শনিবার, ০৮ আগষ্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

June 5, 2020, 10:20 p.m.

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি: দুদক
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি: দুদক
স্বাস্থ্যখাত। - ছবি: ভোরের আলো।

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বন্ধের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেসঙ্গে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন সময় কেনা সুরক্ষা সামগ্রীর ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়েও কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।

করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিই (পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট) ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। যার জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকেও আমলে আনা হচ্ছে। এর পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনও সংগ্রহ করবে দুদক।

এছাড়া কমিশনের অভিযোগকেন্দ্র হটলাইন ১০৬ এ স্বাস্থ্যখাতের বেশকিছু কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলোর বিষয়েও কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিটকে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ কমিশন সার্বিক এসব কেনাকাটার বিষয়গুলো অনুসরণ করছে। এর বাইরেও বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, মাস্ক বা পিপিইর মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী যা চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেসব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন গঠিত প্রাতিষ্ঠানিক টিমও কাজ করেছে।
এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে দুর্নীতির ১১টি খাত চিহ্নিত করে, তা প্রতিহতের জন্য মন্ত্রণালয়ে ২৫ দফা সুপারিশ করে দুদক। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রয়, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা হয়।

এসব উৎস বন্ধে দুদকের করা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- তথ্য বহুল সিটিজেন চার্টার প্রদর্শন, মালামাল রিসিভ কমিটিতে বিশেষজ্ঞ সংস্থার সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে ইজিপি টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি হাসপাতাল স্থাপন ও অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব স্থায়ী চিকিৎসক বা কর্মচারী ও কার্যনির্বাহী কমিটি ইত্যাদি রয়েছে কি-না এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলির নীতিমালা প্রণয়ন, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের নাম না লিখে জেনেরিক নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা; ইন্টার্নশিপ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা এবং বর্ধিত এক বছর উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে থাকা বাধ্যতামূলক করা, চিকিৎসকদের (সরকারি/বেসরকারি) পদোন্নতির জন্য সরকারি চাকুরেদের ক্ষেত্রে পিএসসি এবং বেসরকারিদের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং পিএসসির প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সুপারিশ দেওয়া যেতে পারে।

এ প্রতিবেদনের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, গত বছর কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এ প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হলে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি-অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

তিনি আর বলেন, যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কমিশন নির্মোহভাবে আইনি দায়িত্ব পালন করবে।