শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮

আজমল হোসেন লাবু

Dec. 30, 2021, 11:50 p.m.

বরিশাল প্রেসক্লাব নির্বাচন: কি হবে এখন?
বরিশাল প্রেসক্লাব নির্বাচন: কি হবে এখন?
মুরাদ আহমেদ, কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল ও মানবেন্দ্র বটব্যাল । - ছবি: ভোরের আলো।

নির্বাচন নাকি নির্বাসনে? এ কথা এখন প্রায়শই আনেকে বলেন। এ নিয়ে সত্য মিথ্যার দ্বন্দ্ব যে নেই, সে কথা বলছি না। তবে ঢালাও যে মেনে নিচ্ছি সেটাওতো সম্ভব নয়। এ কথাও বলছি কেউ। মানে সেইসকল কেউ। যাদের মাধ্যমে ভোট কার্যক্রম সংবাদ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। তারা কারা? নিশ্চয়ই একথায় তার প্রকাশ ওরা সাংবাদিক। যারা কলমের খোঁচয়া কিংবা ক্যমেরার সামনে চেষ্টা করেন অবশ্যই কেউ কেউ চেষ্টা করেন, সঠিক সত্য উপস্থাপনের। আবার মিথ্যা যে বলেন না, দৃঢ়চিত্তে সে কথাই বা কে বলতে পারে?

আমি সমগ্র বংালাদেশের বিচারে বলতে পারি না। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত শহীদ আবদুর রব সেরনিয়বাত বরিশাল প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে বলবার একটা অযাচিত সুযোগ তো পেয়ে যেতেও পারি? হ্যা নির্বাচন। একটা নির্বাচনকে ঘিরে যা যা সঙ্গত (সময়ের সহজাত প্রেক্ষাপটে) সম্ভব এবং প্রায় তার সকল প্রয়োগের ব্যবহার যথাযথ নিশ্চিত হওয়া গেছে। না, আমার কাছে প্রত্যক্ষ উদাহরণ বা দেখাবার মতো কোন উপকরণ নেই। যা আছে প্রচলিত কথা, অর্থাৎ জনশ্রুতি, যা থাকে সকল নির্বাচনেই। যেটা জানেন আপনারা সবই। যেমন টাকা, পানি, আরো অনেক অনেক কিছু কিছু! আমি নই, তবে জানে ওই দুই হাত। যে হাত দিয়েছে, আর যে হাত নিয়েছে। আর সে কথা জানে কিছু কান। যার মাধ্যমে এই সব কথা ছড়িয়ে পড়ে। আর একটা কথা নির্বাচন শেষে খুব প্রচারিত হয়। সেটা, বেঈমানি! এবারের এই নির্বাচনের ফলাফলের পর অন্তত এবার, অর্থাৎ ২০২১ এর শেষ প্রান্তের এই নির্বাচনে যখন ফলাফল, প্রতিদ্বন্দ্বী তিন সভাপতি যারা একেবারে অভূতপূর্ব সমান ভোটের অধিকারী হয়েছেন। যাদের প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ২৪+২৪+২৪= টাই। এমন একটি নির্ঘাত অপরিনামদর্শী পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বলা মোটেই সম্ভব নয়। কোনো ভোটারের বেঈমানির কথা। কারণ এই ‘টাই’ সমাধানের ভোট আবার হবে। অতএব বেঈমান যদি কেউ থেকেও থাকে তার বেঈমানিকে রোহিত করবার দুঃসাহসী উদ্যোগ গ্রহণের মতো বোকামী নিশ্চয়ই কেউ করবেন বলে মনে হয় না। তার মানে হলো। যদি কেউ নীরবে অপ্রকাশ্যে থেকে থাকে বেঈমানরূপী, তাকেই সমূলে মূল্যায়ন করতে হবে ফের। আরও বেশি দাম দিতে হবে ভোটের। তার পরেও পাওয়া কি যাবে ভোটটি বা ভোটগুলো? এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোন কথা কি হয় কোথাও? এ কথা সব থেকে বেশি জানেন ওই তিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী! যারা কিছুই মিলাতে পারছেন না এই ভোট ফলাফলের পরে। বোধ করি একেই বলে নির্বাচন। যা এখন সর্বজনবিধিত। 

