মো: সাগর আকন, বরগুনা প্রতিনিধি

Sept. 30, 2019, 11 p.m.

বরগুনায় ইলিশ উৎসব ২ অক্টোবর,সজ্জিত সার্কিট হাউজ মাঠ
বরগুনায় ইলিশ উৎসব ২ অক্টোবর,সজ্জিত সার্কিট হাউজ মাঠ
আগামী ০২ অক্টোবর বরগুনার সার্কিট হাউজ মাঠে ইলিশ উৎসব ২০১৯ - ছবি: ভোরের আলো


বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথমবারের মতো উপকূলীয় জেলা বরগুনায় আয়োজন করা হয়েছে আগামী ০২ অক্টোবর বরগুনার সার্কিট হাউজ মাঠে ইলিশ উৎসব ২০১৯। জাতীয় মাছ ইলিশকে আরো জনপ্রিয় এবং ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষন ও মা ইলিশ রক্ষা করে উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য। দিনব্যাপি ইলিশ উৎসবে থাকছে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাধারণ জ্ঞান প্র্রতিযোগীতা, নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ ইলিশের উপর নির্মিত প্রামান্য চিত্র প্রদর্শনী। এছাড়াও বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিশখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীসহ বঙ্গোপসাগরের তাজা ইলিশ মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা। থাকছে ইলিশের তৈরি বিভিন্ন রকমের খাবারের আয়োজন। 

বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পন্য ইলিশের অধিক প্রচার ও প্রসারের জন্যই আয়োজন করা হচ্ছে ইলিশ উৎসবের। এছাড়া এই উৎসবের মাধ্যমে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম আগামী ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর ২২ দিন জেলেদের ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য প্রচারণা চালানো হবে। 

দেশের সর্বদক্ষিনের উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রথমবারের মতো উৎসবটি আয়োজন করছে জেলা প্রশাসন ও বরগুনা জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম। আর এ দিনব্যাপি  অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা প্রশাসন আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সব পেশার মানুষকে। 

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশের উন্মক্ত জলাশয়ে মাছের ৪২ ভাগের আর এককভাবে ইলিশের অবদান হচ্ছে ১২ ভাগ। ২০০৯-২০১০ অর্থবচরের সর্বশেষ এক হিসাবে দেখা যায় দেশে ৩ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রতি বছরের ৯ অক্টোবর তেকে ২২দিনের জন্য মা ইলিশ ধরার যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা মেনে চললে ইলিশ মাছ উৎপাদান যেমন কয়েকগুন বুদ্ধি পাবে তেমনি সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেও চলে আসবে।

দেশের নদ-নদীর পানি প্রবাহ হ্রাস, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং জলজ দূষনের কারণে অভ্যন্তরীণ জরাশয়ে ইলিশের বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্রগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইলিশের সকল বিচারণ ও প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় মৎসজীবী, জেলে ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের হিসাবে বরগুনা জেলায় নদী এবং সাগর থেকে আহরিত ইলিশের পরিমাণ হচ্ছে ৮৯ হাজার ৫শ’ ৩১ মেট্রিক টন। যা দেশের ৬টি জেলার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থনে। বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার অবস্থান রয়েছে প্রথমে। বরগুনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিষখালী, বুড়িশ্বর (পায়রা) ও বলেশ্বর নদী থেকে আহরিত ইলিশের পরিমাণ ৫ হাজার একশ’ মেট্রিক টন। এবং সাগর হতে আহরিত ইলিশের পরিমাণ হচ্ছে ৮৪ হাজার ৪শ’ ৯৬ মেট্রিক টন। সেখানে একই অর্থ বছরে চাঁদপুরে আহরিত ইলিশ হচ্ছে ৩৩ হাজার ৯শ’ ৮১ মেট্রিক টন। 

দেশের বৃহৎ মৎস অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিএফডিসির পরিসংখ্যান মতে ২০১৮ সালে মোট আহরিত ইলিশ মাছ ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৮শ’ ১১ কেজি। যার বিক্রয় মূল্য ২৯ কোটি ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩২ টাকা। ২০১৯ সালে আহরিত ইলিশের পরিমাণ ৮ লাখ ৮৬ হাজার ৭শ’ ৫ কেজি। যার বিক্রয় মূল্য ৬৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৩শ’ ৩৩ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব খাতে জমা হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার ২শ’ ৯২ টাকা। গত দশ বছরে সারাদেশে ইলিশ আহরিত হয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার ৯শ’ ৮৭ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বরগুনা জেলায় আহরিত হয়েছে ৮৯ হাজার ৫শ’ ৩১ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ।