রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭

অনলাইন ডেস্ক

March 30, 2020, 8:01 p.m.

করোনায় ঘরবন্দী তরুণ, প্রতিবেশী ছাদে ড্রোনে প্রেমপত্র
করোনায় ঘরবন্দী তরুণ, প্রতিবেশী ছাদে ড্রোনে প্রেমপত্র
করোনায় ঘরবন্দী তরুণ, প্রতিবেশী ছাদে ড্রোনে প্রেমপত্র পাঠিয়ে সম্পর্ক! - ছবি: সংগৃহীত।

একই এলাকার বাসিন্দা হলেও একে অপরকে চিনতেন না তারা। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কাছাকাছি এনে দিল দুই মার্কিন তরুণ-তরুণীকে। অনলাইনে ফোন নম্বর আদান প্রদান শেষে প্রথম সাক্ষাৎ, এরপর প্রেমের শুরু।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরেই থাকতে হচ্ছে তাদের।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ছবি তোলা নেশা ও পেশা হলেও, বাধ্য হয়েই বাড়িতে থাকতে হচ্ছিল জেরেমি কোহেনকে। তাতে আরও বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাই ক্যামেরা হাতে এক বিকেলে বাড়ির ছাদে এসে দাঁড়ান।

একটি ওয়েবসাইটকে জেরেমি জানিয়েছেন, ক্যামেরা নিয়ে দু’একটা ছবি তোলার পরই কিছু দূরের একটি বাড়ির ছাদে নজর পড়ে তার। দেখেন, বিকেলের পড়ন্ত রোদে সেখানে নিজের খেয়ালে নেচে চলেছেন এক তরুণী। আশপাশের কোনো কিছুতেই তার খেয়াল নেই।

জেরেমি জানান, প্রথম দেখাতেই ওই তরুণীকে ভালো লেগে যায় তার। সাহস করে ওই তরুণীকে দেখে হাত নাড়েন তিনি। ওই মেয়েও সাড়া দেয় তাকে। তারপরই মেয়েটির সঙ্গে আলাপ জমানোর কথা মাথায় আসে তার। একপর্যায়ে ঘরে ঢুকে নিজের একটি ড্রোন বার করেন। কাগজে নিজের ফোন নম্বর লিখে তার গায়ে সেঁটে দেন এবং সেটি উড়িয়ে ওই তরুণীর ছাদে পৌঁছে দেন।

ফোন নম্বর পেয়ে ওই তরুণী তাকে সরাসরি মেসেজ করেন বলে জানান জেরেমি। শুরু হয় তাদের মধ্যে কথাবার্তা। কিন্তু লকডাউনের কারণে ঘর থেকে বেরও হতে পারছিলেন না তারা।

জানা যায়, ওই তরুণীর নাম টোরি সিগনারেলা। ভিডিও কলের মাধ্যমেই প্রথম ‘ডেট’-এর পরিকল্পনা করেন তারা। সেই মতো নিজের ব্যালকনিতে খাবার ও ওয়াইন নিয়ে বসেন জেরেমি। বাড়ির ছাদে খাবার নিয়ে বসেন টোরি। খেতে খেতে ভিডিও কলে প্রেম চলে তাদের।

এই ফোন নম্বর আদানপ্রদান থেকে থেকে প্রথম ‘ডেট’, সবকিছুই ভিডিও রেকর্ড করেন জেরেমি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টে তা পোস্টও করেন। সেগুলো পড়ে মুগ্ধ নেটিজেনরা। ভাইরাল হয়ে যায় জেরেমি-সিগনারেলার প্রেম কাহিনী।

নেটিজেনদের উৎসাহ পেয়েই প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যান জেরেমি। তবে সংক্রমিত হওয়ার ভয় থাকায়, নিজেকে প্লাস্টিকের ‘বাবলে’ মুড়ে নেন তিনি। সেই অবস্থাতেই পার্কে সিগনারেলার সঙ্গে পাশাপাশি হাঁটেন। প্রেমিকার জন্য জন্য ফুলের তোড়াও নিয়ে যান জেরেমি। গ্লাভস পরা হাতে তা গ্রহণ করেন সিগনারেলা। তবে এখনই খুব বেশি দেখা-সাক্ষাৎ করছেন না তাঁরা। করোনার প্রকোপ কবে কাটবে, এখন সেই আশাতেই দিন কাটাচ্ছেন দুজনে।