সাইফুর রহমান মিরণ

Sept. 20, 2019, 10:33 p.m.

ক্যাসিনো বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রলীগ-যুবলীগ, এতদিন কি কর্তৃপক্ষ ঘুমিয়ে ছিলেন?
ক্যাসিনো বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রলীগ-যুবলীগ, এতদিন কি কর্তৃপক্ষ ঘুমিয়ে ছিলেন?
সম্পাদকীয় - ছবি: ভোরের আলো

বাংলাদেশ হঠাৎ শোনা যাচ্ছে ক্যাসিনো বাণিজ্য। যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় চলছে ক্যাসিনো ক্লাবগুলোতে অভিযান। উদ্ধার হচ্ছে মাদক, অস্ত্রসহ কোটি কোটি টাকা। ঢাকার অভিযান এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বিদেশি আদলে ওই ক্যাসিনো টানছে যুবসমাজকে।

ক্যাসিনো আসলে কি? সাধারণ মানুষের কেসিনো সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা নেই। সাধারণ মানুষ কিছুটা পরিচিত হাউজি, জুয়া আর মাদকের সঙ্গে। কেসিনো অনেকটা আভিজত্যপূর্ণ জুয়া। হাউজি, জুয়ার কোট নিয়ন্ত্রকরা কিছুটা মাদদেকর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সেখানে অন্য বিষয়গুলো থাকে গৌণ। কিন্তু কেসিনো বণিজ্যের সঙ্গে টাকার পরিবর্তে চলে ডলারের খেলা। সঙ্গে মাদক, অস্ত্র এবং নারীর মাদকতা। এই খেলায় যারাই জড়িয়ে পড়ে তাদের ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাসিনো মানেই ডলারের ছড়াছড়ি। চলে রঙিন পানির খেলা। প্রতিদিন জাহার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য চলে। এই বাণিজ্যর সঙ্গে যুক্ত ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

বাংলাদেশে এই বাণিজ্য শুরু হয় গত একযুগ ধরে। গত ছয় বছরে এর ব্যাপকতা বেড়েছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ ছাড়াও ব্যপকসংখ্যক যুবক এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। ক্যাসিনোর ভয়াবহতা সম্পর্কে আচ করতে পেরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসব কেসিনোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় অভিযান। গতকাল এক যায়গায় অভিযান চালিয়ে ২০০ কোটি টাকার এফডিয়ার, নগদ টাকা, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মূল মালিকদের ধরতে পারেনি। এরকম অসংখ্য কেসিনো ছড়িয়ে ছিটেয়ে আছে ঢাকা অভিযাত এলাকায়।

প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দেওয়ার পর কেন ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন কি আগে জানতো না? তাহলে এতোদিন কি কর্তৃপক্ষ ঘুমিয়ে ছিলো। না কি ঘুমের ভান ধরেছিলো। না কি তারাও এই ক্যাসিনো বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের এই ক্যাসিনো বাণিজ্যের ভাগ পেতেন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ঢাকা শহরে ৬৪ ক্যাসিনোর ৬৩টি নিয়ন্ত্রণ করতো ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ। একটির সঙ্গে রাশেদ খান মেননের নামও উেেঠ এসেছে। বর্তমানে সরকারি দল ছাত্রলীগের প্রধান কাজ হচ্ছে টেন্ডার, চাঁদাবজী, অস্ত্র, মাদক ব্যবসা। হালনাগতে শুরু হয়েছে কেসিনো বাণিজ্য করা। রাতারাতি হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যান এক একনজন ছাত্রলীগ নেতা। এই বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সম্পাদককে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটাও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। প্রধানমন্ত্রী না বললে কোন কিছুই হচ্ছে না। তাহলে অন্য মন্ত্রী, নেতাদের কাজ কি?

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর ক্যাসিনো ব্যবসায়ীরা গাঢাকা দিয়েছে। ঢাকা বিভিন্ন ক্লাবের নামে ছাত্রলীগ যুবলীগ এই ক্যাসিনো বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল। ফলে নামিদামি অনেক খেলোয়ড়রা ক্লাবে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এমন বাস্তবতায় এইসব ক্যাসিনোর বিরুেেদ্ধ অভিযান শুরু হয়। অভিযোগ আছে, কেসিনোর মালিকরা প্রতিদিন যে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করতেন, তার বড় একটা অংশ পৌঁছে দেওয়া হতো কর্মকর্তাদের কাছে। ফলে তারা বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করতেন। ক্যাসিনো বাণিজ্যের কারণে যুবসমাজ মাদক, অস্ত্রসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

আমরা চাই, সরকার ছাত্রদের শিক্ষাঙ্গনে ফেরত পাঠাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে যারা, মাদক, অস্ত্র, চাঁদাবাজি এবং ক্যাসিনো বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। যাতে আগামীতে কোন ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিংবা অন্য কোন নামে বেনামে এমন ধরণের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে।