রবিবার, ০২ অক্টোবার ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

সাইফুর রহমান মিরণ

Sept. 21, 2022, 10:56 p.m.

দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ,কে জ্বালাবে আলো?
দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ,কে জ্বালাবে আলো?
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সড়ক লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। - ছবি: ভোরের আলো

‘মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়
আড়ালে তার সূর্য হাসে
হারাধনের হারাশশী
অন্ধকারেই ফিরে আসে...’

না। ভয় হয়তো তেমন একটা কেউ পায়নি। তবে দুই রাত আলোহীন পথ ছোট্ট একটা নাড়া দিয়েছে। অন্ধকারকে আলিঙ্গন করার সুযোগে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে অনেককে। তাই সবার মুখে এখন আলো ফিরে পাওয়ার আকুতি। অন্ধকার ছাড়া আলো যে মূল্যহীন সেই কথাটাই জানান দিয়েছে বরিশাল নগরবাসীকে। যারা অন্ধকারকে ভালোবাসে, তারাও আজ আওয়াজ তুলছে আলো চাই। কেন আলো চাই? আলো কোথায় গেল? আলো কি হারিয়ে গেছে? কেন হারিয়ে গেলো? এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

জানা গেলো, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সড়ক লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কেন? নগর ভবনের কাছে ৫৭ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। তাই তারা সড়ক বাতি বন্ধ করে দিয়েছে। আবার এমনও শোনা যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ নয়, নগর ভবনই সড়ক বাতি বন্ধ করেছে। কোনটা সত্য সেটা জানতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কম। তাদের দাবি দ্রুত সড়ক আলোকিত হোক।

গত মঙ্গলবার রাতে সড়ক অন্ধকার দেখেও নাগরিকরা হতাশ হয়নি। তারা বেভেছিল বিদ্যুৎ শা¯্রয়ের জন্য হয়তো সড়কের বাতি বন্ধ করা হয়েছে। হতবাক হয়েছে তখন, যখন জানতে পেরেছে বিদ্যুৎ শা¯্রয় নয়, মূলত বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে অন্ধকারে ডুবে আছে পুরো নগর। তখনই তারা দ্রুত এই দুর্ভোগ কামানোর দাবি করেছেন। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে সিটি মেয়র জরুরী সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। 

সেরনিয়াবত ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বললেন, বিদ্যুৎ বিভাগ সড়ক বাতি এবং পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন কোন ধরণের নোটিশ ছাড়া সড়ক বাতি ও পানির সংযোগ বন্ধ করে দেয়াকে দুঃখজনক। এটা একধরণে ষড়যন্ত্র বলেও মনে করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের ১২ সিটি করপোরেশনে বিদ্যুৎ বিভাগের বকেয়া থাকলেও কেবল বরিশাল সিটি করপোরেশনের সড়ক বাতি বন্ধ করে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তারা নাগরিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে না। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনের তারা নগর ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারতো। কোন মহলের ইন্ধনে এই কাজ হয়ে থাকতে পারেও বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজার সময় নগরজুড়ে উৎসব চলবে। সেই সময় নগরের সড়কগুলো অন্ধকার থাকায় চরম দুর্ভোগ পড়তে হবে আয়োজকসহ সাধারণ দর্শনার্থীদের রাতে সড়ক অন্ধকার থাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত নাগরিকরা।

জানা যায়, জুন ২০২২ পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে বিদ্যুত বিভাগের পাওয়না রয়েছে ৫৭ কোটি ১৯ লাখ ৭৭ হাজার ১৪৯ টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে কম পক্ষে ২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করার জন্য সিটি করপোরেশনকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিটি মেয়র বলছেন, বর্তমান পরিষদের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের পাওনা ছিল ১৫ কোটি ৮ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৫ টাকা। পরিশোধ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ২০২ টাকা। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণের সময়ে মোট বকেয়া ছিলো ২০ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ১৫ টাকা যার বিপরীতে কোন টাকাই পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ে ২১ কোটি ৭৪ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৯ টাকা সহ মোট বকেয়া দাঁড়ায় মোট ৪২ কোটি ১১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪ টাকা। ওই সময় কখনো সংযোগ বিচ্ছিন করা হয়নি। বিগত সময়ে বকেয়ার দায় বর্তমান পরিষদ নেবে না। বর্তমান পরিষদের কাছে যে টাকা বকেয়া আছে সেটা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। কিন্তু আগে নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে নড়ক বাতি ও পানির সংযোগ দিতে হবে।

কে জ্বালাবে আলো? এমন প্রশ্নের একটাই উত্তর নগর ভবন এবং নগরের অভিভাবকক। এই দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। অনেক সংকটের মধ্য দিয়েই এই পরিষদ সামনে যাচ্ছে। আগামী সময়টা সুন্দর করতে অবশ্যই সড়কের বাতি এবং পানির সংযোগ পুনস্থাপন করে নাগরিক চাহিদাস পূরণে সচেষ্ট হবেন।

‘জ্বালাও আলো 
 আপন আলো
সাজাও আলোয় ধরিত্রীরে..’ এই প্রত্যাশা সবার।