বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

March 25, 2020, 10:45 p.m.

বরিশাল জিলা স্কুল ২০১২ ছাত্রদের স্যানিটাইজার প্রস্তুত করে অসহায়দের মাঝে বিতরন
বরিশাল জিলা স্কুল ২০১২ ছাত্রদের স্যানিটাইজার প্রস্তুত করে অসহায়দের মাঝে বিতরন
মানুষদের পাশে এসে দাড়ানোর মৎ উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল জিলা স্কুলের এস.এস.সি ২০১২ - ছবি:

বর্তমান সময়ের সারাবিশ্বের এক ভয়ের নাম COVID-19 বা নোভেল করোনা ভাইরাস। যার মহামারিতে বিকল হয়ে পরেছে সারা বিশ্ব। এ ভাইরাসটি আমাদের মাতৃভূমিতে ও ছড়ানোর উপক্রম শুরু করেছে।এ বরিশাল শহরের নিম্নবিত্ত সকর শ্রেনীপেশার মানুষদের পাশে এসে দাড়ানোর মৎ উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল জিলা স্কুলের এস.এস.সি ২০১২ ব্যাচের অকুতোভয় ছাত্ররা।

এরই ধারাবাহিকতায় তাদের নিজস্ব উদ্যোগে জীবানুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুত করে অসহায় মানুষদের মাঝে বিতরন করার কাজ শুরু করেন।মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন এবং তা বাস্তবতার রুপ দেন। মঙ্গল রাতে জিলা স্কুলের সামনে দাড়িয়ে গরীব, দুস্থ্য ও সাধারণ মানুষের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরন করেন।পাশাপাশি এসময় তারা ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী রিক্সাচালক এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মিদের স্যানিটাইজার দিয়ে এবং করোনা সম্পর্কে ধারনা দিয়ে তাদের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়।

এদিকে গতকাল বুধবার সকাল ৭টা থেকে নগরীর রুপাতলী, নথুল্লাবাদ, চৌমাথা, সদর রোড, হাসপাতাল রোড, জিয়া সড়ক, নবগ্রাম রোড, চাদমাড়ী, বরফকল, ভাটারখার, বেলতলা, কাউনিয়া, বিসিক, পুলিশ লাইন, বাংলাবাজার, কাকলীর মোড়, খেয়াঘাটসহ শহরের ৩০ টি স্পটে ২২ টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এছাড়া গতকালই সন্ধ্যা ৭ টায় নগরীর এ্যানেক্স ভবনে বিসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ৪০০ হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিসিসি কর্তৃপক্ষের নিকট তুলে দেয়া হয়। বরিশাল জিলা স্কুলের এস.এস.সি ২০১২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাতকেও জীবানুমুক্ত রাখতে সহায়তা করেছেন বলে নগরভবনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিসিসি’র পরিছন্নকর্মিদের হাতে হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বিসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দায়িত্বে থাকা ডাঃ রবিউল ইসলাম। আগামীতেও এভাবেই অসহায় মানুষদের পাশে থাকতে চায় ব্যাচ ২০১২। এ ব্যপারে উদ্যোগ গ্রহনকারী বরিশাল জিলা স্কুলের এস.এস.সি ২০১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহাত আনোয়ার জানান, তারা নিজেরাই ফেসবুক গ্রুপে ফান্ড সংগ্রহ এবং ঢাকা থেকে স্যানিটাইজার তৈরির কাচমাল নিয়ে আসেন।

এরপর তারা বরিশাল জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে কাজে অগ্রসর হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এর অনুমতিক্রমে ওই বিদ্যালয়ের ল্যাব এবং সরমজাদী ব্যবহার করেন। সেখানে তারা রাত ভর অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দুই হাজারের অধিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, দেশের এই দূর্যোগ মুহুত্তে বাংলাদেশ সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে বিপদের হাত থেকে বাচাতে নানান উদ্যোগ করেছেন। তারই এ উদ্যোগের সাথি হতে আমাদের এই ছোট আয়োজন মাত্র। তিনি আরো বলেন, শুধু মাত্র করোনাভাইরাস প্রতিরোধেই নয়, বরিশাল জিলা স্কুলের ১২ ব্যাচের ছাত্ররা দেশের প্রতিটি দূর্যোগ মহুত্বে সাধারণ মানুষের পাশে দাড়িয়েছে এবং আগামীতে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।