সোমবার, ১৯ অক্টোবার ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

Aug. 5, 2020, 11:17 p.m.

নৌপথে কর্মস্থলে ফেরা মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত
নৌপথে কর্মস্থলে ফেরা মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত
চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে রাজধানীর উদ্দেশ্যে ছুটছেন দক্ষিণের হাজার হাজার যাত্রী। - ছবি:

ঈদ-উল-আযহার পর বরিশাল থেকে কর্মস্থলে ফেরা মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। এব্যাপারে যাত্রীদের ওপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। আর স্বাস্থ্যবিধি মানতে নির্দেশনা দিয়ে দায়িত্ব শেস করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

করোনাকালীন ঈদে তেমন বেশি মানুষ গ্রামে আসেনি। তারমধ্যেও যারা এসেছিলেন পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে এখন তারা কর্মস্থলে ফিরছেন। সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ হওয়ায় বরাবরের মতো নৌপথে যাত্রীদের ভীড় বেশি। এ কারণে গাদাগাদি করে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে রাজধানীর উদ্দেশ্যে ছুটছেন দক্ষিণের হাজার হাজার যাত্রী। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই গন্তব্যে যাচ্ছেন তারা।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, স্বাস্থ্যবিধি মানার সকল ব্যবস্থা লঞ্চে থাকলেও যাত্রীরা গ্রহণ করছেন না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীবাহি লঞ্চে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার থেকে নৌ পথে রাজধানীমুখী যাত্রীদের চাপ কিছুটা বেড়েছে। গত বুধবার বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ১১টি যাত্রীবাহি নৌযান। গতকাল বৃহস্পতিবার, আজ শুক্রবার এবং আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে ঢাকামুখি যাত্রীদের ¯্রােত। শুক্রবার ঢাকাগামী লঞ্চে সর্বাধিক ভীড় হবে বলে ধারনা করছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এবার ভীড় না থাকলেও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হচ্ছে প্রতিটি লঞ্চে। গত গত দুই দিন ধরে বরিশাল নদী বন্দর থেকে যাত্রীঠাঁসা হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ২০টি বিলাসবহুল লঞ্চ।
গত দুইদিনে লঞ্চের বেশিরভাগ যাত্রীর ছিলো না কোন মাস্ক কিংবা শারীরিক দূরত্বের বালাই। লঞ্চগুলোতেও সুরক্ষা সামগ্রী কিংবা জীবানুনাশক ব্যবস্থা রয়েছে নামমাত্র। বাধ্য হয়েই এই পরিস্থিতিতে গন্তব্যে যাওয়ার কথা বলেছেন কর্মজীবী যাত্রীরা। সচেতন না হলে করোনা পরিস্থিতি থেকে বাঁচা যাবে না বলে জানান তারা। 

ঢাকা-বরিশাল রুটের এমভি এ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার সকল ব্যবস্থাই রয়েছে তাদের। কিন্তু ভীরের কারণে যাত্রীরা নিয়ম মানতে চায় না। হাতে জীবানুনাশক স্প্রে দিলে যাত্রীরা বিরক্ত হয়। দেশে যে করোনা ভাইরাস বলে কিছু একটা আছে যাত্রীরা কিছু মনেই করে না। পুলিশ পেটায়, জরিমানা করে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবরা তারপরও যাত্রীরা সতর্ক হয় না। পুলিশের কথাই শোনে না, আমাগো কথা যাত্রীরা কি শোনবে? 

একই রুটের এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চ কোম্পানীর কর্মকর্তা মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, তারা লঞ্চের মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করছেন। অনেকে অনুরোধ শুনছেন, অনেকে শুনছেন না। 
বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, লঞ্চ যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার এবং লঞ্চে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থাসহ যাত্রীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাস্টার, সুপারভাইজার ও মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

বরিশাল নদী বন্দর ছাড়াও ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, বরগুনা, হুলারহাট এবং মাদারীপুর সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুট থেকে প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে চলাচল করে যাত্রীবাহি শতাধিক লঞ্চ। সবগুলো রুটেই উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি।