রবিবার, ০২ অক্টোবার ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

আজমল হোসেন লাবু

Sept. 10, 2022, 11:15 p.m.

এই প্রশ্নের উত্তর জানে কে?
এই প্রশ্নের উত্তর জানে কে?
ভোরের আলো - ছবি:

আমাদের প্রত্যেক ঘর পরিবারে একটা সময় ছিলো, যখন প্রতিটি বাড়ির উপার্জনক্ষম মানুষটি কিংবা তার নির্দেশে পরিবারের অন্য কেউ, যাদের কাজই ছিলো প্রতিদিন সকালে উঠে বাজারে যাওয়া এবং পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলির সংগ্রহ নিশ্চিত করা। তখন বাজার একটি অপরিহার্য শব্দ ছিলো প্রায় প্রতিটি পরিবারের জন্য। সেই বাজার এখন সবার বাড়ির দুয়ারে। তার জন্য কোথাও কোথাও দু‘পা হাঁটবারও প্রয়োজন পড়ে না। এই যে এতো কাছের বাজার, সেই বাজার ইদানীং ক্রমশঃ সকলের ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। সাধারণের তো বটেই, অসাধরণদেরও নাগালের বাইরে সে এখন। কোনভাবেই আর সামাল দেওয়া যাচ্ছে না তাকে। নির্দিষ্ট আয়ের মানুষদের এখন আর কষ্টের কোন সীমা পরিসীমা নাই। তাদের সকল ক্ষেত্রেই টান পড়েছে। তবু প্রকাশ্যে প্রকাশ করতে পারছে না তাদের কষ্টের কথা। আর করলেই বা কে শুনছে সে কথা? বাড়িওয়ালা থেকে মাছ, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, স্কুল, মুদি কে শুনবে?

তার পরেও আমাদের চারপাশে যে যা খুশি অবলীলায় বলে চলেছে। কথা শুনলে মনে হয়, দায়িত্ব- জ্ঞানহীনতার এমন উজ্জ¦ল উদাহরণ বুঝি আর হয় না। কেন বলবে না, তাদের কিইবা আসে যায়? অথচ আমরা যারা নিতান্তই বাজার নির্ভর এবং নিজ উপার্জনের অর্থে দিন গুজরান করতে বাধ্য হই। তারা সবাই নাকি এখন স্বর্গের কাছাকাছি। রাষ্ট্রীয় এবং বিরোধী সবাই। শুধু ঢুকে পড়তে পারছে না। কারণ তারা ভালো বুঝে উঠতে পারছে না, সেখানে সবাইকে তারা ঠিক ঠাক পাবে কি না।

না পেলে কি হবে? ক্ষমতার নির্ধারণীটা কেমন করে হবে? অতএব অপেক্ষা। এ দিকে রাজনৈতিক ফ্যাকরায় নির্মিত বেহেস্তে এখন দোজখের আগুনে পুড়ছে মানুষ। মাছ, গোশ সে তো দুরস্থান। সপ্তাহে একটা ডিম, সেও এখন এই বেহেস্তে আগুন। কোনটা নয়? হেলেঞ্চা, মালঞ্চা, লাউ, কচু শাক। আলু আদা রসুন পিঁয়াজ সোয়াবিন এবং চাল, কোনটা এই মুহূর্তে মনে হয় আমাদের কষ্টের উপার্জন থেকে সহজে কেনা যাচ্ছে? এ কেমন বেহেস্ত রাজনীতির বানানো, যেখানের সকল কিছুই সাধারণের স্বাদ এবং সাধ্যের বাইরে?

আগে জানতাম রাজনীতি অনেক কিছুই পারে। তারা অবলীলায় পারে জনসমর্থনের অন্যায় ব্যবহারে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে নাই করে দিতে। ইতোমধ্যে যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তারা সবাই অত্যন্ত সফলভাবে সেটা করে দেখিয়ে দিয়েছেন। তারা পারে অতি শ্রবনীয় মধুর অভিব্যক্তিতে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিতে। স্বার্থের আঘাত ঘটলে, তারা পারে রাতের আঁধারে কিংবা প্রকাশ্য দিবালোকে হিং¯্রতার পাহাড় স্পর্শ করতে। পারে চোপার অবাধ ব্যবহারে স্বর্গ নরকের পার্থক্যকে সংকুচিত করে দিতে। আর একটা বিষয় তারা পেরেছে  অত্যন্ত সফলভাবে, সবাই মিলে। দেশের ক্ষুধার্ত মানুষদের ক্ষুধার সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে।

যে কারণে মানুষ এখন ডিমের মূল্য বৃদ্ধি কেয়ার করে না। রান্নার তেল থেকে চুলার আগুনের মূল্য বৃদ্ধি কেয়ার করে না। দৈনন্দিন ব্যবহার্য সকল কিছুর আগুনরূপ কেয়ার করে না। কেন করবে? রাজনীতি যে আমাদের বলে দিয়েছে আমাদের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে! কার বাবার সাধ্য আছে এখন এই সত্যকে মিথ্যা প্রমাণ করে। একটা সিগারেটের দাম ষোল টাকা (১৬টাকা)! সেটা কিনে আগুন লাগিয়ে ভস্ম করে দিয়ে যারা ধোঁয়া উড়ানোর মতো বিলাসিতা করে। তার বা তাদের কাছে মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলা কিংবা হৈ চৈ করার কোন অর্থ হয় কি?

আসলে হয় না এর একটাই সুষ্পষ্ট কারণ। ঐ টাকাটা (অতি ক্ষুদ্র কিছু ব্যতিক্রম বাদে) মূলত তার বা তাদের নয়। যে কারণে মূল্য বৃদ্ধির কোন স্পন্দন তারা গ্রাহ্য করে না বা করতে হয় না। সর্বত্র অনৈতিকতার দারুণ প্রসার এবং সর্বগামীতার সতঃস্ফূর্ততায় প্রায় সবার সেই বোধ এখন রুদ্ধ। যে কারণে তারা টের পাচ্ছে না তার বা তাদের রান্নাঘরটা মূলত অন্যের টাকায় চলে! হ্যাঁ চলে। এ দেশের অসংখ্য অজস্র মানুষ অন্যের টাকায় তাদের আয়েশি দিন যাপন করে। যে কারণে পানি থেকে আগুন কোনটার মূল্য বৃদ্ধি তাদের গোচরীভূত হচ্ছে না। এক সময়কার জমিদারদের মতোই তারা আধুনিক সময়ের নব্য দখলদার। যাদের দখলে সাধারণের সকল কিছু। চিন্তা চেতনা স্থাবর অস্থাবর সব।

আজ মূল্য বৃদ্ধির যাঁতাকলে পৃথিবী। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এর কারণ। তবু বুঝে ওঠা সহজ নয় এই কারণে বাড়ির পাশের মজা পুকুরে বানের জলে ভেসে আসা মাছের দাম বাড়লো কেন? কারা কেমন করে বাড়ালো? এর কোন উত্তর কি আমরা জানি কিংবা জানতে চাই? মনে পড়ে প্রায় ত্রিশ বছর পূর্বে বড় ভাই একটা বাইক দিয়ে বলেছিলো ধীরে ধীরে কাজের দিকে আগাও। তখন পেট্রোলের দাম ছিলো আজকের দিনের তুলনায় অনেক কম মাত্র সাত (৭) টাকা। তারপর ক্রমশ সেটা বেড়ে ৯, ১২, ১৩, ১৭, ২১ তার পরের ধারাবাহিকতা আর মনে নেই। শুধু মনে আছে নিকট অতীতের ৮৫ টাকা থেকে সেটা এক লাফে ১৩৫টাকা হলো! বছরের দূরত্ব ৩০ আর টাকার দূরত্ব ১৩৫-৭ = ১২৮ টাকা। বাৎসরিক গড় বৃদ্ধি ১২৮স্ট৩০ = ৪ দশমিক ৬৬ টাকা। এবার কি প্রশ্ন  করা যাবে তেলের দামটা আসলে কতো? আর সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে কতো? তাহলেইতো খুব সহজেই বুঝে নিতাম। আমাদের কোনটায় অভ্যস্ত হওয়া উচিৎ অজ¯্র বাইকে না কি বাই সাইকেলে?

এখন বোধকরি সবারই মোটামুটি বিশ্বাসে এসে গেছে যে, বাজার চলে গেছে এক কৃত্রিম অনিয়ন্ত্রণের নিয়ন্ত্রণে! কোন নির্দিষ্ট আয়ের সীমা দিয়ে তাকে আর সামাল দেওয়া যচ্ছে না কিছুতেই। কঠিন ভাবে চুপ থাকা মানুষও বুঝতে পারছে যে, রাষ্ট্রীয় বিত্ত বৈভবেও টান লেগেছে। তবু যেন সঠিক পথ অনুসরণ এবং সত্য উচ্চারণে অনীহা ক্রমশ জটিল করে তুলছে পরিস্থিতি! সাবধান! শত্রু সময় অসময় বোঝে না। শত্রু বৈশ্বিক বিপর্যয় বোঝে না। তাদের উদ্দেশ্য একটাই ঝোঁপ বুঝে কোপ মারা অর্থাৎ ‘দখল’। ঝড়ের রাতেও আমাদের দেশের জনপদে ডাকাতির অজ¯্র উদাহরণ প্রচলিত আছে। মনে রাখা দরকার ডাকাতদের মানবতা জ্ঞান চর্চা এবং তার অনুশীলন কিন্তু প্রাসঙ্গিক নয়।
অর্থনীতির একটা বীভৎস ঝড় বইছে পৃথিবীব্যাপি। সমসাময়িক এই সময়ে একটা ব্যাপক ক্ষতির পরেও করোণাকে পাশ কাটানো হয়তো গেলো। কিন্তু এই ঝড় অতিক্রম সহজ নয়। চলমান এই ঝড়ো বিপদের মধ্যেও ওৎপেতে আছে দলবদ্ধ বিভিন্ন রূপের ডাকাতদল। ভীষণ সাবধান। এই মুহূর্তে কোন ভুলে ঘরের মধ্যের সমর্থন সমন্বয়ের ব্যর্থতা কিংবা অতিমাত্রার আত্মবিশ্বাস চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। সে মোটেই কাম্য নয় এই মুহূর্তের বাংলাদেশে। 

দারুণ সমন্বয়হীন এই মুহূর্তের মূদ্রা, মূদ্রানীতি,এবং মূদ্রাস্ফীতির পথ চলা। কঠিনভাবে যথাযথ মেধা প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে, সার্বিক বিপর্য়য় এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যেই পরিলক্ষিত হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মীদের ধৈর্যহীনতা। তারা যেন নেতাদের নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে থাকতেই চাইছে না। এর আপাত কারণ পদস্খলন ভীতি। কেউই পদ হারাতে চাইছে না। পদ গেলে পুলিশ সমীহ করে না। সাংবাদিক ছবি ছাপে না। রাস্তায় আদাব ছালাম কমে যায়। দোকানে পয়সা না দিয়ে কিছু নেয়াটা দোষের হয়। অর্থাৎ নৈতিক আদর্শ বিবর্জিত কেবল অর্থ উপার্জনের রাজনৈতিক আদলের যা পরিণতি। যেমনটা দেখলাম বরগুনায়। জাতির জনকের শাহাদত বর্ষিকীতেও অমন সংঘাত দ্বন্দ্ব বিভাজনের খুব কি প্রয়োজন ছিলো? পুলিশ কি সেদিন থানা থেকে কসম কেটে বের হয়েছিলো যে, তারা আজ ছাত্রলীগকে পেটাবেই? না কি অতিষ্ঠ হয়ে তেতেছিলো আমাদেরই অনবরত অগ্রহণযোগ্য আচরণে? তার পরেও একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর উচিৎ হয়নি ওভাবে পেটানো। এটিও পেশাদারিত্বের ব্যর্থতাকেই চরমভাবে প্রকাশ করেছে। যেমনি দেশব্যাপী অনবরত অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পেশাদারিত্ব। সম্ভবত এখন সময় হয়েছে রাষ্ট্রের ভেবে দেখবার। শিক্ষা, শিক্ষিত, মেধা, মেধাবী এই সকল শব্দের প্রকাশ লালন রক্ষণ সম্প্রসারণ দেশের প্রয়োজনীয় বিবেচ্য বিষয় কি না? না কি দেশশুদ্ধ সবাই মিলে রাজনৈতিক পেশাদারিত্ব গ্রহণ করবে? যার পরিনণাম হবে অতিকথন ও চোপা নির্ভর এক অনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র। যেখানে নীতি আদর্শ  অনুসরণযোগ্য কোন বিষয়ই নয়।

