সোমবার, ০৩ আগষ্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

অনলাইন ডেস্ক

July 28, 2020, 5:42 p.m.

যোগশাস্ত্রের -পবনমুক্তাসন
যোগশাস্ত্রের -পবনমুক্তাসন
পবনমুক্তাসন - ছবি: সংগৃহীত

এই আসনে পেটের বায়ু দূর হয়, পেটে বায়ু জমতে পারে না। এই আসনে হজমশক্তি বাড়ে। অজীর্ণ, অম্বল, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি পেটের অসুখে এই আসন খুবই উপকারী। হাঁপানি রোগে এই আসন অত্যন্ত ফলদায়ক।
পদ্ধতি: চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটো লম্বা করে সামনের দিকে ছড়িয়ে দিন। পায়ের আঙ্গুলগুলো বাইরের দিকে ফেরানো থাকবে। হাত দুটো থাকবে গায়ের সঙ্গে লেগে। এবার আস্তে আস্তে ডান পা হাঁটু থেকে ভেঙ্গে হাঁটুটা বুকের উপর তুলুন। হাঁটুর দু’ ইঞ্চি নিচে হাত দুটো এমনভাবে রাখুন যেন ডান হাতের চেটো বাঁ হাতের কনুইয়ের উপর আর বাম হাতের চেটো ডান হাতের কঁনুইয়ের উপর থাকে। যদি অসুবিধা হয় তাহলে এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে গলিয়ে দিয়ে হাঁটুর দু’ইঞ্চি নিচে রাখুন। এভাবে আস্তে আস্তে বুকের উপর চাপ প্রয়োগ করুন। এভাবে ৩০ সেকেন্ড অবস্থান করার পর একইভাবে বিপরীত পায়েও করতে হবে।
দু’পা করা শেষে আপনার একসেট হবে। এভাবে আপনাকে ৫-৮ সেট করতে হবে বা তার থেকেও আর বেশি করতে পারেন। হাঁটু যখন বুকে টেনে ধরবেন তখন মাথা সোজা রেখে চিবুক নামিয়ে বুকের কাছে আনবেন। বাঁ পায়ের গোড়ালি মাটিতে লেগে থাকবে, কিন্তু পা শক্ত হবে না একেবারে। গোটা মেরুদন্ড মাটি ছুঁয়ে থাকবে।এবার দু’পা একসঙ্গে হাঁটু থেকে ভেঙ্গে আসনটা করুন। ঐ ৩০ সেকেন্ড। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। তারপর পা দুটো নামিয়ে একেবারে সোজা করে দিন, হাত দুটোও সোজা করে দুপাশে গায়ে ঠেকিয়ে রাথুন। তার মানে, একেবারে প্রথম যেমন ছিলেন সেই অবস্থায় ফিরে আসুন। তারপর শবাসনে ৩০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিন। এরকম তিনবার করুন।
উপকারিতা: এই আসনে পেটের বায়ু দূর হয়, পেটে বায়ু জমতে পারে না। পেটে বায়ুর ক্ষেত্রে বেশি উপকার পাওয়া যায় এই আসন করার আগে যদি একটা টোটকা ওষুধ খান। আগের দিন সন্ধ্যায় এক গাস জলে চা-চামচ মৈারি, এক ইঞ্চি মতো একখন্ড চিরতা আর এক টুকরা মিছরি বা একটুখানি চিনি ভিজিয়ে রাখবেন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে গাসের জল ছেঁকে খালি পেটে খাবেন এবং তারপরেই এই আসন করবেন। অন্য সব আসন আপনার সুবিধামতো পরেও করতে পারেন। এই আসনে হজমশক্তি বাড়ে। অজীর্ণ, অম্বল, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি পেটের অসুখে এই আসন খুবই উপকারী। হাঁপানি রোগে এই আসন অত্যন্ত ফলদায়ক। ডায়াবিটিস আর লিভারের অসুখ সারাতেও এই আসন সাহায্য করে। এই আসনে পেটের চর্বি কমে এবং পেট, ঊরু আর নিতম্বের পেশি জোর বাড়ে, ঊরুসন্ধি নমনীয় হয়। পাকস্থলী, পীহা আর যকৃৎ অধিক কর্মক্ষম হয়।

সাবধানতা: এ আসনটি করার সময় অবশ্যই প্রথমে ডান পা তুলে করবেন। কারণ, যদি প্রথমে বাম পা তুলে করেন তাহলে পেটের মধ্যে কোলনে যে বায়ু জমে আছে তা বের না হয়ে অবরোহী কোলন থেকে আরোহী কোলনে প্রবেশ করবে। ফলে বায়ুর বহির্গমন হবে না। তাই প্রথমেই ডান পা তুলে করতে হবে। যাঁদের বয়স পঞ্চাশের উপর তাঁরা জোড়া পায়ে এই আসন করবেন না। যাঁরা গ্যাস্ট্রিক আলসার, হাই বাড প্রেশার বা হার্টের কোনো অসুখে ভুগছেন তাঁরা কেবল ডান পায়ে এই আসন করবেন আর যাঁরা ডিউওডিন্যাল আলসারের রোগী তাঁরা করবেন কেবল বাম পায়ে।