মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬

সাইফুর রহমান মিরণ

March 5, 2020, 12:08 a.m.

আমরাও কি মুজিববর্ষ টিস্যুবক্স পাবো?
আমরাও কি মুজিববর্ষ টিস্যুবক্স পাবো?
সম্পাদকীয় - ছবি: ভোরের আলো

১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। এবছর আমরা বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ পালন করবো। সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে মুজিববর্ষ পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে চলছে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আওয়ামী লীগ হিসেবে উপস্থাপনের হিরিক। মুজিববর্ষ পালনের নানামূখি আয়োজন দেখে বোঝা যাচ্ছে না কোন আয়োজনে কতটা মর্যাদা এবং সম্মান পাবেন জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি যতটা শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখানোর জন্য এই আয়োজন, তারচেয়ে বেশি হচ্ছে লোক দেখানো, ক্ষেত্র বিশেষে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগকে খুশি করার প্রতিযোগিতা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষ পালনের প্রতিযোগিতায় নামতে বারণ করেছেন। তারপরও কি সব বারণ শোনা যায়? না যায় না। কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ বলে কথা। তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এতটাই প্রগাঢ়, সেখানে তাঁর জন্মদিন গোটা জাতি পালন করবে এমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু আমলা, কামলা এবং আওয়ামী লীগকে ধারণ করেন না এমন দলকানা মানুষ বঙ্গবন্ধুর ছবি যত্রতত্র ব্যবহারের চেষ্টায় লিপ্ত হচ্ছেন। যার বহিপ্রকাশ শুরু হয়ে গেছে। আমরা দেখলাম টিস্যু বক্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছাপানো হয়েছে।

অবাক হওয়ার মতো বিষয় হচ্ছে এই কাজটি করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তারা এক হাজারের বেশি টিস্যুবক্স তৈরি করেছেন। যার একপাশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা-বাংলাদেশ লেখা লোগো এবং অন্য পাশে জাতির পিতার ছবি সম্বলিত মুজিব শতবর্ষের লোগো রয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এবং লজ্জারও বিষয়। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে টিস্যুবক্সে স্থান দেওয়া হয়েছে। এই অতি উৎসাহী আমলা-কামলারা জাতির পিতাকে এরপর যে কোথায় নেবেন বুঝতে পারছি না। এদের এই অতি উৎসাহের রশি কে টানবেন?

এমন খবর পাওয়া গেছে, সাত-আটমাস আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাদের লোগো ব্যবহার করে এক হাজার টিস্যু বক্স তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শিক্ষা অধিদপ্তরের দুইজন শিবিরপন্থী উপপরিচালক টিস্যুবক্সে অধিদপ্তরের লোগোর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ছবিও জুড়ে দেন টিস্যু বক্সে। শুধু তাই নয়, সেই টিস্যু বক্সের দামও ধরা হয় অনেক বেশি। প্রতিটি টিস্যু বক্সের দাম ধরা হয়েছে ৫৬ টাকা। যা বাজারে পাইকারি দরে ত্রিশ টাকায় পাওয়া যায়।

আমরা লক্ষ্য করছি, বঙ্গবন্ধু কিংবা প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্র নিয়ে যখনই নেতিবাচক কোন বিষয় উঠে আসে, ঠিক তখনই অন্যের ঘারে দোষ চাপিয়ে নিজেরা পাড় পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন পদস্থ কর্মকর্তারা। আর এই দোষ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি হাতিয়ার তাঁদের কাছেই থাকে। নেতিবাচক ওই কাজ করেছে জামায়াত-শিবির সমর্থিতরা। যার প্রমাণ পেয়েছিলাম বরিশালের আগৈলঝারায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সলমানকে বিব্রতকর অবস্থা থেকে উদ্ধার না করে তাকে জামায়াত বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বেচারা রক্ষা পেয়েছেন।  

কিন্তু সারা দেশের চিত্র বলে ভিন্ন কথা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমলা-কামরা যেভাবে আওয়ামী শ্লোগান দেন, সেখানে মাউশির মতো প্রতিষ্ঠানে শিবির কিংবা জামায়াত সমর্থকরা বঙ্গবন্ধুর ছবি টিস্যুবক্সে ছেপে দেওয়ার মতো কাজ করলো কিভাবে? তাহলে যারা আওয়ামী পন্থি তারা কি করছিলেন। আমরা মনে করি এই দোষ জামায়াত কিংবা শিবিরের ঘারে চাপিয়ে দায় এড়ানো যাবে না। এর মধ্যে অবশ্যই ভূত আছে। সেই ভূত মার্কা দলকানাদের খুঁজে বের করে তাঁদের শাস্তি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে শিবির কিংবা জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আমরা বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানাতে গিয়ে তাঁকে যেন কোনভাবেই তাঁকে অসম্মান করি। সে বিষয় নজর রাখা একান্ত জরুরী। আমরা মুজিববর্ষ পালন করতে চাই, সেই সঙ্গে জাতির পিতার প্রতি যথাযথ সম্মানও জানাতে চাই।