রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭

মো: সাগর আকন, বরগুনা প্রতিনিধি

Aug. 21, 2019, 5:41 p.m.

বরগুনায় সন্ধান মিলেছে নতুন প্রজাতির ফুল নাইট কুইন!
বরগুনায় সন্ধান মিলেছে নতুন প্রজাতির ফুল নাইট কুইন!
(নাইট কুইন) রাতের রাণী। - ছবি: সাগর আকন, বরগুন।

বরগুনায় ২৩ বছর ধরে একটি গাছে ধারাবাহিকভাবে ফুটছে নাইট কুইন (রাতের রাণী)। পাতার যেকোনো দিক থেকে ছোট একটি গুটির মতো বের হয়ে আস্তে আস্তে তা বড় ফুলে পরিণত হয়। আর সেই ফুলটিকে বলা হয় নাইট কুইন বা রাতের রাণী।

মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাতে বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরিচন্না ইউনিয়নের লাকুরতলার বাসিন্দা জহিরুল হক কনু হাওলাদার মাস্টার বাড়িতে গিয়ে বাঁশের ঝিঙ্গায় (মাচায়) দেখা যায়, একটি গাছে প্রায় অর্ধশতাধিক নাইট কুইন ফুল ফুটেছে। আরও প্রায় ৩০টি ফুল ফোটার অপেক্ষায় রয়েছে।
রাতের আঁধার আলো ভেদ করে ফোটে ফুলটি। যে কারণে এ ফুলটিকে ডাকা হয় ‘নাইট কুইন’ নামে। রাতের সঙ্গে রয়েছে নাইট কুইন ফুলের বিশেষ সম্পর্ক। সন্ধ্যা থেকেই একটু একটু করে ফোটার প্রস্তুতি নিতে নিতে গভীর রাতে তার অপার সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হয় ফুলটি। সারা রাত সৌন্দর্য আর সৌরভ বিলিয়ে ভোরের আলোয় মিলিয়ে যায়। ‘এক রাতের রাণী’ নাইট কুইন ফুলকে ধরা হয় সৌভাগ্য আর পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে। বলা চলে, যার বাড়িতে এ ফুল ফোটে তার বাড়িতে সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে আসে ফুলটি! সৌরভে ভরা নাইট কুইন ফুল দেখতে সাদা রঙের পদ্ম ফুলের মতো। গাছের পাতা থেকে জন্ম নেওয়া ফুলগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি মন মাতানো গন্ধ। যেন প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য একঅনন্য উপহার।

তথ্য দেওয়া তৌহিদুল ইসলাম অয়ন বলেন, সন্ধ্যা থেকেই ফুল প্রস্ফুটিত হচ্ছিল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাইট কুইন নিজেদের সৌন্দর্য মেলে সৌরভ ছড়াতে থাকে। ফুলটিকে সচরাচর দেখা যায় না। দুর্লভ এ ফুলের জন্ম হয় পাতা থেকে। আর সেই পাতা থেকেই প্রস্ফুটিত হয় অসাধারণ নাইট কুইন।

তিনি আরও বলেন, গত ২৩ বছর ধরে এ গাছ থেকে ফুল ফুটতে দেখছে, দাদা, বাবা, চাচাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। অয়নের চাচাতো ভাই তৃর্ন বলেন, প্রতিনিয়ত গাছটির পরিচর্যা করি আর দিন গুণি ‘কবে দেখা মিলবে রাতের রাণীর। ফুল ফুটলেই বিস্মিত চোখে বিস্ময়কর রাতের রাণীর সৌন্দর্য আর সৌরভ উপভোগ করতে থাকি।

অয়নের সঙ্গে আলাপচারিতার মধ্যেই নাইট কুইন ফোটার খবরে একনজর দেখতে অনেকেই ছুটে আসেন সেই বাড়িতে। বাসায় নাইট কুইন ফুল ফুটেছে, এ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেও ভীষণ ভালো লাগছে বলে জানান তৃর্ন ও তার পরিবারের লোকদের।
 



এসএইচঅ/ভোরের আলো