মঙ্গলবার, ০৪ আগষ্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

Feb. 19, 2020, 9:25 p.m.

আশিকুর রহমান বিশ্বাসের উপন্যাস ‘জোড়া কাক’ একুশে বইমেলায়
আশিকুর রহমান বিশ্বাসের উপন্যাস ‘জোড়া কাক’ একুশে বইমেলায়
‘জোড়া কাক’ বই প্রচ্ছদ - ছবি: ভোরের আলো

বাংলা একাডেডির অমর একুশে বইমেলায় বরিশালের সন্তান অশিকুর রহমানের উপন্যাস ‘জোড়া কাক’ একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে।

উপন্যাসটি সম্পর্কে লেখক আশিকুর রহমান বিশ্বাস বলেন, এই বইটি আমার প্রথম প্রকাশিত বই। স্বাভাবিকভাবে প্রথম বইয়ের প্রতি একজন লেখকের একটা আলাদা টান কাজ করে। তবে বইটি নিয়ে আমি আশাবাদী, বাকিটা পাঠকের হাতে। পাঠকের ভালো লাগলে আমারও ভালো লাগবে।

উপন্যাসটিতে অনেকগুলো চরিত্র এসেছে। যাদের ভিতর লতিফ সাহেব, ঠিকাদার নকিব, লিয়াকত মির্জা, এবাদত, জালাল, বরকত মিয়া গুরুত্বপূর্ণ। 

উপন্যাস থেকে কিছু কথা- আমরা একে অপরকে সাহায্য করি নিঃস্বার্থভাবে। কিন্তু না, কেউই নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করে না। সব সাহায্যের পেছনে লুকিয়ে থাকে স্বার্থ, লুকিয়ে থাকে রাজনীতি। তাইতো জেনারেল সেক্রেটারি সাহেব তার স্বভাবসুলভ ভাঙ্গিতে ফজর আলীকে বলেছিলেন, গন্দম ফলের ছুতো ধরে রব্বুল আলামিন আমাদের আদি পিতামাতা আদম-হাওয়াকে এক আজব জায়গায় নিক্ষেপ করেছিল ফজর। এখানে সবাই পলিটিক্স করে। সবাই পলিটিশিয়ান।

একদিন এই লোকটির সাথেই সবার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে ফজর আলীর মা তার একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তিনি ছিলেন নিতান্তই গ্রাম্য বেকার যুবক। তবে তখন থেকেই তিনি ছিলেন চিকন বুদ্ধির লোক। একদিন কোন এক কাজে তিনি যান এদেশের প্রভাবশালী এক নেতার বাসায়। আর সেদিনই প্রথম পরিচয় হয় তার বিধবা মেয়ে সুলেখার সাথে। 

তারপর কথাবার্তা, প্রণয়। একদিন এই বিধবা মেয়েকে বিয়ে করতে গিয়ে তিনি তার প্রথম স্ত্রী বা ফজর আলীর বোনকে মুখে বালিশ চেপে হত্যা করেন। আর এই পাপবোধ থেকেই একদিন দুলাভাই ( যখন তিনি শ্বশুরের লেজ ধরে জেনারেল সেক্রেটারি হন) ফজর আলীকে মুরগির ব্যবসায়ী থেকে তুলে আনেন রাজনীতির মাঠে। কিন্তু ফজর আলী একেবারেই অক্ষরজ্ঞানহীন। সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারে না মোটেও। একদিন সে দুলাভাইয়ের পরমর্শে নবমী নামের এক মেয়েকে হাউজ টিউটর করে বাড়িতে রাখে। এই মেয়ের সাথে আবার একপর্যায় প্রেমে জড়িয়ে যায় ফজর আলীর-ই পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট মাহমুদ। কিন্তু তাদের প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়াই না, তার আগেই নবমীকে ফজর আলীর স্ত্রী ফাল্গুনী অন্য একটা ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। 

এই উপন্যাসের আরো দুজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলো চামেলি আর টিটু। এরা একদিন ফজর আলীর এলাকায় আসে একটি বিদেশী পাবলিক ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের হয়ে রিসার্চের কাজে। এরা আসে প্রোফেসর শুকুর সাহেবের ঠিকানায়। এদিকে শুকুর সাহেবের সাথে আবার ফজর আলীর মামাশ্বশুরের সম্পর্ক আর সেই পথ ধরেই একদিন ফজর আলীর সাথে পরিচয়। এই জুটির পরিণতি ভালো ছিল। 

বই:- জোড়া কাক
ধরণ:- উপন্যাস
প্রচ্ছদ :- নাহিদা নিশা
প্রকাশনী : - ছায়াবীথি
লেখক পরিচিতিঃ আশিকুর রহমান বিশ্বাস, লোকপ্রশাসন বিভাগ।