ্চিম প্রান্তে সূর্যও আলোহীন হয়ে বলছে আমি চলে যাচ্ছি তোমরা অপেক্ষায় থেকো আলো হয়েই ফিরে আসবো আগামীতে। মাইক্রোফোনে ভেসে আসছে চার তাকবীর শেষে ‘আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহ্মাতুল্লা’ এবার আপনি পা বাড়ালেন পৃথিবীর শেষ গন্তব্যে। যেখানে উচ্চারিত হবে ‘মিনহা খালাকনাকুম অফিহা নুয়িদুকুম অমিনহা নুখরেজুকুম তারাতান নোখরা’।