মঙ্গলবার, ০৪ আগষ্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

Sept. 23, 2019, 10:44 p.m.

‘ভোটার তালিকা ঘটনায় শুদ্ধি অভিযানে ইসি’
‘ভোটার তালিকা ঘটনায় শুদ্ধি অভিযানে ইসি’
নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এনআইডি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলামসহ অন্যরা - ছবি:

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় নির্বাচন কমিশন শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। জিরো টলারেন্স এগেইনস্ট করাপশন। এটা বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। 

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য যা যা করতে হয় তাই করা হবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সর্বোচ্চ কোনো লেভেলের কর্মকর্তারা এ কাজে জড়িত- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অচিরেই আপনারা তাদের নাম পরিচয় জানতে পারবেন। 

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে রোহিঙ্গদের ৬১ জনের তালিকা পেয়েছি যারা ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে- তারা কিভাবে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করল। কারা তাদের সহযোগিতা করল। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় সম্পৃক্ত করার কাজে ইসির কত জন জড়িত সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ কাজে কতজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছি এ মুহূর্তে নাম বলতে চাই না। আমরা পর্যায়ক্রমে তাদের নাম প্রকাশ করব। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে এর সঙ্গে কতজন জড়িত। তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার স্বার্থে আমরা এখনই তাদের নাম প্রকাশ করছি না। তবে এই সংখ্যা ১৫ এর মত। এর অধিক নয়। 

তিনি বলেন, ইসির এনআইডি বিভাগ অনিয়ম দুর্নীতি বের করতে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে। এনআইডিকে সুরক্ষিত করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেয়া দরকার আমরা তাই করব। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই. আমাদের মূল ডাটাবেজ সুরক্ষিত আছে। যারা এখানে ঢুকার অপচেষ্টা করেছিল তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে আইটি বিভাগ এই অপচেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করেছে। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। জিরো টলারেন্স এগেইনস্ট করাপশন। এটা বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। আর এটি বাস্তবায়ন করতে অ্যান্টি কাউন্টার টেরিজম, সিইডি, দুদক, এসবি সহায়তার প্রয়োজন হয় আমরা তাদের সহায়তা নেব। 

ল্যাপটপ চুরি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১২ সালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে ৪টি এবং বিভিন্ন সময় আরো তিনটি ল্যাপটপ হারিয়েছিলো। এইসব ল্যাপটপ দিয়ে ইসির সার্ভারে প্রবেশ করা যাবে না। কারণ সার্ভারে প্রবেশের জন্য ইসি নির্ধারিত পাসওয়ার্ড দেয়া মডেম লাগবে। নির্বাচন কমিশন থেকে বিভিন্নভাবে চাকরিচ্যুতরা যাতে কোনো ভাবেই নির্বাচন কমিশনের কোনো কাজে সংশ্লিষ্ট হতে না পারে সেজন্য মাঠ পর্যায়ে কঠোর নির্দেশা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধের কারণে ইসি থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছে তাদের তালিকা করে সেই তালিকা ধরে আমরা বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছি । ইসির কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছি যাতে কোনো ভাবেই অস্থায়ী ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেয়া না হয়। ডাটা এন্টি অপারেটর হিসেবেও যাতে তারা নিয়োগ না পায় তারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যে সমস্ত প্রজেক্ট থেকে ইসিতে জনবল সরবরাহ করা হয় তাদেরও এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানও যদি এইসব লোক নিয়োগ দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, চাকরিচ্যুতদের আমরা কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখছি। ইতিমধ্যে আমরা বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছি যাতে তারা কোনো ভাবেই ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ করতে না পারে। রোহিঙ্গাদের ভোটার করার ব্যাপারে যাদেরই সম্পৃক্ততা পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি এবং তা অব্যাহত থাকবে। সে যেই হোক না কেন। এখানে যদি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করতে হয় আমরা তা করব। ফৌজদারী মামলা করতে হলে আমরা তা করব। কারো বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আমরা দুদকের সহযোগিতা নেব। দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য যা যা করতে হয় তাই করব। আমরা এখন পর্যন্ত কাউকে ছাড় দেইনি। ইতিমধ্যে তদন্তে আমাদের ইসির বিভিন্ন প্রজেক্টের অনেকের নাম এসেছে। এমনকি আমাদের ইসির অনেকের নাম এসেছে। তাদেরও যাচাই বাছাই করে আইনের আওতায় আনা হবে। 

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটারও হওয়া ঠেকাতে ইসির কর্মকর্তাদের বদলি করা হবে যাতে তারা একই জায়গায় দীর্ঘদিন কাজ করতে না পারে। একই সঙ্গে আমাদের নিবন্ধন কর্মকর্তাদের পাসওয়ার্ড অন্যরা ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য কড়া নজরদারি করা হবে। যদি কেউ হস্তান্তর করে তাহলে এই ব্যর্থতার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।