সোমবার, ০৩ আগষ্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

অনলাইন ডেস্ক

July 1, 2020, 9:44 p.m.

স্বস্তি ফিরে এলেও আতঙ্ক কাটেনি রাজাবাজারে
স্বস্তি ফিরে এলেও আতঙ্ক কাটেনি রাজাবাজারে
রাজাবাজারে স্বস্তি ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি - ছবি:

রেডজোন চিহ্নিত রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় ২১ দিনের লকডাউন শেষ হয়েছে গতকাল মধ্যরাতে। কিন্তু এলাকাটি মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও শঙ্কা কাটেনি। লকডাউন শেষে বুধবার সকাল থেকে এলাকার প্রতিটি সড়কে মানুষের ভিড় বেড়েছে।


করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বারবার সামাজিক দূরত্বের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও, বুধবার বিকেলে পূর্ব রাজাবাজার থেকে যে পথটি গিয়ে ফার্মগেটের রাস্তায় উঠেছে, তার দু’ধারের দোকানপাটে প্রচুর মানুষের আনাগোনা দেখা গেছে। বিশেষ করে মুদি-মনোহারি দোকানে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে ফের বাইরের মানুষের আনাগোনা দেখে শঙ্কিত আমারা। যে লোকগুলো এই এলাকার বাইরে থাকে অথবা যে সব ভাড়াটিয়া বাড়ি থেকে আসবে এবং লকডাউনের কথা শুনে অন্যত্র কোথাও চলে গিয়েছিল তারা তো আজ থেকেই এলাকায় ঢুকতে শুরু করেছে। এই নতুন লোকগুলো করোনা নিয়ে আসছে কিনা সেদিকে নজর রাখাটা জরুরি বলে মনে করেন।

এছাড়া দীর্ঘদিনের লকডাউন শেষে অনেকেই স্বাস্থ্য বিধি মানছে না, তাদের বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করবে সেটাও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সব মিলিয়ে স্বস্তি ফিরলেও আতঙ্ক তো আর কাটছে না।

রাজাবাজার বাড়ির মালিক একরামুল টিপু বলেন, ২১ দিনের লকডাউনে অনেক কষ্টকর অভিজ্ঞতা আছে, অনেক অব্যবস্থাপনা ছিল সেগুলো বলতে চাই না। সামনে দিনগুলো নিয়েই বেশি চিন্তা। বিশেষ করে ভাসমান সবজি, মুরগি, ফল বিক্রেতারা বাইরে থেকে আসছে। এমনকি যারা বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেছিল তারাও আসছে। সবকিছু নির্ভর করবে লকডাউন পরবর্তী ব্যবস্থাপনা কী হয় তার উপর।

টঙ্গীর একটি গার্মেন্টসের ফ্লোর ইনচার্জ কবিরের সঙ্গে কথা হয় পূর্ব রাজাবাজারে। তিনি জানান, অনেক দিন পর লকডাউন না থাকায় সকালে টঙ্গী থেকে পূর্ব রাজাবাজার আসি এক আত্মীয়ের বাসায়। অনেক ভালো লাগছে। কিন্তু ভয় এখনো কাটেনি। রংপুর গ্রামের বাড়ি থেকে আমার পরিবার আসবে, কিন্তু ভয়ে আসতে পারছে না।

একই সুর মিলিয়ে রিকশা চালক রেজা বললেন, পূর্ব রাজাবাজারে অনেক দিন পর রিকশা চালাতে পারছি। যাত্রীও পাচ্ছি। এ এলাকায় লকডাউন থাকায় ঢুকতে পারি নাই ।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ৯ জুন থেকে পূর্ব রাজাবাজার ১৪ দিনের জন্য লকডাউন করে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে লকডাউন বাড়িয়ে ২১ দিন করা হয়। লকডাউনে বাসিন্দাদের চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এলাকায় প্রবেশের একটি গেট বাদে বাকিগুলো বন্ধ ছিল। শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ বিবেচনায় এলাকায় বসবাসরত মানুষকে এলাকা থেকে বের হতে অনুমতি দেয়া হয়।