সুকান্ত অপি

Sept. 27, 2019, 12:43 a.m.

এসেছে দেবীপক্ষ, কাল মহালয়া
এসেছে দেবীপক্ষ, কাল মহালয়া
দেবী দুর্গা। - ছবি: ভোরের আলো

সামনেই মহালয়া, আর মহালয়ামানেই পিতৃপক্ষের শেষ আর দেবীপক্ষের সূচনা।
 
মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গা কাল পা রাখবেন মর্ত্যলোকে। অশুভ অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হওয়ার পর চারদিকে শুরু হয় অশুভ শক্তির পরাক্রম। এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হন দেবতারা। তখন দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা।

শ্রী শ্রী চন্ডীপাঠের মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। আর এই ‘চন্ডী’তেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা এবং দেবীর প্রশস্তি। শারদীয় দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপর্ণ অনুষঙ্গ হলো এই মহালয়া। 

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় ভোরবেলা স্ত্রোত্রপাঠ শুনে দিন শুরু করাটা বাঙালি রেওয়াজ। বছর বছর ধরে এই একটি ঐতিহ্য বাঙালি আজও একইভাবে ধরে রেখেছে। সেই অর্থে দুর্গাপুজোর আভাস মেলে এই মহিষাসুরমর্দিনীর বিশেষ বেতার অনুষ্ঠানেই। আসলে এই দিনটি তর্পণের দিন। এই দিনের সাথে দুর্গাপুজোর বা অকালবোধনের তেমন কোনও সম্পর্ক নেই। বরং পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানাতেই আজ গঙ্গায় বা অন্য নদীতে অনেকে তর্পণ করেন। মহালয়া তর্পণের মাধ্যমে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটায়। সামনে পুজো বলেই তারপর থেকে বাঙালীর দেবীপক্ষ শুরু হয় অলিখিতভাবে।

মহালয়কে কেন্দ্র করে বরিশালের শ্রী শ্রী পাষানময়ী কালী মাতার মন্দির, কালীবাড়ি রোড, শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির, সদর রোড, শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির, স্ব-রোড, ঝাউতলা স্বার্বজনীন পূজা মন্দির, ভাটিখানা সার্বজনীন পূজা মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, নতুন বাজার, শংকর মঠ, নতুন বাজার সহ মন্দির গুলোতে রয়েছে আয়োজন।

এদিকে শহরে দেবী দুর্গার আগমনী উপলক্ষে স্ব-রোড, বরিশালে দেবী বরণের আয়োজন করেছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরে অগ্রগামী যুব সংঘ। ভোর সাড়ে পাঁচটায় চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হবে অনুষ্ঠান। চন্ডীপাঠ করবেন বিশ্বনাথ রায় । আরো থাকবে দেবি দূর্গার আগমনি সংগীত, নৃত্য, গীতিনৃত্যালেখ্য (মহিষাসূরমর্দিনী) সহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গীতিনৃত্যালেখ্য ‘মহিষাসূরমর্দিনী’ পরিবেশনা করবেন বৈদিক চিরন্তনী সাংস্কৃতিক সংগঠন। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে ভোরের আলোর অফিসিয়াল ফেজবুক পেইজে।(www.facebook.com/daynikvoreralo)