বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮

সুকান্ত অপি

April 1, 2021, 10:48 p.m.

মাস্ক পরিয়ে দেয়ার হাত কতটা সুরক্ষিত?
মাস্ক পরিয়ে দেয়ার হাত কতটা সুরক্ষিত?
করোনা সতর্কতা প্রচার। - ছবি: এন আমিন রাসেল।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রোধে দেশে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার। সারাদেশে সরকারের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন এনজিওসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে করোনাভাইরাস রোধে সর্তকতা মূলক কাজ করছেন। যার প্রতিচ্ছবি আমরা পত্রিকা, টেলিভিশনে দেখতে পাচ্ছি। ভালো উদ্যোগ। কিন্তু সেখানেও প্রশ্ন থেকে যায়, সতর্কতা মূলক কাজ করতে গিয়ে আমার একে অন্যের মুখে মাস্ক পড়িয়ে দেই। সেখানে কি আমাদের সতর্ক থাকা উচিৎ? অতি উৎসাহে আমরা ভীতি ডেকে আনছি না তো? প্রতিদিন করোনা শনাক্ত, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এদিকে বরিশালে করোনা পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় দশগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে মৃত্যুর হার বিগত বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

তবে এই সুরুক্ষা সামগ্রী বিতরণে মধ্যে সর্তকতা এবং সচেতনতার একটু কমতি আছে নিঃসন্দেহে বলা যায়। যারাই সচেতন-সতর্কতা কর্মকান্ড নিয়ে বের হয়েছে তাদেরও বোধহয় আর একটু সচেতন হওয়া দরকার। হাত দিয়ে মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছে সকলে। সেই হাত কতটা সুরক্ষিত সেখানেও প্রশ্ন। নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে করোনা সচেতনতার জন্য সমাবেশ করা হয়। সেই ছবি দেখলে মনে হয় জনসমুদ্র। আমরা আর কখন শুধরাবো?

গত বৃহষ্পতিবার (০১ এপ্রিল) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগী ছিল ১০০জন। গত বুধবার করোনা ওয়ার্ডে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন ৯৩জন। যার মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৫ জনের। গত মঙ্গলবার ভর্তি থাকা ৮৭ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত ছিলো ২৫জন এবং গত সোমবার ভর্তি থাকা ৫৪ জনের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ২২জনের। 

বরিশাল যেই পথে এগিয়ে যাচ্ছে, এমন অবস্থা থাকলে হয়ত করোনায় আক্রান্ত রোগীর স্থান দেয়া সম্ভব হবে না। গত বুধবার শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. সুদীপ হালদার তাঁর ফেসবুকে পরিস্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন বর্তমানে কেমন অবস্থা বরিশালের করোনা রোগীদের। রোগী হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় আইসিউ বেড খালি নাই। খুবই হতাস তিনি। সবাইকে মাস্ক পরার অনুরোধ জানিয়েছেন। জানিয়েছেন সর্বোচ্চ সর্তক হওয়ার কথাও। 

বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারকে দেখা যাচ্ছে হ্যান্ড মাইক নিয়ে পথে নেমেছে জনসাধারণকে সচেতন, সতর্ক করার জন্য। বরিশাল নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করারও উদ্যোগ নিয়েছেন। বাজার-মহল্লায় বেড়িয়ে পরেছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বিতরণ করে যাচ্ছে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ করোনার ছোবল থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সুরুক্ষা সামগ্রী। 

আর কত হইহুল্লোড় চলবে! শিক্ষা’ত কেউ কম পাইনি। অনেকের আপনজন হারিয়ে বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। আর আমরা আতশ বাজিসহ নানা উৎসবে মেতে উঠছি। একসঙ্গে আমরা আকাশ ছুঁতে চাই। মাস্ক পড়া যে জরুরী, সতর্কতা জরুরী, সচেতনতা জরুরী এই প্রসঙ্গটি কেন জানি আমরা ভুলে যাই। আকাশ ভেঙ্গে মাথার উপর পরা বাকি আর কত সময়, তাও র্নিধারণ হবে অথবা হতে যাচ্ছে। 

যে যেখান থেকে যতটুক উদ্যোগ নেই না কেন, আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সময় এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে আমি যে সুরক্ষিত সেই নির্ধারণ আমি করতে পারি না। তাই অন্যকে সুরক্ষিত করবার আগে আমাকে সুরক্ষিত হতে হবে।

নগরীর মহাজনদের কাছে  অনুরোধ। এবার সকলকে ঘরে ফেরান।  না হলে সমুদ্রে ভাসারও জায়গা হবে না।