সোমবার, ১৯ অক্টোবার ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

July 17, 2020, 3:49 p.m.

পটুয়াখালী ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন
পটুয়াখালী ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলন। - ছবি: ভোরের আলো।

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগগের সভাপতি হাসান শিকদারের বিরুদ্ধে জুলুম-অত্যাচার, মারধর-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী, ছিনতাই-ডাকাতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযেগ তুলে বরিশালে সংবাদ সম্মেল করেছেন অত্যাচার নির্যাতনের শিকার এক পরিবার। কিন্তু ওই অভিযোগ অস্বীকার কে ছেন ছাত্রলীগ নেতা হাসান শিকদার।

গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২ টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. ফজলুল হক খান। 
লিখিত বক্তব্যে মো. ফজলুল হক খান বলেন,  পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদার তার একমাত্র ছেলে মো: শামীম খানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিল্ডিং করার নামে বাকিতে ১০ লাখ টাকার মালামাল ও বিভিন্ন সময়ে ধার বাবদ নগদ অর্থ নেয়। বার বার বাকি ও ধারের টাকা চাইতে গেলে হাসান শিকদার ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীবাহিনী তার ছেলেকে হত্যার হুমকী দেয়। সর্বশেষ টাকা চাওয়ার কারণে গত ২৯ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটের সময় ছেলের মিলের মধ্যে বসতঘরে হাসান শিকদারের নেতৃত্বে জাহিদ, আবুল বাশার আরজু, শাকিল, বশির ও খোকাসহ বেশ কয়েকজন পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাতি করার উদ্দ্যেশে আসে। এসময় তার প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে একটি হার্ডডিক্স, একটি টিভিএস (আরটিআর-১৬০ সিসি) মডেলের মটরসাইকেল, দুইটি ব্লাঙ্ক চেক, আমার পূত্রবধূ (শামীমের স্ত্রী) নয় ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, আলমিরার ড্রয়ার ভেঙ্গে নগদ একলাখ ৬৮ হাজার নিয়ে যায়। যার ফুটেজ আরেকটি গোপন সিটিটিভির হার্ডডিক্সে ধারণ করা রয়েছে।

লিখিত বক্তবে তিনি আরো অভিযোগ করেন, ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় পটুয়াখালী সদর থানায় ভুক্তভোগী শামিম খান মামলা করতে গেলে পুলিশ নানা তালবাহানা করে। কয়েকমাস পর ডাকাতির ঘটনা বাদ দিয়ে শুধু চেক উদ্ধারের জন্য শামীমকে একটি মামলা দায়ের করতে বলেন পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ। এছাড়াও চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি হাসান শিকদার মো. ফজলুল হক খানের ছেলেকে পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে পটুয়াখালী সদর রেজ্রিস্ট্রি অফিসে নিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে একটি দলিল করে নেয়।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি হাসান শিকদার তার ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একা পেয়ে বেদরক মারধর করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয় এবং জোড় করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়। বিভিন্ন সময়ে তারা ফজলুল হক খানের গোটা পরিবারকে মারধর এবং হুমকি-দামকী দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। 

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে তিনি আরো অভিযোগ করেন, হাসান শিকদারের আপন বড়ভাই আব্দুর রব শিকদারের নামে একটি ভূয়া ভাড়াটিয়া চূক্তিপত্র তৈরি করে তার ছেলের ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জোড় করে দখল নিয়ে নেয়। এসব ঘটনা উল্লেখ করে হাসান শিকদারসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করে ছেলে শামীম খান। এরপর বিজ্ঞ আদালত হাসান শিকদার ও তাঁর সন্ত্রাসী ডাকাত বাহিনীর বিরুদ্ধে ৩৯৫ ধারায় ডাকাতি মামলার এজাহার গ্রহণপূর্বক পাঁচ দিনের মধ্যে বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করতে পটুয়াখালী সদর থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। 

এতে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৬ জুলাই থেকে কয়েক দিনের মধ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞ আদালতে তার ছেলে শামীম খান এবং শামীম খানের নাবালক দুটি ছেলে, নাবালক লালন-পালনকারী তাদের বোন জামাই যুবলীগ কর্মী মো: বাকিবিল্লাহ শিকদারকে আসামী করে চারটি মিথ্যা মামলা দায়ের  করে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সভাপতি হাসান শিকদারের বড়ভাই ও তার বাহিনীরা।

তিনি অভিযোগ করেন, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাসান শিকদারের বিরুদ্ধে বিগত ১০ বছরে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টি মামলা রয়েছে। হত্যা মামলা জি আর ৩২৭/১১ ছাড়াও দ্রুত বিচার ২০০২ /১৩, ১০৬/১৬ মামলার আসামী বলে উল্লেখ্য করেন। 

এবিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ জানান, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাসান শিকদারের বিরুদ্ধে শামীম খান বাদী হয়ে যে ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন তা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান শিকদার ভোরের আলোকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন। মূলতা তারা  আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং ছাত্রলীকে কলংকিত করার জন্যই ওই অভিযোগ করছে। ২০১৬ সাল থেকে আমি শামীমের ব্যবসায়ী পার্টনার। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ডাকাতি মামলা দিয়েছে। আমি তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির কারণে মামলা করেছি। আর আমি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করি। তাই আমার বিরুদ্ধে বেশকিছু মামলা ছিল। সব মামলায় আমি খালাস পেয়েছি।