শুক্রবার, ২৩ অক্টোবার ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

Sept. 6, 2019, 11:10 p.m.

ভাদ্রের ‘তাল’
ভাদ্রের ‘তাল’
তাল। - ছবি: ভোরের আলো

এখন তালের মৌসুম। বাজারে গেলেই দেখা মিলবে গুচ্ছগুচ্ছ করে রাখা ভাদ্রের বৃত্তাকার তাল। অন্য ফলের মতো তালও বেশ উপকারী ফল। মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায়ও এর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তাছাড়া তাল দিয়ে তৈরি নানা ধরনের সুস্বাদু পিঠা ও খাদ্য উপাদান আমাদের গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য।

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন আকারের তাল। দামও বেশ চড়া। মাঝারি আকারের একেকটি তালের দাম পঞ্চাশ থেকে সত্তর টাকা। আর বড় আকারের তালের দাম নিচ্ছে এক শত থেকে এক শত ত্রিশ টাকা পর্যন্ত।

সবজি বিক্রেতা অনন্ত কপালী বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাজারে তালের সরবরাহ কম। তাই দামও কিছুটা বেশি। এখন গ্রামাঞ্চলে আগের মতো তাল পাওয়া যায় না, তালের কচি সাস তিন মাস আগেই মানুষ গাছ থেকে পেরে খেয়ে ফেলে। ফলে পাকা তালের সংকট তৈরি হয়।’

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বারটান) সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক প্রধান ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, তাল অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং গরম মৌসুমের ফল। তাল কচি এবং পাকা দুই অবস্থায় খাওয়া যায়। মানব শরীরের বিভিন্ন রোগপ্রতিরোধে এই ফলের অবদান রয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে তালের পায়েস বেশ প্রসিদ্ধ। আর তালের পিঠার সুখ্যাতি তো রয়েছেই।

গুণ’ বিশ্লেষণ করে এ গবেষক বলেন, পাকা তাল প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশটার পুষ্টিগুণ হলো- খাদ্যশক্তি ৮৭ কিলো ক্যালরি, জলীয় অংশ ৭৭ দশমিক ৫ গ্রাম, প্রোটিন বা আমিষ ৮ গ্রাম, চর্বি ১ গ্রাম, শর্করা ১০.৯ গ্রাম, ফাইবার বা আঁশ ১ গ্রাম, মিনারেল বা খনিজ লবণের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২০ মিলিগ্রাম ও আয়রন ১ মিলিগ্রাম। আর এতে কয়েক প্রকারের ভিটামিন রয়েছে। এরমধ্যে ভিটামিন-বি এখানে বেশি পরিমাণে আছে: যথাক্রমে ভিটামিন-বি১ অর্থাৎ থায়ামিন ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি২ অর্থাৎ বিরোফ্লামিন ০.০২ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন-বি৩ অর্থাৎ নিয়াসিন রয়েছে ৪ মিলিগ্রাম। এছাড়াও এই ফলে ভিটামিন-সি আছে ৫ মিলিগ্রাম।

ফলের উপকারিতার কথা উল্লেখ করে ড. রাজ্জাক বলেন, তাল কিন্তু এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। আর এন্টি-অক্সিডেন্ট সম্বলিত খাবার হওয়ায় তাল ক্যান্সার প্রতিরোধে কিছুটা ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ফল ভিটামিন-বি এর আধার হওয়ায় এর অভাবজনিতরোগ যেমন- মুখের পাশে ঘা বা ক্ষত, বেরিবেরি রোগ প্রভৃতি রোগ নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ফলে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস থাকার কারণে দাঁত এবং হাঁড়ের ক্ষয়রোধে সাহায্য করে। ফাইবার থাকার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে থাকে।

আসলে রোগ প্রতিরোধে মৌসুমী যে কোনো ফল খাওয়ার অভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। যখন যেটা হয়, তখনই সেটা খাওয়া উচিত। এতে আমাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকা যাবে বলে জানান ফল গবেষক ড. মো. আবদুর রাজ্জাক।