শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বার ২০২০, ৩ আশ্বিন ১৪২৭

সাইফুর রহমান মিরণ

Aug. 4, 2020, 11:59 p.m.

বঙ্গবন্ধু মানেই সোনার বাংলাদেশ
বঙ্গবন্ধু মানেই সোনার বাংলাদেশ
সম্পাদকীয় । - ছবি: ভোরের আলো।

একটি ডাকে এতগুলো প্রাণ দিয়েছে সাড়া, ভূমিকম্পের দত্যপুরীকে দিয়েছে নাড়া। হ্যা, মাত্র একটি ডাক। যে ডাক দিয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামন। কি ছিল সেই ডাক? কি এমন অমৃত বাণী ছিল সেই ডাকে। যে ডাক শুনে কোন বাঙালি আর ঘরে বসে থাকতে পারেনি? যে ডাক শুনে যার যা ছিল তাই নিয়ে পাকসেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ওই একটি ডাকের প্রতিধ্বনি আমাদের নয়মাস সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে মানচিত্র ও পতাকার মর্যাদা রক্ষা করতে সাহস যুগিয়েছে।

কালজয়ী সেই ডাকের ধ্বনি ৫৬ হাজার বর্গমাইল ছাড়িয়ে গোটা দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ডাক দিয়েছিলেন ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সাত কোটি বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তি সংগ্রামে। বঙ্গববন্ধুর ওই গগণবিদারী আহ্বানে তিনি গোটা জাতির অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন। জীবীত মুজিব যেমন বাঙালি জাতিকে সামনে চলার পথ দেখিয়ে গেছে, তেমনি মৃত মুজিব আমদের শক্তি যোগাচ্ছে। তাই আগস্ট মাস কেবল শোকের নয়, আগস্ট আমদের অনবদ্য এক শক্তির নাম।

আজ আগস্টের কথা উঠলেই আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে নানা স্মৃতি। যে স্মৃতি আমাদের নিয়ে যায় ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৮ পাকিস্তানের উর্দু চাপিয়ে দেওয়া, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১-এর মহান মুক্তি সংগ্রামের দিকে। এতো এতো ঘটনার সঙ্গে অনুঘটক যিনি তিনি হচ্ছেন আমাদের লাল-সবুজের বাংলাদেশের নির্মাতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাকে আমরা আমাদের মুক্তিদাতা হিসেবে বললেও ভুল হবে না। জাতির ক্রান্তিকালে যিনি দেশমাত্রিকার শৃঙ্খল মুক্ত করার জন্য যার যা আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই বাংলার কান্ডারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির সেই মুক্তিদাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট মধ্যরাতের পর মূল ষড়যন্ত্রকারী সেনাসদস্যরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যসহ আত্মীয়-স্বজনদেরও নির্মমভাবে হত্যা করে। 

৫৬ হাজার বর্গমাইলের আরেক নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আমাদের জাতির পিতা। যাঁর বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি বাঙালি। যাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের ৭ কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বাঙালি জাতির সেই ¯্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের আত্মার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটা আমাদের নাড়ির সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক যারা ছিন্ন করতে চেয়েছিল তারাই ১৫ আগস্টের নির্মমতা ঘটিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতেই ওই নির্মমতা ঘটানো হয়েছিল। কিন্তু বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে মুছে দিতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু মুজিব আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন। সেই স্পন্দন আজো সমানভাবে আন্দোলিত করেছে আমাদের। আমাদের আত্মার স্পন্দন এবং এই অস্তিত্ব ভোলানো যাবে না। যতদিন পদ্মা, মেঘনা গৌরী যমুনা থাকবে বহমান, ততোদিন বঙ্গবন্ধু থাকবে চির অম্লান।

বাঙালি জাতির গর্ব ও অহংকারের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি আমাদের পরাধীন পাকিস্তানের যাতাকল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। যিনি আমাদের জাতীয় পতাকা দিয়েছেন, দিয়েছেন জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ সেই অবিসংবাদিত নেতা, বাঙালি জাতির মহানয়ক বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

‘মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন জলে ভাসি।’ ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার কারণে বাংলা মায়ের মুখ মলিন হয়ে যায়। নীল আকাশ মুহূর্তে কালো আভায় ছেয়ে যায়। যারা জাতির পিতাকে হত্যা করতে পারে, তারা কখনোই স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ হতে পারে না। যারা পিতাকে হত্যা করতে পারে লাল-সবুজের মানচিত্রে তাদের ঠাঁই হতে পারে না। তাই, বলতে হয়, ‘ওরা এ দেশের নয়, দেশের ভাগ্য ওরা করে বিক্রয়....।’ এই নরপিশাচদের শাস্তি দিলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হবে না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে হলে কেবল শোক নয়, সেই সঙ্গে শক্তি সঞ্চয় করে ২০২১, ২০৪১ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। মুজিব বর্ষ এবং শোকের মাস আগস্ট যেন আমাদের সেই পথ দেখয়।