সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬

অনলাইন ডেস্ক

March 6, 2020, 11:01 p.m.

অধিনায়ক মাশরাফির শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে
অধিনায়ক মাশরাফির শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে
সংগৃহীত - ছবি:

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে তামিম-লিটন তাণ্ডবে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। শুক্রবার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে বৃষ্টি আইনে ১২৩ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৬৯ রানে ও দ্বিতীয় ৪ রানে জয় পেয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে রেখেছিল মাশরাফির দল। এই ম্যাচ দিয়েই অধিনায়ক হিসেবে ৫০ ম্যাচ জেতার অনন্য রেকর্ড গড়ে মাশরাফি।

টাইগারদের হয়ে উদ্বোধনী জুটিতে রেকর্ড রানের পর এবার যেকোনো উইকেট জুটিতেই সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ গড়েছেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মালিক এখন লিটন।

আগের ম্যাচেই বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। এবার তার সামনেই এই রেকর্ড ভাঙলেন লিটন দাস। শেষ পর্যন্ত ১৪৩ বলে ১৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ধ্বংসাত্মক এ ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কার মার। তামিমকে আউটই করতে পারেননি জিম্বাবুইয়ান বোলাররা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি পূরণ করে ৩০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ১২৮ রানে। তামিম ইকবাল পেলেন টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের যেকোনও উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি এখন ২৯২ রান। আগের সর্বোচ্চ জুটি ছিল সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েছিলেন ২২৪ রানের জুটি। দেশের ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা জুটির পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড করা তামিম-লিটন বিশ্ব ক্রিকেটের তৃতীয় সেরা উদ্বোধনী জুটি।

তাদের আগে তিনশ পেরনো জুটি আছে মাত্র দুটি। গেল বছর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে স্বাগতিক আইরিশদের বিপক্ষে উইন্ডিজ ওপেনার শেই হোপ ও জন ক্যাম্পবেল জুটি বোর্ডে তুলেছিলেন ৩৬৫ রান। যা কিনা বিশ্ব ক্রিকেটে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।

আর দ্বিতীয় সেরা জুটি গড়েছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার ইমাম উল হক ও ফখর জামান। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে পাকিস্তানের এই দুই ওপেনার তুলেছিলেন ৩০৪ রান।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ওপেনিং জুটিতে আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড এতদিন ছিল শাহরিয়ার হোসেন ও মেহরাব হোসেনের। ১৯৯৯ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই তাদের গড়া ১৭০ রানের ওপেনিং জুটি ২১ বছর পর ভাঙলেন তামিম ও লিটন। তাদের ২৯২ রানের ওপেনিং জুটি সব মিলিয়েই ওয়ানডেতে তৃতীয় সেরা।

তামিম-লিটনের এমন তাণ্ডবে বৃষ্টির কারণে ৪৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচেও বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩২২। ডাকওয়ার্থ-লুইসে জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে অবশ্য ৪৩ ওভারে ৩৪২।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে ওপেনিংয়ে নামেন তিনাশে কামুনহুকামওয়ে ও রেগিস চাকাভা। ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই কামুনহুকামওয়েকে লিটনের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান মাশরাফী। এ ওপেনার করেন ৪ রান। এর কিছু পরেই ব্রেন্ডন টেইলরকে ১৪ রানে আউট করেন সাইফউদ্দিন।

দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়েন রেগিস চাকাভা ও শন উইলিয়ামস। তবে দুই স্পিনারের কাছে পরাস্ত হয়ে সাজঘরে ফেরেন দুজন। ৩০ রান করা উইলিয়ামসকে বোল্ড করেন অভিষিক্ত আফিফ, ৩৪ রানে তাইজুলের ডেলিভারিতে বোল্ড হন চাকাভা।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে সিকান্দার রাজার সঙ্গে ৩৭ রানের জুটি গড়েন মাধেভের। আর এরপরেই সাইফউদ্দিনের দ্বিতীয় শিকার হন মাধেভের (৪২)। এরপর রোডেশিয়ানদের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে অদ্ভুতুড়ে এক রান আউটে। রিচমন্ড মুতুম্বামি ফেরেন কোনো রান যোগ করার আগেই।

প্রথম স্পেলে ৩ ওভারে কেবল ৬ রান দেওয়া মুস্তাফিজুর রহমান আক্রমণে ফিরেই পেলেন উইকেটে দেখা। ফিরিয়ে দিলেন টিনোটেন্ডা মাটোমবোদজিকে। আগের বল বেরিয়ে এসে বাউন্ডারি মেরেছিলেন মাটোমবোদজি। পরের বলটি ছিল কাটার। বুঝতেই পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। স্লিপে ধরা পড়েন মোহাম্মদ নাঈম শেখের হাতে। ৬ বলে ৭ রান করেন মাটোমবোদজি।

মোস্তাফিজুর রহমানকে দুই ছক্কা মেরে ঝড়ের আভাস দিয়েছিলেন ডনাল্ড টিরিপানো। বাঁহাতি এই পেসারের বলে দুইবার লিটন দাসের হাতে জীবনও পেয়েছিলেন। ভাগ্যকে পাশে পাওয়া টিরিপানো আগের ম্যাচের বীরত্বের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি। তাইজুল ইসলামকে তেড়েফুড়ে মারতে গিয়ে ফিরে গেছেন বোল্ড হয়ে।

দলীয় ২১৮ রানে সাইফের স্লোয়ার বলে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন সিকান্দার রাজা। কিন্তু বাউন্ডারি লাইনে ব্যক্তিগত ৬১ রানে নাঈমের তালুবন্দী হন সিকান্দার। স্কোরকার্ডে কোন রান যোগ না হতেই সাইফের শিকার হন টিশুমা। এতে শেষ ওয়ানডেতে ২১৮ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। আর তিন ম্যাচের সিরিজে সবকটি হেরে হোয়াইটওয়াশের শিকার হয় বাংলাদেশ। এই ম্যাচ দিয়েই অধিনায়ক হিসেবে ৫০ ম্যাচ জেতার অনন্য রেকর্ড গড়ে মাশরাফি।