শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

March 30, 2020, 10:12 p.m.

করোনা মোকাবেলায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এগিয়ে আসতে হবে
করোনা মোকাবেলায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এগিয়ে আসতে হবে
করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। - ছবি: ভোরের আলো

করোনা গোটা বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে। আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশ এখনো অনেকটা ভালো অবস্থানে আছে। আমরা এখনো ঝুঁকির মধ্যে নেই। তবে সতর্ক এবং সচেতন না হলে ঝুঁকি এড়ানো কঠিন হবে। তাই নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের ঘরে, বাড়িতে এবং বাড়িতেই থাকা দরকার। যারা বাড়ি থেকে বের হবেন তাদের সামাজিক দূরত্ব বললেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা দরকার। কিন্তু সেই উদ্যোগ নিতে পারছি না আমরা।

আমরা এখনো বলতে চাই, করোনায় ভীতি নয়, আমাদের সচেতনতা এবং সতর্ক থাকতেই হবে। এর বাইরে যাদের শ্বাসকষ্ট, জ¦র, সর্দি-কাশি হচ্ছে তাদেরও ভীত না হতে অনুরোধ জানাবো। কারণ এই সময়ে এমন রোগ হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই রোগ হলে প্রথম কর্তব্য হচ্ছে পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এই সমেয়র উপসর্গ বেশিদিন স্থায়ী হবে না। তারপরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

আরও আশপার কথা হচ্ছে, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগীর মধ্যে একজনও করোনা আক্রান্ত রয়েছে এমন তথ্য নেই। এমনকি যারা মারা গেছেন তারাও কেউ করোনার জীবানু বহন করেছেন এমন তথ্যও নেই। তবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য আমাদের ঢাকায় আইইডিসিআরকে পাঠাতে হতো। এখন আর তার প্রয়োজন পড়বে না। করোনা নির্ণয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) করোনা ভাইরাস পরীক্ষার পলিমারি চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন এসেছে। দ্রুত মেশিনটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই মেশিন স্থাপন হলে দ্রুত করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে জানা যাবে। ফলে আমাদের ভীতিও দূর হবে।

আমরা লক্ষ্য করছি, করোনা সংক্রমণ এড়াতে ঘরে থাকার নির্দেশনা থাকলেও রাস্তায় বাড়ছে মানুষের ভীড়। মানুষের ভীড় কমাতে এবং করোনা সংক্রামণ এড়াতে জনগণকে নিজ নিজ ঘরে থাকার সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী টহলের সঙ্গে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা হ্যান্ড মাইকে করোনা সংক্রামণ এড়াতে জনগণকে সচেতন করেন এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। তারপরও মানুষ সচেতন হচ্ছে না। বরিশালের রাস্তাঘাটে তুলনমূলক অনেক বেশি মানুষ দেখা যাচ্ছে। ব্যক্তিগত যান, মোটর সাইকেল ও রিক্সা চলাচল গত কয়েক দিনের চেয়ে বেড়ে গেছে। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়।

করোনা মোকাবেলায় বলা হয়েছিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। এটা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করেছে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকলে মানুষ কিভাবে মানুষের পাশে সহযোগী হয়ে থাকবে। এটা সত্য। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব মানে সমাজ থেকে বিচ্ছন্ন নয়। দূরে থেকেও সহযোগী হওয়া সম্বভ। তারপরও বর্তমানে বলা হচ্ছে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা এবং কেনাকাটা করার জন্য। আমরা যেন সেই নির্দেশনাটুকু মেনে চলি।

গত কয়েকদিন ধরে বরিশালে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলালচের জন্য দোকানপাট, রাস্তাঘাটে রং দিয়ে বৃত্ত এবং চতুর্ভূজ এঁকে দেওয়া হচ্ছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী অনেক সংগঠন এই কাজে মাঠে আছে। তাদের সহযোগিতা করুন এবং নিজে নির্দেশনা মেনে চলুন।

করোনায় এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ভুল তথ্য দিয়ে ভীতি ছড়াচ্ছে। তাদের কাছে আমাদের আহ্বান, সত্য তথ্য জেনে তারপর যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়। কারণ আপনার এরকটি পোস্ট কোন ব্যক্তি পরিবারের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই করোনায় ভীতি নয়, সতর্কতা এবং সচেতন থাকতে হবে।