মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬

সাইফুর রহমান মিরণ

March 13, 2020, 11:44 p.m.

বরিশালেও পাপিয়াদের উত্থান! ব্যবস্থা নিতে হবে
বরিশালেও পাপিয়াদের উত্থান! ব্যবস্থা নিতে হবে
সম্পাদকীয় - ছবি: ভোরের আলো

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়ার নাম জানে না এমন লোক পাওয়া যাবে না। সারা দুনিয়ায় করোনা মাহামারী রূপ নিচ্ছে। যার আঁচ বাংলাদেশেও লাগছে। তবে সেটা কোনভাবেই আতংকিত হওয়ার মতো অবস্থা নয়। তবে সারা দেশে তোলপাড় করা আলোচিত পাপিয়া একরকম আতংকের নাম। বাংলাদেশে পাপিয়া আতংক করোনার চেয়ে ভয়াবহ। জেলায় জেলায় এমনকি উপজেলা পর্যন্ত অসংখ্য পাপিয়ারা সাধারণ মানুষের আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নরসিংদীর পাপিয়ারা বরিশালে ঝুমুর, জায়েদা, লাকি, নূপুর, কেকাসহ নানা নামে অবস্থান করছে। যারা প্রত্যেকেই কম-বেশি পাপিয়ার মতো পথেই হাঁটছেন। দেশের এমন সব পাপিয়াদের উত্থান থামাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

নরসিংদীতে জেলা ছাত্রলীগের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা পাপিয়ার কর্মকা-ে মানুষ স্তম্ভিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিস্মিতও হয়েছে। এরা রাজনীতির হাত ধরে চলছে বলবো না কি জানি না, তবে নীল নীতিতে প্রবেশ তার ওই সময় থেকেই। সবাই যখন দিনের আলোতে হাঁটা শুরু করেন পাপিয়া তখন নীল পথ ধরে অনেক দূর এগিয়ে। যে পথ তাকে আভিজাত্য ফিরিয়ে দিয়েছে। দিয়েছে অর্থ-বৈভব। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন ওপরতলার অনেক নামি-দামি ব্যক্তিরা। দল থেকে বহিষ্কার করলেই এই পাপিয়াদের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব হবে না। পাপিয়াদের বহিষ্কারের আগে যারা পাপিয়াদের সৃষ্টি করে তাঁদের লৌল জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কেবল এক নামের পাপিয়া নয়, সারা দেশের এরক অসংখ্য পাপিয়া আছে তাদের প্রত্যেককে নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমরা হয়তো এক পাপিয়ার নীল পথে হাঁটার সংবাদ জানি। কিন্তু এরকম রাজনীতির আড়ালে সারা দেশে অনেক পাপিয়া আছেন, যারা অনেক সময় রাজনীকেও নিয়ন্ত্রণ করেন। নিয়ন্ত্রণ করেন প্রশাসন থেকে শুরু করে আমলা-মন্ত্রীদেরও। এমনসব পাপিয়াদের চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তা না হলে এই পাপিয়ারা গোটা সমাজকে এবং রাজনীতিকে নোংড়া পথে নিয়ে যাবে।

বরিশালে ঝুমুর নামে এক পাপিয়া প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লুটপাট করছে। পুলিশ তাদের পাঁচ পাপিয়াসহ এদের সহযোগী পাঁচ পুরুষকেও গ্রেপ্তার করেছে। বরিশালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারি স্কুল শিক্ষককে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। জায়েদা নামের এই পাপিয়া না কি অনেক আমলা-মন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের বেকায়দায় ফেলছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শিক্ষকদের। করে বেড়াচ্ছেন বদলী বাণিজ্য। এই পাপিয়ার ভয়ে কর্মকর্তারা তটস্ত।

এক পাপিয়া গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আজ আমরা তাকে ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা জানি, এই পাপিয়া একদিনে স¤্রাজ্ঞী হননি। এই পাপিয়ারা আগেও ছিলেন, এখনো আছেন, পরেও থাকবেন। যাঁদের  আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পাপিয়ারা কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফোটেন, কর্মী থেকে বড় নেত্রী বনে যান, তারা এর দায় এড়াতে পারেন না। ওপরে ওঠার এই সিঁড়িতে পাপিয়ার সঙ্গে ওপর মহলের অনেকেরই দেখা হয়েছে। একান্তে কথা হয়েছে। হয়েছে আরও...। অনেকের সঙ্গেই পাপিয়ার ঝলমলে ছবি আছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকের হিংসা জন্ম দিয়েছে। বড় বড় মানুষের আশপাশে-কাছে-নিবিড়ে যাঁর এমন ছবি থাকে, তাঁর হাত কতটা লম্বা ছিল, তা অনুমান করা যায়।

এটা তো কেবল একজন পাপিয়ার গল্প আমাদের সামনে এসেছে। বরিশালে এমন কয়েক পপিয়া আছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাপিয়া শিক্ষক থেকে কর্মকর্তাদের দাবড়িয়ে বেড়ান। তাঁর সঙ্গে না কি ওপর মহলের সখ্যতা আছে। এই পাপিয়ার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। এমন পাপিয়ারা আছেন ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালিসহ ৬৪ জেলা এবং সাড়ে ৪০০ উপজেলায়। এরা সাধারণ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে পিষে মারেন। এদের থেকে পরিত্রাণ দেবে কে? 

আমরা চাই, করোনার মতো ছড়িয়ে পড়া পাপিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে যাতে আর কোন পাপিয়ার সৃষ্টি না হয় সেব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়া হোক।