সাইফুর রহমান মিরণ

Feb. 5, 2020, 11:38 p.m.

তথ্য কখন আমাদের মুক্তি দেবে?
তথ্য কখন আমাদের মুক্তি দেবে?
সম্পাদকীয় - ছবি: ভোরের আলো

তথ্যই মুক্তি। তথ্যের অধিকার সুশাসনের হাতিয়ার।  তথ্যই শক্তি, দুর্নীতি থেকে মুক্তি, দুর্জয় তারুণ্য দুর্নীতি রুখবেই। এমন সুন্দর সুন্দর বাণী আকৃষ্ট করলেও দুর্নীতি কমছে না। অনেক ক্ষেত্রেই দুর্নীতি বাড়ছে। অনেকে অবশ্য বলেন, গণমাধ্যমের প্রসারের কারণে দুর্নীতির নানামাত্রা জনসম্মুখে উঠে আসছে। বাস্তবে দুর্নীতি আগের মতোই আছে। শুধু রকম বদলাচ্ছে। রূপপুরের বালিশ কাহিনী, মেডিকেল কলেজের পর্দায় অর্ধলক্ষ টাকার দুর্নীতি আমাদের নতুন করে শঙ্কার মধ্যে ফেলেছে। আমরা বলতে চাই, দুর্নীতি কমাতে নানা উদ্যোগের কাররণে সাধারণ মানুষের সামনে সত্যি চিত্র উঠে আসছে। তাহলে তথ্য আমাদের কিভাবে মুক্তি দেবে এমন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আমরা বিশ্বাস করি তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি এবং তার সঠিক চর্চা হলে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে। মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে। এটা নিঃসন্দের আশার সংবাদ।

সুশাসনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন পাশ হওয়ার পর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা, সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। টিআইবি সারা দেশে দুর্নীতি বিরোধী জাগরণ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে বর্তমান সরকারও নানামূখি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীল নীতি আমাদের জনপ্রশাসনসহ তৃণমূলে আলোড়ণ সৃষ্টি করছে। প্রশাসনে শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নসহ জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলারও চেষ্টা চলছে। আমাদের এইসব ইতিবাচক উদ্যোগের সঙ্গে থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

২০০৯ সালের আগে সরকারি-বেসরকারী সংস্থার তথ্য পাওয়া ছিল কাষ্টসাধ্য ব্যাপার। তথ্য না দেওয়ার আইন দেখিয়ে জনগণকে সেবা থেকে বঞ্চিত করা হতো। তথ্য অধিকার আইন পাশ হওয়ার পর তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সেই বাধা কিছুটা দূর হয়েছে। তবে তথ্য না দেওয়া সংস্কৃতি থেকে এখনো অনেকে বের হতে পারছেন না। তারাই মাঝে মাঝে অন্ধকারের পথে হাঁটার চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে সরকারের মন্ত্রী আমলারাই বেশি। তথ্য অধিকার আইন সঠিকভাবে নিশ্চিত হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। পুলিশ দুর্নীতি প্রতিরোধে যথাযতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের দোর গোড়ায় যেমন তথ্য পৌঁছে দিয়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। এজন্য কেবল সেবা প্রদানকারীদের দায়িত্ব পালন করলেই হবে না। সেবা গ্রহীতা জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।

সেই এগিয়ে আসার অংশ হিসেবে তথ্য মেলা অন্যতম ভূমিকার পালন করছে। সারা দেশে নানা ধরণের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তথ্য জানানোর জন্য কিংবা তথ্য পাওয়ার জন্য মেলার আয়োজন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। টিআইব সারা দেশে এই মেলা আয়োজনের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করছে। যার সঙ্গে প্রশাসনও সহযোগী হচ্ছে। এর মাধ্যমেই একদিন বাংলাদেশ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জায়গা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে পারবে। বাংলাদেশ হয়ে উঠবে সত্যিকার একটি দুর্নীতি মুক্ত সোনার বাংলা।

আমরা ডিজিটাল যুগের সুবিধা ভোগ করছি। তাই এখন আর তথ্য গোপন করে রাখার কোন সুযোগ নাই। সরকার জনগণের মাধ্যে সকল ধরণের সেবা পৌঁছে দিতে তথ্য অধিকার আইন করা হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সেই আইনের সঠিক বাস্তবায়ন এবং জনগণকে তথ্য দিয়ে পাশে থাকা এবং পাশে রাখা। নাগরিকগণ যত বেশি তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবেন, দুর্নীতির মাত্রা ততই কমে আসবে। এই অভিযানে টিআইবির উদ্যোগে গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি কাজ করছে। আমরা তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে পাশে আছি এবং থাকবো। 
‘তথ্য অধিকার আইন জনগণের জন্য একটি যুগান্তকারী আইন। সকল প্রতিষ্ঠান যদি তাদের তথ্য স্ব-স্ব ওয়েভসাইটে প্রকাশ করে, তাহলে তথ্য পেতে মানুষের ভোগান্তি কমে যাবে।’ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। তথ্যই আমাদের দুর্নীতি থেকে মুক্তি দেবে।