হায়াতুজ্জামান মিরাজ,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

Feb. 10, 2020, 12:36 a.m.

উপকূলীয় এলাকায় প্রতিবন্ধিদের শিক্ষার আলো ছড়ায় যে বিদ্যালয়
উপকূলীয় এলাকায় প্রতিবন্ধিদের শিক্ষার আলো ছড়ায় যে বিদ্যালয়
বিদ্যালয়টি - ছবি: ভোরের আলো

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনের বরগুনা জেলার সমুদ্র উপকূলীয় তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে প্রতিবন্ধিদের জন্য শিক্ষার আলোয় আলোকিত মানুষ গড়তে রয়েছে একটি বিদ্যালয়। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিদ্যালয়টি এলাকার প্রতিবন্ধিদের বিনামূল্যে শিক্ষাসহ নানা ধরণের সেবা দিয়ে আসছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসির প্রত্যাশা সরকার বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির আওতায় আনবে।  

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকার প্রতিবন্ধিদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌছে দেয়ার লক্ষে ২০১৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেন পাটোয়ারী অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি এ উপজেলার একমাত্র সুবিধা বঞ্চিতদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুরুতেই ২০ শতাংশ জমিতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬ রুম বিশিষ্ট টিনশেড পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটিতে পাঁচটি কক্ষে পাঠদান ও একটি কক্ষে রয়েছে বিদ্যালয়ের অফিস। পাঠদানের কক্ষগুলোতে চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য রয়েছে একটি মাঠ। রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়া জন্য নিজস্ব গাড়ীর ব্যবস্থা। দুপুরের নাস্তা, বই, খাতা, কলম, স্কুলড্রেস বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১’শ ৭৫জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে ১৫ জন ও অন্যান্য কর্মচারী রয়েছে ৭ জন। যাদের সার্বিক খরচ বহন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

কথা হয় শারীরিক প্রতিবন্ধি যমজ দু’বোন মনি -মুক্তার বাবা আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে। তিনি বলেন, জন্ম থেকেই আমার দুই মেয়ে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধি। আমি আমার হতভাগ্য মেয়ে দু’টিকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্ত এই বিদ্যালয়টি আমার সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছে। আমি এর প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। 

এরকম অনেক প্রতিবন্ধি সন্তানদের পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তার পড়েছিলেন। কিন্ত এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর তাদের সব দুশ্চিন্তা কেঁটে গেছে। এখন অভিভাবকরা দুর-দুরান্ত থেকে নিয়মিত তাদের প্রতিবন্ধি সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেখার জন্য নিয়ে আসেন। 

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি আবু জাফর সালেহ্ বলেন, মূলতঃ উপকূলীয় সুবিধাবঞ্চিতদের কথা বিবেচনা করেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সে লক্ষ্যে আমরা যথাসাধ্য প্রচেষ্টা অব্যহত রেখে কাজ করে যাচ্ছি। আশাকরি সরকার আমাদের এই উদ্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির আওতায় আনবে। 

বিদ্যালয়টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, আমরা সেবার লক্ষে সুবিধাবঞ্চিতদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়তে নিরন্তর প্রচেষ্টা করে আসছি। এখন বিদ্যালয়টি মোটামুটি এলাকার সুবিধাবঞ্চিতদের শুধু শিক্ষাই নয়, নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্তির সুবিধাটুকু পেলেই পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারবো।

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা নজীর হোসেন পাটোয়ারী অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বেলাল হোসেন মিলন বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মানিবক বিয়ষটি বিচেনায় নিয়েই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এলাকার সবাই সার্বিক সহায়তা করেছেন। শিক্ষক- কর্মচারীবৃন্দ অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তাদের দায়িত্ব কর্তব্য পালন করে আসছেন। 

বরগুনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোস্তফা মাহমুদ সারোয়ার বলেন, আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সব ধরণের সহায়তায় আশ্বাস দিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিদ্যালয়ের ব্যাপারে আলাদা দৃষ্টি থাকবে। আশাকরি বিদ্যলয়টি প্রতিবন্ধিদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সেলিম মিঞা মুঠোফোনে বলেন, নিঃসন্দেহে এটি একটি সেবামূলক মহতি উদ্যোগ। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টির ব্যাপারে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।