অনলাইন ডেস্ক

Feb. 12, 2020, 12:03 a.m.

যে কারণে দিল্লিতে একটি আসন না পেয়েও সন্তুষ্ট কংগ্রেস
যে কারণে দিল্লিতে একটি আসন না পেয়েও সন্তুষ্ট কংগ্রেস
কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধী - ছবি:

ভারতের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো একটি আসনও জোগাড় করতে পারেনি উপমহাদেশের প্রাচীনতম দল ভাতীয় কংগ্রেস। অথচ সেই ব্যর্থতায় মুষড়ে পড়ার থেকেও তাদের দলের এটা ভেবেই স্বস্তি যে, শেষ পর্যন্ত দিল্লি বিধানসভার মসনদে বসছে না বিজেপি। অথচ এক সময় এই রাজধানীই কংগ্রেসের গড় বলে পরিচিত ছিল।  ১৯৯৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে শিলা দীক্ষিতের  নেতৃত্বে এখানে তিনটি মেয়াদে রাজত্ব করে দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক এই দলটি। কিন্তু আজ তা অতীত। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে একেবারে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল কংগ্রেস, একটি আসনও পেল না তারা। বুথ ফেরত সমীক্ষাকে সত্যি করে ফের একবার দিল্লিতে আপের জয় জয়কার, যদিও ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে দিল্লিতে এবার ৫টি বেশি আসন পেয়েছে আম আদমি পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় জনতা পার্টি।

২০১৫ সালে আপ ৭০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬৭টি আসন পেয়েছিল আর বিজেপি পেয়েছিল তিনটি। গতবারের মতো এবারও একটিও আসন দখলে নিতে পারেনি কংগ্রেস। 

আসলে এবার দিল্লি নির্বাচনে কোনও বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারেনি কংগ্রেস। একমাত্র বিজেপি ও আপের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সামান্য কিছু মশলা জোগানো ছাড়া আর কোনও দিক থেকেই নজর কাড়তে পারেনি তারা। সোশ্যাল সাইটেও কংগ্রেসকে নিয়ে নানা রসিকতাও আদানপ্রদান হয়। দিল্লি নির্বাচন নিয়ে টুইট করেন কংগ্রেস নেত্রী শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়।

 

দিল্লিতে যেভাবে জনসমর্থন জোগাড় করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে কংগ্রেস তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বহু কংগ্রেস নেতাই রাজধানীর রাজনীতিতে শীলা দীক্ষিতের অভাব বোধ করছেন। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি বলেন, "কংগ্রেসের তরফে, এখানে আমরা শীলা দীক্ষিতের অভাব খুব বেশি করে বোধ করছি, আমরা একজন অভিজ্ঞ নেত্রীকে হারিয়েছি এবং তারপরে আর আমরা অন্য কাউকে তেমনভাবে নেতা হিসেবে এখানে পাইনি"। গত বছরই প্রয়াত হন কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত।

তিনি আরও বলেন, "বিজেপি যে জিততে পারছে না এখানে তাতে আমি খুশি। আপের জয় আমার কাছে তুলনামূলকভাবে কম হতাশার। আপ অন্তত দিল্লির শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু ভাল কাজ করেছে।"

আরেক নেতা সঞ্জয় ঝা জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের সংকট এবং রাহুল গান্ধীর সরে যাওয়াকেও কংগ্রেসের খারাপ ফলের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, "এটা সত্যি যে আমরা এখনও আমাদের নেতৃত্বের বিষয়টির সমাধান করতে পারিনি, এই ঘটনা দলের সদস্যদের হতাশায় ফেলেছে"।

"আমরা কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে দলকে হতাশ করছি। কংগ্রেসের পক্ষে ফিরে আসার এর চেয়ে ভাল সময় আর হতে পারে না", একথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি