শুক্রবার, ২৩ অক্টোবার ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭

অনলাইন ডেস্ক

Aug. 6, 2020, 6:33 p.m.

জেল-জরিমানা গ্রহণ করবো, নাকি মিউজিক ছেড়ে দেবো - হামিন আহমেদ
জেল-জরিমানা গ্রহণ করবো, নাকি মিউজিক ছেড়ে দেবো - হামিন আহমেদ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা - ছবি:

 


কপিরাইট সুরক্ষার নামে সম্প্রতি দেশের সংগীতশিল্পী, মিউজিক কোম্পানি, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও সার্ভিস প্রোভাইডারদের হয়রানির প্রতিবাদ জানালো সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন।
এদের মধ্যে আছে বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন (বামবা), মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইবি) ও বাংলাদেশ ফিল্ম প্রোডিউসার্স অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউটর্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফপিডিএ)।

অভিযুক্ত এক আইনজীবী ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আজ (৬ আগস্ট) বেলা ১২টায় রাজধানী একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজন করা হয় এই যৌথ সংবাদ সম্মেলন।
ওলোরা আফরিন নামের আইনজীবী ও তার প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সিং অ্যান্ড কালেক্টিং সোসাইটি ফর সিনেমাটোগ্রাফ ফিল্মের (এলসিএসসিএফ) করা মামলায় একজন ব্যান্ড তারকাকে জেলে যেতে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বামবার সভাপতি হামিন আহমেদ। অথচ সেই আইনজীবী বামবার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনও বোধ করেনি বলে জানান মাইলস ব্যান্ডের এই তারকা।

তিনি বলেন, ‘মাইলসের ৪০ বছর হয়েছে। এভাবে আরও যারা আছেন, তাদেরও দীর্ঘ ক্যারিয়ার। কিন্তু হঠাৎ বহিরাগতদের কারণে আমরা হয়রানি আর জেল-জরিমানার শিকার হচ্ছি। এখন এগুলো কি আমরা গ্রহণ করবো, নাকি মিউজিক ছেড়ে দেবো? এই প্রশ্নটাই আমাদের সবার মনে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইনজীবী বলে দাবি করা ওলোরা আফরিন তার লাইসেন্সিং অ্যান্ড কালেক্টিং সোসাইটি ফর সিনেমাটোগ্রাফ ফিল্ম নামের প্রতিষ্ঠানটি কপিরাইট দেখার অনুমতি (সিএমও) নিয়েছে। এবং কপিরাইট প্রশ্নে নানা ধরনের মামলা ও নোটিশ পাঠিয়ে যাচ্ছেন। অথচ এই প্রতিষ্ঠানে সিনেমাসংশ্লিষ্ট কেউ নাই। সেই আইনজীবী নিজেও সিনেমার সঙ্গে যুক্ত নন। তার দেওয়া ‘অবৈধ, অনৈতিক ও অস্বাস্থ্যকর’ প্রস্তাবে কেউ রাজি না হলেই তার বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠান সেই আইনজীবী। যার শিকার হন ইউটিউব কন্টেন্টের বাংলাদেশ অংশের দেখভাল করা কাইনেটিক নেটওয়ার্কের জুয়েল মোর্শেদ, নাফিস, জামশেদ ও সানজি। এমনকি কারাগারে যেতে হয় জামশেদকে।
মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইবি) প্রেসিডেন্ট এ কে এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সমস্যা আমরা সমাধান করবো। কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম প্রোডিউসার্স অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউটর্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফপিডিএ) সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘দ্রুত ওলোরা আফরিন ও তার প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সিং অ্যান্ড কালেক্টিং সোসাইটি ফর সিনেমাটোগ্রাফ ফিল্মকে দেওয়া কপিরাইট দেখভালের সিএমও বাতিল চাই। এটাকে বাতিল না করলে আমরা সম্মিলিতভাবে আইনি পদক্ষেপ নেবো।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এমআইবি’র মহাসচিব এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু, কাইনেটিক নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি ও সংগীতশিল্পী জুয়েল মোর্শেদ, চেনা সুরের স্বত্বাধিকারী ও গীতিকার হাসান মতিউর রহমান, ইবিএসের পরিচালক এনামুল হক, গীতিকার মনিরুজ্জামান মনিরসহ অনেকে। এতে জানানো হয়, এখন থেকে বামবা, এমআইবি ও বিএফপিডিএ একযোগে কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে ওলোরা আফরিনের ফোন কথোপকথনের রেকর্ড শোনানো হয়। যেখানে শোনা যায়, তিনি কথায় কথায় মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন শিল্পীদের।