মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

March 11, 2020, 10:27 p.m.

বরিশালে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুক্তিপন, চক্রের ১০ সদস্য আটক
বরিশালে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুক্তিপন, চক্রের ১০ সদস্য আটক
আটকৃত প্রতারক চক্র - ছবি: এন আমিন রাসেল, ভোরের আলো।

বরিশালে উচ্চবিত্তদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে অশালীন ছবি তুলে গোয়েন্দা পুলিশের ভয় দেখিয়ে মুক্তিপন আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ ১০জনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার রাতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেছে।

বুধবার দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

আটককতরা হচ্ছে- শরীয়তপুরের গোসাইরহাট নতুন বাজার এলাকার মো. মতিন মুন্সির ছেলে মো. জাকির হোসেন (৩৮) ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা মনি (৩০), নগরীর কাশীপুর বাজার শিববাড়ি এলাকার মৃত ছালাম বয়াতীর ছেলে মামুন বয়াতী (৩৪), নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়া প্রধান সড়কের মো. ইছাহাক হাওলাদারের ছেলে মো. সেলিম হাওলাদার (৪৫), কাউনিয়া মহাশ্মশান এলাকার ভাড়াটিয়া মো. আনসার আলী হাওলাদারের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৫) ও তার স্ত্রী লিজা বেগম (২৫), নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের চহঠা এলাকার মৃত আব্দুর রহমান তালুকদারের ছেলে মো. আরিফুর রহমান তালুকদার (৩০), ঝালকাঠীর কাঠলিয়া আওড়াবুনিয়া এলাকার মো. জাহাঙ্গীর মোল্লার মেয়ে মোসাম্মৎ ফারজানা আক্তার ঝুমুর (২৫), নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফাকরবাড়ি রোডের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী খুশী বেগম (৪০) এবং সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার নুরুল ইসলামের মেয়ে আশা আক্তার (২০)। 

পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নগর বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, নগরীর জনৈক ঠিকাদার সোহেল আল মাসুদ ওই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি পুলিশকে জানান, বরিশাল ব্রমোহন কলেজের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী ফারজানা আক্তার ঝুমুরের সঙ্গে মুঠোফোনে এক মাস আগে তার (মাসুদ) পরিচয় হয়। এর সুবাদে প্রতিদিন মুঠোফোনে তাদের দুই জনের কথা হয়। ফোনে ঘনিষ্টতার এক পর্যায়ে ঝুমুর মাসুদের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। পরে ঝুমুরের সহযোগী শ্রীনাথ চ্যাটার্জী লেনের ভাড়াটিয়া মামুন বয়াতীর বাসায় তারা দেখা করে। অল্প সময়ের মধ্যেই মাসুদকে বিবস্ত্র করে ছবি তোলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি। এর কিছুক্ষণ পরেই সেখানে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন লোক প্রবেশ করে। তারা পুলিশের মতো আচরণ করে এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়। বাধ্য হয়ে মাসুদ তাৎক্ষণিক তাদের ৯ হাজার এবং পরে বিকাশের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করে তাদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হন। 

বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশকে জানানো হলে গত মঙ্গলবার রাতে ওই বাসাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ১০জন প্রতারককে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৫জন পুরুষ এবং ৫জন নারী। আটককৃতরা এই প্রক্রিয়ায় আরও বেশ কয়েক জনের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে আরও অনেকে সম্পৃক্ত বলে পুলিশকে জানিয়েছে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। 

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন উপ-কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার।