রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭

ভোরের আলো

June 6, 2020, 10:36 p.m.

জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি থেকে বলছি: ডা. সুদীপ হালদার
জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি থেকে বলছি: ডা. সুদীপ হালদার
ডা. সুদিপ হালদারের ফেসবুক থেকে ছবি নেয়। - ছবি:

‘জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি থেকে বলছি’ এমন হৃদয় বিদারক কিছু কথা লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন শেরেবাংলা মেডিকেলের  অর্থোপেডিকস্ বিভাগের ডাক্তার সুদীপ হালদার। তিনি বরিশাল মেডিকেলে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের উপদ্রব শুরু থেকেই চিকিৎসা সেবায় নিবেদিতভাবে কাজকরে যাচ্ছে। 

ডাক্তার সুদীপ হালদারের ফেসবুক টাইম লাইনের লেখাটি সরাসরি ভোরের আলো আপনাদের সামনে প্রকাশ করলো।

‌‘জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি থেকে বলছি...
ঠিক বলা নয় অসহায় আর্তনাদ ..
বিবেকহীন বর্বরতার শিকার
ডাক্তার নার্স তথা স্বাস্হ্যকর্মীগন।
সকাল ৮ টা .. ফোনের ওপাশ থেকে ..
দাদা আপনার ইউনিটের এক রুগী ১১ দিন ধরে ভর্তি .. পালিয়ে এসেছে .. করোনা পজিটিভ ,নাম মামুন । যার বলিদান .. শের ই বাংলা মেডিকেল অর্থোপেডিকস ইউনিট ।
১ জন ডাক্তার ৭ জন নার্স ৩ জন রুগী পজিটিভ ।এতদিন সবাই মিলে সামনে থেকে সবধরনের রুগীদের তথা সাধারন মানুষকে সাহায্য করেছি। এখন ভয় লাগতেছে । আশেপাশের সবাইকেই পজিটিভ মনে হচ্ছে ,
কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না ।
সরকার দেশ বাঁচাতে লকডাউন খুলে দিয়েছে
আর জনগন খুলে ফেলেছে তাদের মাস্ক ।
যেই মেডিকেলে সবার জীবন বাঁচাতে আসার কথা .. সাধারন অসংক্রামক রুগীদের সেবা দেয়ার কথা .. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সরকারী দপ্তর এর অসহযোগিতার কারনে , তাদের নিরাপত্তার অজুহাতের কারনে ..
সব রুগী পরীক্ষার জন্য স্যাম্পেল দিতে মেডিকেলে ভীড় করতেছে , এদিক সেদিক মাস্কবিহীন ইচ্ছামত ঘুরাঘুরি করতেছে , কেউ কেউ দেরী হওয়ার জন্য আন্দোলনও করতেছে , একজন তো ল্যাব টেকনোলজিষ্ট বিভূতিকে মাইর দিতেও গেছে ! মেডিকেলের প্রতিটা ওয়ার্ডের কোন না কোন চিকিৎসাকর্মী পজিটিভ, পরিচালক স্যারের আশেপাশের ৬ জন ষ্টাফ পজিটিভ।আতংকিত এই জনপদে কিভাবে সম্ভব একজন সাধারন রুগীর চিকিৎসা দেয়া ।
এমনিতেই চরম চিকিৎসক সংকট , তারউপর করোনা মহামারি এবং জনগনের অসচেতনতা, স্বাভাবিক ভাবেই ব্যহত হচ্ছে দক্ষিন বাংলার মানুষের চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্হলের ..
সেবাদান কার্যক্রম ।
পরিচালক স্যার এবং প্রিন্সিপাল স্যারের নেতৃত্বে আমরা সহ যে সকল চিকিৎসকগন এখনও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন ..
তারা অতীব সাহসী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অসম্ভব রকমের ভালবাসা থেকে তার আহ্বানের প্রেক্ষিতে !
কিন্তু এভাবে কতদিন ?
দিনশেষে আমরাও মানুষ, আমাদেরও বাবা মা , ছোট ছোট সন্তান এবং পরিবার আছে । সবকিছু মিলিয়ে কিভাবে সম্ভব কোয়ালিটি সার্ভিস নিশ্চিত করা?
অতি দ্রুত জনগনকে সচেতন করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে ।
স্যাম্পল দিতে শুধু মেডিকেলে আসবেন না।
স্যাম্পল কালেকশন স্বাস্হ্যসেবার সাথে জড়িত সব প্রতিষ্ঠানের সবার করতে হবে এবং সবাই ই পারে ।
প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে যাবেন।
রুগীদের ভুলের জন্য অর্থোপেডিকস্ ইউনিট সীমিত আকারে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে ।
আমাদের তথা সকল স্বাস্হ্যকর্মীকে বাঁচিয়ে রাখুন , আপনার বাঁচার স্বার্থেই ,
কথা দিচ্ছি আমরা আছি , থাকব আপনাদের ভাল রাখার জন্য ।
ডা. সুদীপ হালদার
সভাপতি
ইনডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন
শেবাচিমহা ; বরিশাল ।’

উল্লেখ্য, শনিবার (০৬ জুন)  বরিশাল মেডিকেলের ডাক্তার  নার্সসহ ১১ জন আক্রান্ত হয়েছে তার পরপরই অর্থোপেডিকস্ বিভাগ লকডাউন।