সাইফুর রহমান মিরণ

Feb. 14, 2020, 11:36 p.m.

বসন্ত দূর করে দিক মনের কালিমা
বসন্ত দূর করে দিক মনের কালিমা
বসন্ত উৎসব প্রাঙ্গনে আগত দর্শনার্থী - ছবি: সুকান্ত অপি, ভোরের আলো।

‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও, যাও যাও গো এবার যাবার আগে... রঙ যেন মোর মর্মে লাগে, আমার সকল কর্মে লাগে...’। দিনটি ছিল সত্যি রাঙিয়ে দেওয়ার দিন। চারদিকে রঙিন আর রঙিনের আলিঙ্গন। ফুল, পাখি, বৃক্ষরাজি প্রকৃতি সবাই নতুন সাজে সেজেছে। একজন অন্যজনকে ছুঁয়ে দিয়ে রঙিন করবে সেই প্রতিযোগিতাই ছিল প্রকৃতি জুড়ে। হবে না কেন? বসন্ত বলে কথা। কেবল কি বসন্ত, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভালোবাসা দিবস। দুইয়ে মিলে এক হয়ে প্রকৃতিকে মাতিয়ে দিয়েছে। এই ভালোবাসা আমদের সত্যিকার ভালোবাসর স্পর্শ দিয়েছে। বসন্তের প্রথম দিন আর ভালোবাসা দিবস আমাদের মনের কালিমা দূর করে দিয়েছে।

তবে আমরা আমাদেরকে সত্যিকার রঙিন করে তুলতে পারলাম কি না জানি না। তবে নিরন্তর চেষ্টায় প্রকৃতি সেজেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সেখানে কোন লোভ-লালসার লেসমাত্র দেখা যায়নি। বসন্তের প্রথম দিন ভালোবাসার নামে কোনভাবে যেন আমাদের কালোর ছোঁয়া দিতে না পারে সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বসন্ত এবং ভালোবাসা আমাদের ভেতরের অশুভ চিন্তা, শঠতা, হীনমন্যতা আর মনের কালিমা দূর করে দিক। আমরা সবাই মিলে যেন রঙিন থাকতে পারি। কোনভাবেই যেন আমাদের এই রঙিন প্রকৃতিকে কালো ষ্পশ করতে না পারে।

শুক্রবার দিনভর প্রিয়জনকে ভালোবাসা জানানো, বাসন্তি সাজে নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করেছে শিশু, নারী-পুরুষসহ সব বয়সে মানুষ। মন রাঙিয়ে দিতে নানা আয়োজন ছিল নগরজুড়ে। বসন্ত আমাদের রঙিন করে দেয়। কিন্তু আমরা রঙিন হয়ে অনেক সময় হারিয়ে যাই। সেখান থেকে আর টেনে তোলা সম্ভব হয় না। মানুষ হিসেবে আমাদের যে দায় আছে সেটা ভুলে কামনা-বাসনায় লিপ্ত হয়ে পড়ি। বসন্ত উৎসবের মাধ্যমে আমাদের সত্যিকার মানুষ হয়ে বাঙালি সংস্কৃতি চর্চা করা দরকার। নতুন প্রজন্মকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সত্যিকার রঙিন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে।

ঋতুরাজ বসন্ত সবার মনের দুয়ারে নাড়া দিয়েছে। তাইতো বাঁধন ছাড়ার দল বেড়িয়ে পড়েছে প্রকৃতিতে। প্রকৃতি অকৃত্রিমভাবে আমাদের ফুল-ফল দিয়ে রঙিন করে দিয়েছে। কিন্তু বসন্তের সেই রঙকেও কামনার বিকিকিনিতে রূপ নেয়। সুন্দর রঙকে কালো করে দিতে উদ্যত হয় এক শ্রেণির মানুষ। তারা বসন্ত আর ভালোবাসার রঙিন আলোকে ভোগ্যপন্য করে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। তাদের বিকৃত মানসিকার জ্বালে জড়িয়ে পড়েন অনেকে। আমরা তাদের থেকে সাবধান হতে আহ্বান জানাই।

আমরা চাই, বসন্তের রঙ কোনভাবেই যেন কোন ম্লান করে দিতে না পারে। চিরন্তন ভালোবাসা যেন সবার মনে প্রেথিত হয়। বসন্তের রঙ আর ভালোবাসার সঙ্গে যারা ছলনা করেন তারা কোনভাবেই রঙিন মানুষ নয়। তারা রঙিন হওয়ার ভান করে ভেতরের পশুকে ঢাকার চেষ্টা করে। আমরা এরকম পশুদের থেকে দেশ ও সংস্কৃতি রক্ষার আহ্বান জানাই।

আমরা চাই, বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস আমাদের যেভাবে রঙিন করে দিয়েছে, সেই রঙিন সাজ যেন বছর জুড়ে থাকে। বসন্ত ও ভালোবাসার এই প্রাণঢালা আহ্বান যেন প্রতিটি মানুষের অন্তর ছুঁয়ে যায়। আমরা যেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে পারি, ‘ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল, লাগলো যে দোল, স্থলে জলে বনতলে লাগলো যে দোল...’। বসন্ত উৎসবের মাধ্যমে আমরা সকল শুভ এবং ভালোকে গ্রহণ করবো। একই সঙ্গে যত অশুভ, অমঙ্গল, নেতিবাচক বিষয় আছে সব বর্জন করবো। মানুষের মনের হিংসা, দ্বেষ, ধর্ম, বর্ণের ভেদ ভুলিয়ে দিক বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস।