শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

May 21, 2020, 6:46 p.m.

বরিশালে ২৪ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত
বরিশালে ২৪ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত
সংগৃহীত। - ছবি:


তবে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় ২৪ হাজার ৪৮০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় কাঁচা ঘরবাড়ি ছাড়াও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ফসল, রবীশস্য, মাছের ঘের ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঢেউটিন, নগদ অর্থ এবং খাদ্য সামগ্রি সরবরাহ করা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।


আজ বিকেলে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কৃষকের কাছ থেকে ওই তথ্য পাওয়া গেছে।
বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে  আজ বৃহষ্পতিবার বিকেলে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ প্রদান শুরু করেছে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। অব্যাহতভাবে জেলার ১০ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ওই সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন কাযালয়ের মিডিয়া সেল থেকে জানা যায় বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় ঘুর্ণিঝড় আম্বাণের তান্ডবে ২৪ হাজার ৪৮০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৮ হাজার ১৬০টি টিনের ঘর সম্পূর্ণ  ১৬ হাজার ৩২০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দমকা ও ঝড়ো হাওয়ায় মাটিতে হেলে পড়ে কিছু পাকা বোরো ধান, ক্ষেতের পাট, পেঁপে, পান, কাঁচামরিচ ও মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কাঁচা ঘর-বাড়ি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করছে জেলা প্রশাসন।

ঘুর্ণিঝড়ে বরিশালের দু-একটি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে কিছু অনেক এলাকায় বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই সব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। 


বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুল হক জানান, ঝড় এবং পানিতে তার মুগডাল, পুঁইশাক, পাট ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এখন কিভাবে সামনের দিনগুলো চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি। তার মতো জেলার হাজার হাজার কৃষক ফসল হারিয়ে এখন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন। 
বরিশাল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে জেলায় ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজী ও তীল পুরোটাই ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আউশ, পেঁপে, পান, পাট ও মুগডাল পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার বাকেরগঞ্জের নলুয়ায় এবং ভরপাশা এলাকায় বেড়ীবাঁধ ভেঙে ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করবে কৃষি বিভাগ।

 
এদিকে বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বরিশালে কাঁচা ঘরবাড়ির বেশ কিছু ক্ষতি হয়েছে। অতীরের মতো ঝড়ে কিছু গাছপালা ও ক্ষেতের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা আগেভাগেই ধান কেটে নেয়ায় ধানের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারের সহায়তা পৌছে দেওয়া হবে। গতকাল সদর উপজেলায় টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যাদের মাছের ঘের ক্ষতি হয়েছে তারাও ক্ষতিপূরণ পাবে। পর্যায়কমে ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের মাঝে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসন থেকে গতকাল মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত এক রিপোর্টে জানা গেছে, ঘুর্ণিঝড় আম্পানে বরিশাল জেলায় কম-বেশি ৮ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। ঝড়ে জেলায় ২৪ হাজার ৪৮৫টি কাঁচা ও আঁধা কাঁচা ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৮ হাজার ১৬৩টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৩২০টি ঘর। অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির পূর্নাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।