শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

May 18, 2020, 10:39 p.m.

আম্পান ও করোনায় সতর্ক থাকতে হবে
আম্পান ও করোনায় সতর্ক থাকতে হবে
সম্পাদকীয় । - ছবি: ভোরের আলো।

সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও করোনা মহামারী মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। করোনা দিন দিন বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। তারপরও আমরা সতর্ক হতে পারছি না। করোনা যখন আমাদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। সেই সময় নতুন করে এক ঘুর্ণিঝড় তাড়া দেওয়া শুরু করেছে। ঘুণিঝড় আম্পান আমাদের পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে মাত্র ৯৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। পায়রা ও মংলা সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এখন আমাদের করোনার সঙ্গে নতুন করে ঘুর্ণিঝড় আম্পানকেও মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের সতর্ক ও সচেতন থাকার আর কোন বিকল্প নেই। আমাদের করোনা এবং আম্পানের এই দুর্যোগ মোকাবেলায় উদ্যোগী হতেই হবে।

ঘুর্ণিঝড় আম্পান আমাদের উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। আমাদের নতুন শঙ্কার মধ্যে ফেলেছে আম্পান। আমরা এই ঘুণিঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুতিও নিচ্ছি। কিন্তু ঘুর্ণিঝড় আম্পানের প্রবাবে সাগর প্রবল বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া কার্যালয়। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২১০ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এই ঘুর্ণিঝড় আমাদের কোন দুর্যোগের দিকে নিয়ে যায় এখনো সেটা বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা বিশ্বাস করি সবাই মিলে সতর্ক থেকে ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলার চেষ্টা করতে হবে।

বলা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে বর্তমানে পশ্চিম মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গত সোমবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজারর ৭৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৭০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে। পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯ মে মঙ্গলবার শেষরাত থেকে বুধবার বিকাল/সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এই ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম অঞ্চল। এসব অঞ্চলের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

গত প্রায় দুই মাস ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আমাদের করোনা থেকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। এক পর্যায় করোনা মহামারী আকার ধরণ করার আশঙ্কায় স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমস্তকিছু বন্ধ করার ঘোষণা দেয় সরকার। স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়ে তদরকীর দায়িত্বও দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় গণ পরিবহনসহ অধিকাংস যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু আমরা করোনাকে তেমন একটা গুরুত্ব না দেওয়ায় সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত হচ্ছে, ডাক্তার, পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এরপরও ঈদ বাজারে মানুষের ভীড় কমানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সরকার ঈদ মার্কেট বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। করোনার এই যুদ্ধ আমাদের বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। এবার এই করোনার সঙ্গে  যুক্ত হচ্ছে নতুন উপস্বর্গ ঘুর্ণিঝড় ‘আম্পান’। আম্পানের ভয়াবহতা যা শোনা যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশের উপকূলসহ অনেক এলাকাকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এটা সিডোরের চেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। এখন আমাদের করোনার সঙ্গে ঘুর্ণিঝড় আম্পানকেও মোকাবেলা করতে হবে।

আমরা বলতে চাই, করোনায় যেমন আমাদের সর্বোচ্চ সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। সেই সঙ্গে ঘুর্ণিঝড় আম্পান থেকেও আমাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে যেন আমরা ঘুর্ণিঝড় আম্পানকে মোকাবেলায় সহযোগী হই। ঘুর্ণিঝড় মোকাবেলা করতে গিয়ে যেন আবার করোনার বিষয়টি গুরুত্বহীন হয়ে না যায়। করোনা এবং ঘুর্ণিঝড় আম্পান দুটোই সমান গুরুত্ব দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।