মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বার ২০২১, ৭ আশ্বিন ১৪২৮

অনলাইন ডেস্ক

Sept. 15, 2021, 8:20 p.m.

নিউমোনিয়ায় এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজারের অধিক শিশু
নিউমোনিয়ায় এক মাসে হাসপাতালে ১০ হাজারের অধিক শিশু
বাগেরহাটের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আশংকাজনক হারে বাড়ছে নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা - ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আশংকাজনক হারে বাড়ছে নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালে গত এক মাসে ১০ হাজারের অধিক শিশু নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি শিশুদের পরিসংখ্যান মিলিয়ে নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের ইতিমধ্যেই সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

এই সময়ে সরকারি হাসপাতালগুলোর আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন আক্রান্ত আরও ২০ হাজারেরও অধিক শিশু। গত কয়েকদিনে বাগেরহাট সদর হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জেলার ৯টি উপজেলায় গত ১৫ আগস্ট থেকে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে এসব শিশুদের অর্ধেকই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও বেসরকারি ক্লিনিক এসোসিয়েশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মূলত ভাদ্র মাসের গরম, হঠাৎ বৃষ্টির ঠাণ্ডাজনিত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট সদরসহ ৯টি উপজেলায় নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রতিবছর আবহওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হলেও হটাৎ করে গত ১৫ আগস্ট থেকে বাগেরহাট জেলাজুড়ে নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। 

 

এখন প্রতিদিন নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত অসুস্থ শিশুদের নিয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালসহ জেলার উপজেলা হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ছুটে আসছেন অভিভাবকরা। গত কয়েক দিনে বাগেরহাট সদর হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হটাৎ বাগেরহাটের সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা।  

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শিহান মাহমুদ জানান, বাগেরহাট সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা ২৪টি। গত ১৫ আগস্ট থেকে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত কয়েকদিনে বাগেরহাট সদর হাসপাতালসহ ধারণ ক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। প্রতিদিনই আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় চাপ সামাল দিতে মেঝে ও বারান্দায় ও রোগী ঠাই দিতে পারছিনা।  এসব শিশুদের অর্ধেকই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। 

বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, গত একমাসে শুধু বাগেরহাট সদর হাসপাতালে সাড়ে ৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। আর সময়ে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ১০ হাজারের বেশী শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। জেলা সদরসহ উপজেলা হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যার চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ হলেও আমরা হাসপাতালে আসা সব আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।