সাইফুর রহমান মিরণ

Sept. 27, 2019, 9:54 p.m.

হলুদ অবৈধ, নীল বৈধ!
হলুদ অবৈধ, নীল বৈধ!
মন্তব্য প্রতিবেদন। - ছবি: ভোরের আলো

বরিশাল নগরী থেকে হলুদ ইজিবাইক এবং ব্যাটারীচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। এর আগে একাধিক সিটি মেয়রও নগর থেকে হলুদ ইজিবাইক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো চলছে হলুদ ইজিবাইক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাটারীচালিত রিকশা। এদুটি যান বন্ধে তৎপরাতা চোখে পড়ার মতো। কিছুদিন নগর কাঁপিয়ে চলতে দেখা গেছে মাহিন্দ্র। নগরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে মাহিন্দ্র বন্ধ হয়েছে। তবে এর বিপরীতে নগরে নীল ইজিবাইক চলছে। সেটা বন্ধে কোন ঘোষণা নেই। বলা হচ্ছে ওটি বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া। ব্যাটারীচালিত হলুদ ইজিবাইকের অনুমতি নেই। কিন্তু গ্যাসচালিত এই যানবাহনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সেটির বৈধতা রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে হলুদ অবৈধ হলে নীল বৈধ হয় কিভাবে?

এদিকে হলুদ ইজিবাইকের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে নগরে ব্যাটারীচালিত রিকশা চলছে। একদিকে পুলিশের অভিযান, অন্যদিকে ব্যাটারীচালিত রিকশা চলাচলের দাবিতে মানববন্ধন আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এই আন্দোলনের সঙ্গে আছেন সমাজতান্ত্রিক দল বসদ নেতা ডা. মণিষা চক্রবর্তীসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। তারা নীতিমালা করে ব্যাটারীচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচলের দাবি করে আসছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশ নগরী থেকে ব্যাটারীচালিত রিকশা জব্দ করছে পুলিশ। এগুলো বিভিন্ন ফাঁড়িতে রাখা হচ্ছে। নগরীর নতুন বাজার পুলিশ ফাঁরিতে অনেক ব্যাটারীচালিত রিকশার সারি দেখা গেছে। এসব রিকশায় ব্যটারী এবং মটর নেই। মটর ও ব্যাটারী পুলিশ কর্তৃপক্ষ খুলে রেখে দিয়েছে। পরে সেগুলো ধ্বংস করে ফেলার কথা।
ব্যাটারীচালিত রিকশা চালকদের অভিযোগ, মটর এবং ব্যাটারী খুলে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগে আমানতগঞ্জ এলাকায় নিয়ে কিছু ব্যাটারী ধ্বংস করা হয়। কয়েক হাজার ব্যাটারী ও মটর জব্দ করা হলেও বাকিগুলো কোথায় গেল? এমনও অভিযোগ আছে  পুলিশ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে রিকশার ব্যটারী বিক্রি করছে। রিকশা চলকদের একটি পুরানো ব্যাটারী ও ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে নতুন ব্যাটারী নিতে হচ্ছে।

বাসদ জেলা সভাপতি ডা. মণিষা চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, ব্যাটারীচালিত রিকশা যারা চালায় তারা অনেকেই নিঃশ্ব হয়ে গেছেন। তিলতিল করে জমানো অর্থ দিয়ে তারা ওই রিকশা করেছেন। আর সেই রিকশা বন্ধের নামে তাদের রিকশার ব্যাটারী এবং মটর পুলিশ বিক্রি করে দিচ্ছে। আমরা চাই একটি নীতিমালা করে যেন রিকশাগুলো চলার সুযোগ দেওয়া হয়।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, নগরে দুই ধরণের ইজিবাইক চলছে একটি ব্যাটারীচালিত অন্যটি গ্যাসে। ব্যাটারীচালিত বাইক অবৈধ করা হয়েছে। কিন্তু ঝুঁকি থাকলেও গ্যাসচালিত বাইক চলাচলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এমন দ্বৈত নীতির কারণে অনেক ইজিবাইক চালক পথে বসবে। নগরের ১০ হাজার রিকশা এবং ইজিবাইক চালকের পরিবারের সঙ্গে তাদের পরিবারের কয়েক লাখ মুনুষ দুর্ভোগে পড়বে। তাই এসব যান বন্ধের আগে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

আমরা চাই, বরিশাল নগর একটি সুন্দর নগরে রূপ নেবে। সেখানে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ হবে। কিন্তু সিটি করপোরেশন থেকে চলাচলের অনুমতি পাওয়া প্রায় তিন হাজার যানের কি হবে। যারা অর্থের বিনিময় অনুমতিপত্র পেয়েছিলেন তারা অবৈধ হলে তাদের বৈধ করে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গ ব্যাটারীচালিত রিকশা নগরে অবৈধ ঘোষণা করার পরও যারা চালাচ্ছেন তারা অন্যায় করছেন। কিন্তু তাদের রিকশা জব্দ করে ব্যাটারী ও মটর খুলে বিক্রির যে অভিযোগ উঠেছে সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। এব্যাপারে মাননীয় মেয়র এবং মহনগর পুলিশের কমিশনার মহোদয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে এমন প্রত্যাশা সবার।