শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮

কবিতা

Jan. 6, 2022, 2:03 p.m.

কবি আশরাফুলের কবিতা 'বহুরূপী আমি'
কবি আশরাফুলের কবিতা 'বহুরূপী আমি'
কবি। - ছবি:

বহুরূপী আমি
মোঃ আশরাফুল ইসলাম


আমি অশান্ত পথিক, আমি বাঁধনহারা 
মায়ার বাঁধনে আমি পরিনা ধরা,
অবিরত দিগ্বিদিক ছুটে চলা,
আমার গন্তব্য মহাবিশ্ব ধারা!
আমি নজরুলের বিদ্রোহী, উন্নত মম শির,
সুকান্তের আঠার বছর বয়স, দুঃসাহসী বীর,
আমি তিতুমীরের বাশের কেল্লা, 
ক্ষুদিরাম হ'য়ে জন্মেছি আরেক বেলা
আমি মহাবিশ্বের এক মহাবিষ্ময়!
আমার নেই কোন ভয়,
মৃত্যুপুরীতে কোটি মানবের ছুটাছুটি ভয়ে কেঁপে কাতর,
সেখানে আমি ঠায় দাড়িয়ে থাকি যেন অনঢ় মূর্তি পাথর।
আমি আরবের লাঘামহীন ঘোড়া,
মরুর বুকে তুলি ধূলিঝড়, বেদুঈন সবে দিশেহারা 
আমি ভেঙ্গে দেই সকল গোলক ধাঁধা,
আমি ডিঙিয়ে যাই যত পর্বতসম বাঁধা। 
আমি মুছে ফেলি জীবনের সকল ব্যর্থতা,
নতুন করে লিখি আমার জীবনের খাতা। 
শত সহস্র কোটি মানুষের ভীড়ে,
আমি উঠেছি ধরণীর বুক চিরে।                  

আমি শরতের শান্ত আকাশ,
সন্ধ্যার মৃদু শীতল বাতাস।
আমি রংধনুর সাত রঙ,
রাঙিয়ে দেই মানব জীবন।         
আমি বর্ষার ভেজা কদম ফুল,
অন্যের ব্যথায় সদা ব্যকুল।                        
আমি সদ্য ফোটা লাল গোলাপ,
মিথ্যার সাথে করি না সংলাপ।                                      
আমি ট্রয় যুদ্ধের একিলিস,
আমি রূপকথার হারকিউলিস,
আমি অকুতোভয়, আমি দুঃসাহসী এক বীর,
শত্রুকে ধ্বংসে ছুটি নিয়ে তরবারি আর তীর।
আমি ডিনামাইট, আমি এটম বোমা,
ধূলিসাৎ করি শক্র শিবির যখনই দেই হানা।                      
আমি ভূমিকম্প হয়ে কাপাই পৃথিবী!
শান্ত সাগরের বুকে উঠাই অশান্ত ঢেউ,
আমায় রুখবে, ধরণীতে আছে এমন কেউ?
আমি টর্নেডো, আমি  জ্বলোচ্ছ্বাস,  
আমি টালমাটাল করি সাগর-মহাসাগর, 
আমি কাল বৈশাখীর ঝড়
ভাঙ্গি পৃথিবীর খেলাঘর, 
আমি আপনকে করি পর,
আমি সর্বনাশা খরস্রোতা নদী, 
এপাড় ভাঙ্গি ঐ পাড় গড়ি।                               

আমি নক্ষত্ররাজ, আমার আলোতে মহাবিশ্ব করে স্নান,
আমি জ্বলে উঠলে ঐ সূর্যও হয়ে যায় একবারে ম্লান।
আমি দুর্বার গতিতে ছুটে চলা পথিক
অনবরত ছুটাছুটি দিগ্বিদিক,
দেখ, দূর আকাশের ঐ চন্দ্র-সূর্য-তারাগুলি,
ঐখানে আমি ছুটে চলি উড়াই পদধূলি! 
আমি দাপিয়ে বেড়াই মহাবিশ্ব, কাঁপিয়ে বেড়াই ধরা,
আমার তুড়িতে শোষক শ্রেণী হয় দিশেহারা।           
পাচাটা দাললরা সব শোষকের ভক্ত,
শ্রমজীবী-শোষিতশ্রেণী আজ রক্তাক্ত।
আমি জন্মেই উচিয়েছি তর্জনী আঙ্গুল,
আমি আতঙ্ক, শোষকের রক্ত চক্ষুর
আমি অগ্নি চক্ষুর চাহনিতে ঝলসি শোষকের পাহাড়,
আমি ছিনিয়ে নিয়ে বিলিয়ে দেই অনাহারির আহার।
একাই লড়বো ধ্বংস করতে তদের সকল গ্রাস,
শোষিতের রক্তে লিখব আজ শোষকের সর্বনাশ।         
আমি আগ্নেয়গিরির অগ্নু্ৎপাত
অন্যায় অবিচার করি উৎখাত,
আমি হুংকার দিলে উঠে বজ্রধ্বনী,
আমি আকাশের বুকে বজ্রপাতের ঝলকানি,
আমি বারুদ, আমি জ্বালিয়ে দেই অগ্নি,
আমি চোখের পলকে ছড়াই দাবানল      
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করি সব অত্যাচারীর দল।      

আমি সত্যের ভালোবাসা,
আমি মিথ্যার নিরাশা,         
আমি মনবতা, মানবদেবতা
পথে পথে ঘুরে ফিরে হন্য। 
আমি লড়াই করি তাদের জন্য,
যারা শ্রমজীবী, নির্যাতিত, ছিন্নভিন্ন 
যারা যোগায় মানবের অন্ন,
আমি লড়ে যাই তাদের জন্য।             
আমি কষ্টকে নষ্ট করি
হা-হা হাসি দিয়ে সুখ গড়ি,
আমি বিপদকেই বিপদে ফেলি,
আমি ধ্বংসকে করি দংশন!
আমি হতাশাকে হতাশ করি,
আর ব্যার্থতাকে করি ব্যর্থ!
আমি পরাজয়কে পরাজিত করে,
ছিনিয়ে আনি জয়ের মুকুট।
আমি মাহাবিশ্বের মহারাজা
আমার আদালতে আমি দেই সাজা,
বিশাল সাম্রাজ্যে নেই কোন প্রজা
আমিই জজ হয়ে বিচার করি
ফেরারি আসামির মত ঘুরি।                                
অক্ষি জলে ভাসি আমি হাসি
আমি হাসিতে হাসিতে পরিতে পরি ফাঁসি, 
আবার ছন্দে ছন্দে রণ আনন্দে 
কাঁপাই ফাঁসির মঞ্চ।                             
আমি মৃত্যুর দুয়ারে গিয়েছি শতবার, 
ফিরে এসেছি বার বার
জানি, একদিন ঐ মৃত্যু দুয়ার
ফিরতে দিবে না আমাকে আর।
সৃষ্টিকর্তার লেখনিতে লেখা,             
মৃত্যুর সাথে করিতে হবে দেখা।
সেই দিন শুরু হবে মহাযাত্রা,
বন্ধ হবে আমার জয়যাত্রা।       
আমি মাহাশূন্যের মাঝে মহাপূর্ণতা,
আমি হীনে সৃষ্টি হবে নতুন শূন্যতা।