যেখানে সবাই ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে নিজ নিজ চরিত্ররূপ বদলে সচেষ্ট থাকবে। নূতন ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে পুরাতন ক্ষমতার গুষ্ঠির তুষ্টি করে ছাড়বেন। যা এখন একটি অতি প্রচলিত রাজনৈতিক অনুশীলন। যেখানে কোন কর্মী নেতারও নয়, নীতিরও নয়! তাহলে ওরা কার? যে প্রশ্ন অত্যন্ত জটিল কঠিন এবং নির্মম রূপে প্রকাশ করলেন খোদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এর নির্মম সেই হত্যা কান্ডের ৪৭ বছর পরে এই প্রথম তার নিজের মুখে উচ্চারিত সেই প্রশ্ন। ‘১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দুইদিন সেখানে পড়ে রইলো। সারা দেশে আওয়ামী লীগের এতো নেতা কর্মী তারা কোথাও কেউ একটু প্রতিবাদ পর্যন্ত করলো না। কেন? এ প্রশ্ন কষ্টের। এ প্রশ্ন স¦জন হারানো বেদনার। এ প্রশ্ন চরম হতাশার। এ প্রশ্ন ক্ষোভের, দুঃখের, লজ্জার আর অতি অবশ্যই তিরষ্কারের।

আমরা জানি না এর উত্তর। সত্যিকার অর্থে স্বার্বজনীন সে উত্তর সম্ভবত এখন পর্যন্ত কেউ লেখেননি। যা যা পেয়েছি আজ অবধি সে সকলই পক্ষপাতদুষ্ট। সঠিক সত্য এখনো জানে না এ জাতি। জানা দরকার। প্রকাশ হওয়া দরকার, পরিশুদ্ধ আগামী বাংলাদেশের জন্য। মনের সকল দুয়ার খুলে, খুঁজে প্রকাশ করা দরকার, কার কিংবা কাদের কোন কর্মদোষ বা কোন ভুলের বলি বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। তাঁর পরিবার, আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তার পরিবার, কর্নেল শাফাত জামিল, আবদুল নঈম খান রিন্টু এবং বকুল। আমাদের কোন ব্যর্থতা ডেকে আনলো পৃথিবীর রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য নিষ্ঠুর নির্মম এই হত্যাকান্ড? এই হত্যা বিচারের ফাঁসির দড়ি এখনো সবার গলা স্পর্শ করেনি! তার পরেও ঘটেছে একুশে আগস্টের হত্যাযজ্ঞ! দুটো অভিন্ন সময়ের এক রূপ। হিংসা রক্ত হত্যা যে রাজনীতি মূল সুর, তাকে রেখে কোন অগ্রযাত্রা সম্ভবতো নয়-ই, উচিৎও নয়।

রাজনীতি অনেক কথাই বলে বটে। আবার এ ও কঠিন সত্য, রাজনীতিবিদরা নিজেরাই রাজনীতির স্বার্থে অনেক সত্য আড়াল করে চলেন! সে ও এক রাজনীতি। যেখানে সর্বসাধারণের অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশ্নেও তেমন কোন রাজনীতি জড়িয়ে যায়নি তো! যে কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কি খুঁজছেন? না কি সকল রাজনীতিবিদেরা এমন প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণের চেয়ে রাজনীতি সচল রেখে নিজেরা সচল থাকবার ব্যাপারেই বেশী আন্তরিক আছেন?

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম এর একটি উক্তি  আমরা একটু পড়ে দেখতে পারি। তিনি বলেছেন ‘যখন একটি জনগোষ্ঠীর প্রায় সবাই রাজনীতিকেই অর্থ উপার্জনের পথ হিসেবে বেছে নেয়, যখন একটি দরিদ্র দেশের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিপনীতে বিক্রি হয় জুতো, আর বই বিক্রি হয় ফুটপাতে! সেই দেশের সুন্দর ভবিষ্যতের আশা করে কেষ্ট মেলানো কষ্টকর হয়ে পড়বে।’

লেখক: আজমল হোসেন লাবু, বাচিক শিল্পী ও বাংলাদশে আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য।