বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

অলিউল্লাহ ইমরান,বরগুনা

June 5, 2020, 10:47 p.m.

বরগুনা শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে
বরগুনা শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে
জোয়ারের তীব্র স্রোতে সৈকতের কোল ঘেঁষা ঝাউ গাছের নিচ থেকে বালু সরে যাওয়ায় ভেঙে গেছে তিন কিলোমিটার - ছবি: সংগৃহীত।


 জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র তলের উচ্চতা বাড়ায় উজার হচ্ছে বরগুনার তালতলী উপজেলার সম্ভাবনাময় ‘শুভ সন্ধ্যা’ সমুদ্র  সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনকারী ঝাউবন।  জোয়ারের তীব্র স্রোতে সৈকতের কোল ঘেঁষা ঝাউ গাছের নিচ থেকে বালু সরে যাওয়ায় ভেঙে গেছে তিন কিলোমিটার এলাকার ঝাউ সহ বিভিন্ন প্রজাতির  গাছ ।

সমুদ্র সৈকতের ঝাউগাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির  গাছ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার নলবুনিয়া একায় বিশাল বালুভূমিতে, একদিকে ঝাউবন, সাথে বঙ্গোপসাগর ও  তিন নদীর মোহনায়। প্রকৃতি প্রেমীরা হারিয়ে যায়। 

এখনে দাড়িয়ে উপভোগ করাযায় সুর্যাস্ত। 

জানা গেছে, ২০১৭ সালে সাবেক ইউএনও বদরুদ্দোজা শুভর নাম অনুসারে সৈকতটির নামকরণ করা হয়। শুভ সন্ধ্যা এরপর বেশি সময় লাগেনি এটা পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিতে। 

প্রতিবছর এখনে উপমহাদেশের সব চেয়ে বড় জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসব ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। তা ছাড়া প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে হাজারও পর্যটক আসতো । ইতোমধ্যেই পর্যটন এলাকার রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ভাঙনের কবলে পরেছে। 

শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত ঘুরে দেখা গেছে,ঘুর্ণিঝড় আমফানের করনে  ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এ সৈকতটির তা ছাড়া জোয়ারের পানির কারনে ঝাউ গাছের নিচ থেকে বালু সরে যাওয়ায় । সৈকত ঘেঁষা বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির শত শত গাছ  উপড়ে পড়ে আছে। এভাবে ভূমিক্ষয় অব্যাহত থাকলে এ পর্যটন এলাকা দ্রুত বিলুপ্ত হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে অপর দিকে পর্যটক শূন্য হয়ে যাবে সম্ভাবনাময় এই সৈকতটি।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদ-নদী-জলাশয় ভরাট, পানি দূষণ ও বৃক্ষ নিধনের কারণে বিষিয়ে উঠছে চারপাশের পরিবেশ। যা ত্বরান্বিত করছে জলবায়ুর পরিবর্তনকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেসব ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তার সিংহভাগ এড়ানো সম্ভব যদি মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সহযোগিতা করত, দায়িত্বশীল আচরণ করত। আমাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন অপরিকল্পিত আয়োজন আমাদেরই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। কাল বিলম্ব না করে তাই এখনি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। 

তালতলী রেঞ্জের বন কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি  বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা ও জোয়ারের স্রোতে ভাঙছে ঝাউ বাগান। বাধের বিষয়টি  পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের তাদের কাছে ভাংগন রোধে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তারা একটা ব্যবস্থা নিবেন।