সে যাই হোক, সে ভাবনা ভাবুক তিন সভাপতি প্রার্থী। মানবেন্দ্র বটব্যাল, কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল, এবং মুরাদ আহমেদ। আমরা অপেক্ষার বিশ্লেষণে থাকি। কি হতে পারে তাই নিয়ে। কি হবে? এদের মধ্যে কারো ধারণা (লোক মুখে শোনা)। কিনতে যখন নেমেছি, পয়সা যখন আছে, আর টাকা দিলেই যখন যাকে তাকেই কেনা যায়, ছোট বড় কিংবা মুরুব্বী তাহলে কিনবো না কেন? আমিতো কোন আদর্শ কিনছি না। এরাতো কেউ আদর্শবান নয়। এই নির্বাচনে (দেশ) আদর্শের থোরাই জ্ঞান করা হয়েছে। কেউ কেউ বলছে ওদের একটাই আদর্শ ‘কড়ি’। হাতে গোনা কয়েক জন বাদ দিলে বাকিদেরতো একই আওয়াজ ‘কড়ি ফেলো ভোট নাও’। তাছাড়া তার বাইরের বর্তমান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী স্পষ্টতো দুই আদর্শের, অন্ততো প্রচলিত ধারণা তাই বলে। যেমনটা বাংলাদেশে চলে এবং চলছে এখনো। তবে বরিশাল প্রেসক্লাব এবং তার সদস্যরা রাজনৈতিক আদর্শে ঠিক কতজন, কোন রাজনৈতিক আদর্শে বলিয়ান সেটা কিন্তু তিন সভাপতি পদপ্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ২৪+২৪+২৪ এই ধরণ থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়। এই ধরণের ফলাফলের ডাল্মে অবশ্যই কুচ কালা হে। আর সে কালার নাম (জনশ্রুতি হলো) টাকা। কেউ বসে গেলে অন্যরা তার দিকে আঙুল তুলে বলবে এর মধ্যে কালা আছে। আবার যে বসে গেলো সেও হয়তো বলবে ওইযে ওরা যে এখনো দাঁড়ানো তার মধ্যেও কালার ব্যবহার আছে। অর্থাৎ কেউ বসে থাকবে তো কালা, কেউ দাঁড়িয়ে থাকবে তো কালা। 

তবে এর বাইরেও কথা আছে প্রচলিত। যা পক্ষ বিপক্ষ নির্ধারণ করে ফেলবে হয়তো পরবর্তী সময়। যেমন কেন শুধু ক্লাবের নাম, কেন শুধু বরিশাল প্রেস কøাব নয়? কার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য স্থাপিত হলো? কে সে? কেন? কেন তাকে অনবরত পাহাড়ায় থাকে পুলিশ? কেন চরমোনাই হুজুরের লোকজন দেখেছি পাহাড়ায়? তখন তার উদ্যোক্তা কোথায় ছিলেন? কোথায় ছিলেন বাকি সদস্যরা? মুক্তিযুদ্ধের সময় এমন মানুষের ভূমিমকা কি ছিল। কেন জনশ্রুতি তার শরীরের কোথাও মুক্তিযোদ্ধাদের বেওনেটের দাগ আছে? হাওয়ার সঙ্গে সক্ষতার খবরওতো সোনা যায়। অপরাদিকে আছে দুই গুরু শিষ্য, আছে তাদেরও নীতি বিশ^াসের ভিন্নতা। তার পরেও তাদের মধ্যে সমন্বয় ঘটে যেতে পারে কিংবা পারতো ভোটের আগেই। কেন হলো না? সে বলা মুসকিল। তবে ইতিমধ্যেই শিষ্য সড়ে দাঁড়াবার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। দিতেই পারেন, নিশ্চয়ই ভোটের প্রথম পর্বের ভোটে তার একটি মনোস্তাত্বিক বিজয়তো হয়েছেই। তবে ঘোষণার পরে এখন তিনি কোন পথে হাঁটবেন? এ প্রশ্ন এখন উঠবেই।

কারণ নানান বিবেচনায় প্রথম পর্বের ভোট সমাপ্ত। এবারের বিবেচনা জটিল। এই মুহূর্তের বাংলাদেশ, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপন করছে। উদ্যাপিত হচ্ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী। এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে বাঙালির অস্তিত্ব নির্মাণের পথে এবং এই সময়ে ভালো থাকবার প্রত্যয়ে সাংবাদিক বন্ধুরা দ্বিতীয়বার আর সিদ্ধান্তে ভুল করবেন বলে মনে হয় না। লাভ ক্ষতি আর অস্তিত্বের সংকট যাদের হাতে ঘনিভূত হয়েছে, ইতিমধ্যে নিশ্চয়ই তাকে ভেঙে বের হয়ে আসবে সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতা। এই শহর, হয়তো দেশ, দেখবার অপেক্ষায় থাকবে বরিশাল প্রেসক্লাবের যোগ্যতর সাংবাদিক বন্ধুদের নেতৃত্ব নির্বাচন।