অনলাইন ডেস্ক

Jan. 29, 2020, 8:43 p.m.

ব্যাংকের আত্মসাত করা পৌনে ৪ কোটি টাকা জুয়ায় হেরেছেন কর্মকর্তা
ব্যাংকের আত্মসাত করা পৌনে ৪ কোটি টাকা জুয়ায় হেরেছেন কর্মকর্তা
শামসুল ইসলাম - ছবি:

প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা তুলে নিয়ে সেই টাকা জুয়ায় হেরেছেন ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম ওরফে ফয়সাল। এ কথা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন তিনি। 

বুধবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শামসুল ইসলামকে আদালতে পাঠানো হয়। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন শামসুল।

শামসুল মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।  
শামসুলের বিরুদ্ধে ক্যাশ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার সময় মামলা করেছেন ব্যাংকের ওই শাখার ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা খান। গত শুক্রবার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শামসুলকে আটক করে পুলিশ।এরপর তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।  

জিজ্ঞাসাবাদে শামসুল ইসলাম জানান, গত দুই বছর ধরে নানা সময়ে ব্যাংকের ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সরিয়েছেন তিনি। ওইসব টাকা দিয়ে আইপিএল, বিপিএলসহ বিভিন্ন খেলায় অনলাইনে বাজি ধরতেন শামসুল। কিন্তু মাঝে মাঝে জিতলেও বেশিরভাগ সময়ই হারতেন তিনি। আর এভাবেই অনলাইনে জুয়া খেলে ব্যাংক থেকে সরানো টাকাগুলো হেরেছেন বলে জানান শামসুল।

এ বিষয়ে মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় 
শামসুল জানান, ব্যাংকের ভল্টে সবসময়ই প্রায় ১৫ কোটির মতো টাকা থাকতো। ভল্টের সামনের সারির টাকা ঠিক রেখে পেছনের সারি থেকে তিনি টাকা সরাতেন। ফলে দীর্ঘদিন কারো নজরেই টাকা সরানোর বিষয়টি আসেনি বা কেউ সন্দেহ করেনি। 

এরই এক পর্যায়ে গত ২৪ জানুয়ারি ভল্টের সব টাকা হিসেব করা হয়। তাতে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা কম পাওয়া যায়। এ সময় শামসুলকে ধরা হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনেই তিনি ভল্ট থেকে টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন।  

তবে প্রথমে তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানান যে, কিছু টাকা দুই বন্ধুকে ঋণ হিসেবে দিয়েছেন আর কিছু টাকা ব্যবসার লাগিয়েছেন কাজে। সে সময় টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য সময়ও প্রার্থনা করেন ফায়সাল। কিন্তু সার্বিক প্রেক্ষাপটে তার কথায় আস্থা না রেখে ওই দিন রাত ১২টার দিকে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছেন বোয়ালিয়া থানার ওসি। প্রায় দেড় ঘণ্টার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কিভাবে টাকা সরিয়েছেন তার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন শামসুল।